Advertisement
ভূমিকা
আবুধাবিতে অনুষ্ঠিত তৃতীয় ওয়ানডে ম্যাচটি ক্রিকেট ভক্তদের জন্য ছিল এক অবিশ্বাস্য লড়াই। আফগানিস্তান অসাধারণ ব্যাটিং ও দুর্দান্ত বোলিংয়ের মাধ্যমে বাংলাদেশকে ২০০ রানে হারিয়ে ৩-০ ব্যবধানে সিরিজ জিতে নেয়। এটি শুধু আফগানিস্তানের সেরা দলীয় পারফরম্যান্সগুলির একটি নয় বরং তাদের আত্মবিশ্বাস ও ধারাবাহিক উন্নতিরও প্রমাণ।
আফগানিস্তানের দুর্দান্ত ব্যাটিং ২৯৩ রানের পাহাড়
আফগানিস্তান টস জিতে প্রথমে ব্যাটিং করার সিদ্ধান্ত নেয় এবং শুরু থেকেই দারুণ ভিত্তি গড়ে তোলে। ওপেনাররা ৯৯ রানের জুটি গড়ে দলকে শক্ত ভিত প্রদান করে।
Advertisement
| ব্যাটসম্যান | রান | বল | চার | ছয় |
|---|---|---|---|---|
| রহমতুল্লাহ গুরবাজ | ৪২ | ৫১ | ৪ | ১ |
| ইব্রাহিম জাদরান | ৯৫ | ১১১ | ৭ | ২ |
| মোহাম্মদ নবী | ৬২* | ৩৭ | ৬ | ৩ |
ইব্রাহিম জাদরান দুর্দান্ত ফর্মে ছিলেন এবং মাত্র পাঁচ রানের জন্য সেঞ্চুরি মিস করেন। শেষ ওভারগুলোতে মোহাম্মদ নবী বিধ্বংসী ব্যাটিং করেন এবং শেষ ওভারে তিনটি চার ও একটি ছক্কা মেরে ১৯ রান যোগ করেন।
Advertisement
মোট স্কোর আফগানিস্তান ২৯৩/৯ (৫০ ওভার)
Advertisement
বাংলাদেশের ব্যাটিং বিপর্যয় ৯৩ রানে অলআউট
২৯৪ রানের লক্ষ্যে খেলতে নেমে বাংলাদেশ শুরু থেকেই সমস্যায় পড়ে। ওপেনিং জুটি মাত্র ৩৫ রান তুলতে সক্ষম হয় এবং এরপর ধারাবাহিকভাবে উইকেট পড়তে থাকে।
| ব্যাটসম্যান | রান | বল | চার | ছয় |
|---|---|---|---|---|
| সাইফ হাসান | ৪৩ | ৫৪ | ২ | ৩ |
| অন্যান্য ব্যাটসম্যান | ব্যর্থ |
বাংলাদেশের কেউই দ্বিগুণ অঙ্কে পৌঁছাতে পারেননি। আফগানিস্তানের মোহাম্মদ নবী মুজিব উর রহমান ও ফারিদ আহমদ মিলে পুরো লাইনআপকে ভেঙে দেন। পুরো দল ৯৩ রানে অলআউট হয়। আফগানিস্তান ২০০ রানের বিশাল ব্যবধানে জয় পেয়ে সিরিজ ৩-০ তে জিতে নেয়।
Also read:শেখ হাসিনাকে বাংলাদেশে ফিরিয়ে আনার জন্য ইন্টারপোলের সঙ্গে আলোচনাগুলো
ম্যাচের গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্ত
| মুহূর্ত | বিবরণ |
|---|---|
| ওপেনিং পার্টনারশিপ | গুরবাজ ও জাদরানের ৯৯ রানের জুটি |
| জাদরানের রান আউট | ম্যাচের টার্নিং পয়েন্ট |
| নবীর ঝড়ো ব্যাটিং | শেষ দুই ওভারে ৩৮ রান |
| বাংলাদেশের ব্যাটিং ধস | ৩৫ রানের পর টানা উইকেট পতন |
আফগানিস্তানের জয়ের কারণ
দলটি দুর্দান্ত পরিকল্পনা ও প্রস্তুতি নিয়ে খেলেছে এবং বাংলাদেশের দুর্বল মিডল অর্ডারকে লক্ষ্য করেছে। প্রতিটি খেলোয়াড় দায়িত্বশীলভাবে পারফর্ম করেছে। মোহাম্মদ নবীর নেতৃত্ব ও অভিজ্ঞতা বড় ভূমিকা রেখেছে। আফগান ফিল্ডিং ছিল নিখুঁত যেখানে বাংলাদেশ একাধিক সুযোগ নষ্ট করেছে।
সিরিজের সামগ্রিক পারফরম্যান্স
| খেলোয়াড় | রান | উইকেট | উল্লেখযোগ্য পারফরম্যান্স |
|---|---|---|---|
| ইব্রাহিম জাদরান | ২৬৭ | – | দুটি ম্যাচে ৯৫ রান |
| মোহাম্মদ নবী | ১০২ | ৫ | এক ম্যাচে অলরাউন্ড পারফরম্যান্স |
| মুজিব উর রহমান | – | ৮ | সর্বাধিক উইকেট |
বিশেষজ্ঞদের মতামত
ক্রিকেট বিশ্লেষকদের মতে এই জয় এশিয়া কাপ ও বিশ্বকাপের আগে আফগানিস্তানের জন্য এক ইতিবাচক বার্তা। তাদের তরুণ দল এখন ধারাবাহিকভাবে ভালো পারফর্ম করছে। অন্যদিকে বাংলাদেশকে ব্যাটিং অর্ডার ও স্পিন আক্রমণে পরিবর্তন আনতে হবে।
বাংলাদেশের পরবর্তী পরিকল্পনা
বাংলাদেশ দলের কোচদের মতে দলের মানসিক দৃঢ়তা বাড়ানো দরকার। অধিনায়ক নাজমুল শান্ত স্বীকার করেছেন যে পাওয়ারপ্লেতে দ্রুত উইকেট হারানো এবং মিডল ওভারে চাপ সামলাতে না পারাই দলের পরাজয়ের প্রধান কারণ।
উপসংহার
আফগানিস্তানের এই জয় শুধু একটি ম্যাচ জয় নয় বরং এশিয়ান ক্রিকেটে এক নতুন যুগের সূচনা। মোহাম্মদ নবী ইব্রাহিম জাদরান ও মুজিব উর রহমান এখন বিশ্বমানের খেলোয়াড়। বাংলাদেশকে ভবিষ্যতের চ্যালেঞ্জের জন্য তাদের ব্যাটিং লাইনআপকে শক্তিশালী করতে কঠিন সিদ্ধান্ত নিতে হবে।
