Advertisement
ভূমিকা
২০১০ সালের চলচ্চিত্র দবং পরিচালনা করেছিলেন অভিনব কাশ্যপ। মুখ্য চরিত্রে ছিলেন সলমন খান, খলনায়ক হিসেবে ছিলেন সোনু সুদ, এবং সলমনের বিপরীতে ছিলেন সোনাক্ষী সিনহা। তবে ছবির সবচেয়ে আলোচিত অংশ ছিল “মুন্নি বদনাম হুই” গানটি, যেখানে মালাইকা অরোরার নাচ দর্শকদের মন জয় করেছিল।
সম্প্রতি পরিচালক অভিনব কাশ্যপ একটি সাক্ষাৎকারে এই গানের পেছনের চমকপ্রদ তথ্য উন্মোচন করেছেন, যা দেখিয়েছে খান পরিবার এবং মালাইকা অরোরার মধ্যে মতবিরোধ।
Advertisement
মালাইকা অরোরা এবং “মুন্নি বদনাম হুই”
প্রাথমিকভাবে মালাইকা অরোরাকে গানটির জন্য নির্বাচিত করা হয়নি।
Advertisement
সলমন এবং আরবাজ দুজনই চাননি মালাইকা গানটি করুক, কারণ তারা ভয় পেয়েছিলেন যে তাকে “আইটেম গার্ল” লেবেল লাগতে পারে।
Advertisement
অভিনব কাশ্যপ বলেন:
“সলমন এবং আরবাজ দুজনেই খুবই রক্ষণশীল মুসলিম। তারা মালাইকার পোশাক এবং পারফরম্যান্স নিয়ে সমস্যা অনুভব করেছিলেন। তারা চাইতেন না, পরিবারের মহিলারা প্রকাশ্যে নিজেদের দেখাক।”
মালাইকার দৃঢ় মনোভাব
মালাইকা ছিলেন স্বাধীনচেতা এবং দৃঢ়, তার সিদ্ধান্তে অটল।
গানটির ভিডিও প্রস্তাব পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই তিনি রাজি হন, যদিও আরবাজকে বোঝাতে কিছুটা সময় লেগেছিল।
কাশ্যপের মতে, মালাইকা বলেছেন যে এটি কোনো অশ্লীলতা নয়, কেবল নাচ, এবং শুটিং পরিবেশ পুরোপুরি পরিবারের জন্য উপযুক্ত ছিল।
সলমন খানের শুটিংয়ে অংশগ্রহণ
প্রথমে গানটিতে সলমন ছিলেন না, তবে পরে তিনি যোগ দেন।
গানের জনপ্রিয়তা এবং সম্ভাবনা দেখে সলমন নিজেই শুটিংয়ে অংশগ্রহণ করেন, এবং সিকোয়েন্সটি নতুনভাবে সাজানো হয় যাতে সলমন, সোনু সুদ এবং মালাইকা একসাথে থাকে।
ফলাফল: গানটি সমস্ত রেকর্ড ভেঙে দেয় এবং ছবির ব্লকবাস্টার সাফল্যের একটি মূল কারণ হয়ে ওঠে।
খান পরিবারের প্রতিক্রিয়া
আর্বাজ খান প্রাথমিকভাবে আপত্তি জানিয়েছিলেন, কারণ মালাইকা তখন তার স্ত্রী ছিলেন।
তারা ১৯৯৮ সালে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হন এবং ২০০২ সালে তাদের ছেলে আরহান জন্মগ্রহণ করেন।
১৮ বছরের দাম্পত্যের পর তারা ২০১৬ সালে আলাদা হন এবং ২০১৭ সালে বিবাহবিচ্ছেদ ঘটে।
বর্তমানে আরবাজ বিবাহিত জর্জিয়া খানের সঙ্গে, অন্যদিকে মালাইকা এবং আরবাজ তাদের ছেলে আরহানের কো-প্যারেন্টিং চালিয়ে যাচ্ছেন।
হিন্দি সিনেমার ইতিহাসে ‘দবং’
দবং শুধু ব্লকবাস্টার ছিল না; এটি হিন্দি সিনেমার নৃত্যচিত্রে নতুন ধারা স্থাপন করেছিল।
“মুন্নি বদনাম হুই” গানটি চার্টবাস্টার হয়ে ওঠে।
সলমন, মালাইকা এবং সোনু সুদের সংমিশ্রণ দর্শকদের মুগ্ধ করে।
পরিচালকের কৌশল এবং অভিনেতাদের মনোভাব গানটির সাফল্যে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে।
Also Read:ডাকসু নির্বাচন উত্তেজনা: সরকার বিএনপি ও জামাতের সঙ্গে কি আলোচনা করছে
মালাইকার শক্তিশালী চরিত্রের গুরুত্ব
মালাইকা ছিলেন স্বাধীন এবং স্বনির্ভর।
তিনি নিজের শর্তে গানটি করার জন্য রাজি হন, যা পরে ছবির সাফল্য নিশ্চিত করে।
কাশ্যপের মতে, মালাইকার আত্মবিশ্বাস এবং পেশাদার মনোভাব এই প্রজেক্টকে স্মরণীয় করে তোলে।
সলমন এবং আরবাজের জেদ ও পারিবারিক মূল্যবোধ
পরিচালক স্পষ্ট করেছেন, সলমন এবং আরবাজ দুজনই প্রথাগত এবং পারিবারিক মানদণ্ড মেনে চলার চেষ্টা করেছিলেন।
তারা চেয়েছিলেন পরিবারের মহিলারা অযথা শরীর প্রকাশ না করুক।
মালাইকা এই বাধা অতিক্রম করে তার পেশাদার দায়িত্ব সাহসিকতার সঙ্গে পালন করেছেন।
পাঠকের জন্য ফোকাস
বিখ্যাত গান এবং চলচ্চিত্রের ইতিহাস জানা গুরুত্বপূর্ণ।
পরিচালকের মুখে আসা চমকপ্রদ তথ্য চলচ্চিত্র প্রেমীদের নতুন দৃষ্টিভঙ্গি দেয়।
অভিনেতাদের পেশাদার সিদ্ধান্ত এবং ব্যক্তিগত জীবন চলচ্চিত্র নির্মাণে প্রভাব ফেলে।
প্রায়শই জিজ্ঞাসিত প্রশ্ন (FAQ)
প্রশ্ন: কেন সলমন এবং আরবাজ চাননি মালাইকা গানটি করুক?
উত্তর: তারা চাননি তাকে “আইটেম গার্ল” লেবেল লাগুক।
প্রশ্ন: মালাইকা কি গানটি করেছেন?
উত্তর: হ্যাঁ, তিনি রাজি হন এবং তার স্বাধীনচেতা মনোভাব প্রদর্শন করেন।
প্রশ্ন: গানটি কতটা জনপ্রিয় হয়েছে?
উত্তর: “মুন্নি বদনাম হুই” সমস্ত রেকর্ড ভেঙেছে এবং দর্শকদের মনে দাগ কেটেছে।
উপসংহার
চলচ্চিত্র দবং এবং গান “মুন্নি বদনাম হুই” কেবল ব্লকবাস্টার নয়, হিন্দি সিনেমার ইতিহাসে একটি স্মরণীয় অধ্যায়।
মালাইকার সাহস, সলমন ও আরবাজের মনোভাব এবং অভিনব কাশ্যপের পরিচালনা এটি তৈরি করতে সহায়ক হয়েছে।
আজও সিনেমাপ্রেমীরা গানটির নাচের উচ্ছ্বাস এবং খান পরিবারের নাটকীয় ইতিহাস স্মরণ করেন।
