Advertisement
ভূমিকা যখন বাস্তবতা সিনেমার চেয়েও নাটকীয়
বলিউড এবং টলিউডের জগতে প্রেম, বিয়ে এবং বিচ্ছেদের গল্প নতুন নয়। কিন্তু কিছু অভিনেত্রীর বাস্তব জীবন সিনেমার থেকেও বেশি নাটকীয়। ভারতের শ্রাবন্তী চট্টোপাধ্যায়ের মতো পাকিস্তানের এক তারকাও চারটি বিয়ে এবং অসাধারণ ক্যারিয়ারের জন্য আলোচনায় এসেছিলেন। তিনি হলেন সেই বিখ্যাত অভিনেত্রী জেবা বখতিয়ার যিনি ভারতের সিনেমা “হেনা”র নায়িকা হিসেবে আজও স্মরণীয়।
জেবা বখতিয়ার কে
১৯৯০–এর দশকের শুরুতে জেবা বখতিয়ার পাকিস্তানের জনপ্রিয় অভিনেত্রী ও পরিচালক হিসেবে পরিচিতি পান। তাঁর প্রথম টিভি নাটক ছিল “আনহোনি” তবে বিশ্বব্যাপী তিনি পরিচিতি পান রাজ কাপুরের বলিউড সিনেমা “হেনা”তে ঋষি কপূরের বিপরীতে অভিনয় করে। সেই সময়ে একজন পাকিস্তানি অভিনেত্রীর জন্য বলিউড সিনেমার প্রধান চরিত্রে অভিনয় করা প্রায় অসম্ভব ছিল কিন্তু জেবা সেই সীমা ভেঙে ইতিহাস গড়েন।
Advertisement
জেবা বখতিয়ারের বিবাহের গল্প
| ক্রম | স্বামীর নাম | বছর | সম্পর্কের বিবরণ |
|---|---|---|---|
| ১ | সালমান গিলানি | ১৯৮২ | পাকিস্তানি ব্যবসায়ীর সঙ্গে প্রথম বিয়ে, কিছুদিন পরেই বিচ্ছেদ |
| ২ | জাভেদ জাফরি | ১৯৮৯ | বলিউডে খ্যাতি পাওয়ার পর বিয়ে, দুই বছর পর ১৯৯১ সালে বিচ্ছেদ |
| ৩ | আদনান সামি | ১৯৯৩ | খ্যাতনামা গায়কের সঙ্গে বিয়ে, চার বছর স্থায়ী হয়, পুত্র আজান সামি খান বর্তমানে সঙ্গীত জগতে পরিচিত |
| ৪ | সোহেল খান | ২০০৮ | বহু বছর পর চতুর্থ বিয়ে, এখন পাকিস্তানে স্থিতিশীল জীবনযাপন করছেন |
বলিউডে জেবা বখতিয়ারের যাত্রা
১৯৯১ সালের রাজ কাপুর প্রযোজিত সিনেমা “হেনা” তাঁকে বলিউডে জনপ্রিয়তা এনে দেয়। হেনা চরিত্রে এক কাশ্মিরি তরুণীর ভূমিকায় তাঁর অভিনয় ভারতজুড়ে দর্শকের হৃদয় জয় করে। সিনেমাটি বক্স অফিসে সফল হয় এবং জেবা ফিল্মফেয়ার শ্রেষ্ঠ নবাগত অভিনেত্রী পুরস্কারের জন্য মনোনীত হন। তাঁর কোমল অভিব্যক্তি, সরলতা এবং সৌন্দর্য তাঁকে ভারতের সবচেয়ে জনপ্রিয় পাকিস্তানি অভিনেত্রী করে তোলে।
Advertisement
পাকিস্তানে তাঁর কাজ
জেবা বখতিয়ার পাকিস্তানেও একাধিক সফল নাটক ও সিনেমায় কাজ করেছেন।
Advertisement
| জনপ্রিয় প্রজেক্ট | মাধ্যম |
|---|---|
| চিফ সাহিব | চলচ্চিত্র |
| বাহু বেগম | টেলিভিশন |
| লাহোর সে আগে | চলচ্চিত্র |
| ইন্টারন্যাশনাল | চলচ্চিত্র |
তিনি পরিচালক হিসেবেও কাজ করেছেন এবং “বাবু” সিনেমার মাধ্যমে সৃজনশীল প্রতিভা প্রদর্শন করেছেন। বর্তমানে তিনি প্রযোজনা এবং সামাজিক কাজে মনোযোগ দিচ্ছেন।
বিশ্লেষণ জেবা বখতিয়ার ও শ্রাবন্তী চট্টোপাধ্যায়ের তুলনা
| দিক | জেবা বখতিয়ার | শ্রাবন্তী চট্টোপাধ্যায় |
|---|---|---|
| বিবাহের সংখ্যা | ৪ | ৩ |
| চলচ্চিত্রে আত্মপ্রকাশ | ১৯৮০–এর দশক | ২০০০–এর দশক |
| বিখ্যাত চলচ্চিত্র | হেনা (১৯৯১) | চ্যাম্প |
| জনপ্রিয়তা | ভারত ও পাকিস্তান | বাংলাদেশ ও ভারত |
| বর্তমান কাজ | সামাজিক ও প্রযোজনা কার্যক্রম | চলচ্চিত্র ও সামাজিক মাধ্যম |
এই তুলনা প্রমাণ করে যে জেবা বখতিয়ার শুধু পাকিস্তান নয় আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রেও প্রভাব ফেলেছেন। তাঁর ব্যক্তিগত জীবনে উত্থান–পতন থাকলেও তাঁর শিল্পীজীবন স্থিতিশীল ও সম্মানজনক থেকেছে।
Also read:বাংলাদেশ ২০০ রানে পরাজিত আফগানিস্তানের দুর্দান্ত হোয়াইটওয়াশ জয়
তথ্যসূত্র
| তথ্য | বিবরণ |
|---|---|
| প্রথম পাকিস্তানি নারী যিনি বলিউডে প্রধান চরিত্রে অভিনয় করেন | হেনা (১৯৯১) |
| জন্মস্থান | বেলুচিস্তান |
| পিতা | ইয়াহইয়া বখতিয়ার, বিশিষ্ট আইনজীবী ও রাজনীতিবিদ |
| পুত্র | আজান সামি খান, পাকিস্তানের উদীয়মান পপ সঙ্গীতশিল্পী |
উপসংহার
জেবা বখতিয়ারের জীবন কাহিনি প্রমাণ করে যে বাস্তবতা অনেক সময় সিনেমার চেয়েও বেশি রঙিন। চারটি বিয়ে, বলিউডে সাফল্য এবং পাকিস্তানে দীর্ঘ ক্যারিয়ার তাঁকে দক্ষিণ এশিয়ার এক অনন্য ব্যক্তিত্বে পরিণত করেছে।
