Advertisement
যখন এক সেঞ্চুরি ও এক হাফ-সেঞ্চুরি সবকিছু পাল্টে দেয়
অস্ট্রেলিয়ার বিরুদ্ধে প্রথম একদিনের আন্তর্জাতিক (ODI) খেলার পর সমালোচকরা হাসছিলেন, অনেকেই ধরে নিয়েছিলেন যে টিম ইন্ডিয়ার সিরিজটি হয়তো ৩–০ ব্যবধানে হারে শেষ হবে। প্রথম ম্যাচে দুই তারকা—রোহিত শর্মা এবং বিরাট কোহলি—উভয়েই ব্যর্থ হয়েছিলেন। পরের খেলায় রোহিত রানে ফিরেছিলেন, কিন্তু বিরাট শূন্য রানে আউট হন। তবে, শেষ ম্যাচে ‘রো–কো‘ জুটি ঘুরে দাঁড়াল। তাদের ব্যাট থেকে এলো এক সেঞ্চুরি এবং এক হাফ–সেঞ্চুরি। এই চমকপ্রদ পার্টনারশিপ শুধু অস্ট্রেলিয়াকে পরাজিতই করল না, ভারতকে হোয়াইটওয়াশ (বাংলায়: চুনকাম) হওয়া থেকেও বাঁচাল। গৌতম গম্ভীরের দল রোহিত-কোহলি জুটির সৌজন্যে ক্লিন সুইপ হওয়া এড়াল।
এই জয় শুধু পয়েন্টের খাতায় দুটি সংখ্যা যোগ করেনি; এটি ভারতীয় দলের ড্রেসিং রুমের পরিবেশ পুরোপুরি বদলে দিয়েছে। এই ঐতিহাসিক জুটি সম্পর্কে কোচ গৌতম গম্ভীর কী বললেন? এই জয় গম্ভীরকে কীভাবে স্বস্তি এনে দিল? চলুন জেনে নেওয়া যাক বিস্তারিত।
Advertisement
কোচ গম্ভীরের ‘রো-কো’ প্রশংসা: বিসিসিআই ভিডিওতে কী বললেন তিনি?
সিরিজটি ভারত ১–২ ব্যবধানে হারলেও, ফাইনাল ওডিআই-এর জয় সিরিজ হারের হতাশাটিকে অনেকটাই আড়াল করেছে। বিসিসিআই-এর পোস্ট করা একটি ভিডিওতে কোচ গৌতম গম্ভীর দলের পারফরম্যান্স নিয়ে কথা বলেছেন। গম্ভীর স্পষ্টভাবে বললেন:
Advertisement
“শুভমান (গিল) এবং রোহিতের মধ্যেকার পার্টনারশিপ দলের জন্য খুব গুরুত্বপূর্ণ ছিল। তখন আমরা কোনো উইকেট না হারিয়ে ৬০ রানে ছিলাম।”
Advertisement
“এবং তারপর, রোহিত–বিরাটের জুটিটি ছিল অসাধারণ।”
“রোহিতের সেঞ্চুরির জন্য বিশেষ উল্লেখ করতে হবে। সবচেয়ে বড় বিষয় হলো যে আপনি ম্যাচটি শেষ করে এসেছেন।”
“এই প্রসঙ্গে, বিরাটেরও একটি উল্লেখ প্রাপ্য।”
সিরিজের ‘ইমপ্যাক্ট প্লেয়ার‘: রোহিত শর্মা
এই সিরিজে সর্বোচ্চ রান সংগ্রাহক হওয়ায় রোহিত শর্মা ভারতীয় দলের ‘ইমপ্যাক্ট প্লেয়ার‘ পুরস্কারও জিতেছেন। এই সেঞ্চুরিই তাকে এই খেতাব এনে দিয়েছে।
হোয়াইটওয়াশ থেকে স্বস্তি: এই জয় থেকে গম্ভীর কী পেলেন?
আকর্ষণীয়ভাবে, রোহিত-কোহলির এই উজ্জ্বল প্রত্যাবর্তনের ফলে গম্ভীরের ‘ব্যর্থতা’ অনেকটাই ঢাকা পড়ে গেছে। যদিও সিরিজের ফলাফল ছিল ১-২, তবুও এই জয় টিম ইন্ডিয়াকে ক্লিন সুইপ (৩-০ হোয়াইটওয়াশ) এড়াতে সাহায্য করেছে। কোচ গম্ভীর আরও যোগ করেন, “দলের জন্য সবচেয়ে বড় শিক্ষা হল যে রোহিত এবং বিরাট অপরাজিত থেকে ম্যাচটি শেষ করেছে। রান তাড়া করায় আমরা কতটা ভালো, তা প্রমাণ করেছি।“
Also Read:নাসিরুদ্দিন পাটওয়ারীর বিবৃতি: জুলাই সনদের বাস্তবায়নে এনসিপির গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা
ক্রিকেট বিশেষজ্ঞদের মতে, এখন গম্ভীরের অধীনে একাধিক সিরিজ হারের চেয়ে ‘রো-কো’র রেকর্ড এবং শেষ ম্যাচে দলের সফলভাবে রান তাড়া করার ক্ষমতার উপরই বেশি মনোযোগ দেওয়া হচ্ছে। সংক্ষেপে, রোহিত-কোহলি জুটির সৌজন্যে গম্ভীরের দল ক্লিন সুইপ এড়াল এবং কোচ স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেললেন।
গম্ভীর কি সত্যিই চাপে ছিলেন? (প্রায়শই জিজ্ঞাসিত প্রশ্ন)
প্রশ্ন: ১-২ সিরিজের ফলাফল সত্ত্বেও গম্ভীর এত খুশি কেন?
উত্তর: কোচ গৌতম গম্ভীর মূলত খুশি কারণ তার দল শেষ ম্যাচে জিতেছে, হোয়াইটওয়াশ (চুনকাম) এড়িয়েছে, এবং রান তাড়া করায় তাদের সক্ষমতা প্রমাণ করেছে।
প্রশ্ন: ‘রো-কো’ বলতে কাদের বোঝানো হয়েছে?
উত্তর: ‘রো-কো’ হলো রোহিত শর্মা এবং বিরাট কোহলির জনপ্রিয় সংক্ষিপ্ত নাম।
প্রশ্ন: এই ম্যাচ জয়ের সিরিজে কী প্রভাব ছিল?
উত্তর: যদিও অস্ট্রেলিয়া সিরিজ জিতেছে, তবে ভারত ১-২ ব্যবধানে সিরিজ শেষ করে তাদের সম্মান বাঁচিয়েছে।
(কথাবার্তা শেষ)
রোহিত–কোহলি জুটির সৌজন্যে গম্ভীরের দল ক্লিন সুইপ এড়াল—এই জয় নিঃসন্দেহে দলের মনোবল বাড়িয়েছে। বিশেষ করে বিশ্বকাপের আগে, এই ধরনের প্রত্যাবর্তনের পার্টনারশিপ প্রমাণ করে যে কেন এই দুই তারকাকে বিশ্বের সেরা ব্যাটসম্যানদের মধ্যে গণ্য করা হয়। আলোচনা এখন সিরিজ হারের থেকে জয় এবং পার্টনারশিপের দিকে সরে আসায় গম্ভীরও স্বস্তিতে আছেন।
