Advertisement
বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ উন্মোচিত
হাঁটা হলো সবচেয়ে সহজ এবং কার্যকর শারীরিক ব্যায়াম, যা শরীর ও মন উভয়ের জন্যই সমানভাবে উপকারী। নিয়মিত হাঁটা হৃদযন্ত্রের স্বাস্থ্য, হাড়ের দৃঢ়তা, পেশীর অবস্থা এবং মানসিক সুস্থতা উন্নত করে। ডাক্তাররা সাধারণত দৈনন্দিন রুটিনে হাঁটা অন্তর্ভুক্ত করার পরামর্শ দেন।
তবে, একটি সাধারণ ধারণা আছে যে যেকোনো ধরনের হাঁটাতেই উপকার পাওয়া যায়। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনেকেই হাঁটার সঠিক নিয়মকানুন মেনে চলেন না—যেমন ভুল অঙ্গবিন্যাস (পোস্টারে) হাঁটা, অনিয়মিত সময়ে হাঁটা, বা হাঁটার সেশন শেষ করার পর শরীরকে বিশ্রাম না দেওয়া। এই ভুলগুলো উপকারের বদলে স্বাস্থ্যের জন্য ঝুঁকি বয়ে আনতে পারে।
Advertisement
এই নিবন্ধে আমরা ভুল হাঁটার পদ্ধতির কারণে সৃষ্ট বিশেষ স্বাস্থ্য ঝুঁকিগুলো নিয়ে আলোচনা করব এবং কীভাবে আপনি এই ভুলগুলো সহজেই সংশোধন করে আপনার হাঁটার সেশনকে স্বাস্থ্যকর ও ফলপ্রসূ করতে পারেন, তা জানাব।
Advertisement
ভুলভাবে হাঁটার ৫টি প্রধান স্বাস্থ্য ঝুঁকি
ভুল কৌশল নিয়ে হাঁটলে সামান্য ক্লান্তি ছাড়াও হাড়, গাঁট এবং পেশীর উপর দীর্ঘমেয়াদী মারাত্মক সমস্যা সৃষ্টি হতে পারে। এখানে পাঁচটি প্রধান নেতিবাচক প্রভাব উল্লেখ করা হলো:
Advertisement
ভুল অঙ্গবিন্যাসের কারণে মেরুদণ্ড ও কোমরে ব্যথা
ভুল অঙ্গবিন্যাস বা পোস্টারের কারণে শারীরিক সমস্যার সৃষ্টি হয়। অনেকে ঝুঁকে বা সামনের দিকে হেলে হাঁটেন।
ক্ষতি: এই ত্রুটিপূর্ণ ভঙ্গিমার কারণে কোমরের নিচের অংশে এবং মেরুদণ্ডে সরাসরি চাপ সৃষ্টি হ
ফলাফল: এর ফলে অসহনীয় কোমরের ব্যথা, পেশীতে টান লাগা এবং সময়ের সাথে সাথে হাঁটু ক্ষয় (নিচের দিকে যাওয়া) হতে পারে।
সঠিক উপায়: হাঁটার সময় মাথা সোজা রাখুন, চিবুক যেন মাটির সাথে সমান্তরাল থাকে, এবং বুক টানটান রেখে কাঁধ শিথিল করে হাঁটুন।
অনিয়মিত হাঁটার কারণে ক্লান্তি ও অবসাদ
অনেকেই সপ্তাহে মাত্র একবার দীর্ঘ সময় হাঁটেন এবং বাকি দিনগুলোতে একেবারেই হাঁটেন না। এই অনিয়ম শরীরের স্বাভাবিক ছন্দ ব্যাহত করে।
ক্ষতি: এটি শরীরের রক্ত সঞ্চালন এবং বিপাকীয় প্রক্রিয়াকে ব্যাহত করে।
ফলাফল: এর ফলে ক্লান্তি ও আলস্য বাড়ে। পেশীগুলো সঠিক উদ্দীপনা পায় না, ফলে হাঁটার উপকারিতা কমে যায়।
সঠিক উপায়: প্রতিদিন অন্তত ৩০ মিনিট হাঁটার লক্ষ্য রাখুন। যদি তা সম্ভব না হয়, তবে সপ্তাহে কমপক্ষে ৫ দিন একই সময়ে হাঁটার চেষ্টা করুন।
অতিরিক্ত গরমে বা রোদে হাঁটার কারণে পানিশূন্যতা
অতিরিক্ত গরম বা তীব্র রোদে হাঁটা স্বাস্থ্যের জন্য বিপজ্জনক হতে পারে।
ক্ষতি: অতিরিক্ত ঘামের কারণে শরীর থেকে শুধু জলই নয়, সোডিয়াম ও পটাসিয়ামের মতো প্রয়োজনীয় লবণ ও খনিজ পদার্থও বেরিয়ে যায়, যা পানিশূন্যতার দিকে নিয়ে যায়।
ফলাফল: এর ফলে মাথা ঘোরা, দুর্বলতা এবং হঠাৎ রক্তচাপ কমে যাওয়ার ঝুঁকি বাড়ে।
সঠিক উপায়: সকালের প্রথম দিকে বা সন্ধ্যার শেষের দিকে যখন আবহাওয়া শীতল থাকে, তখন হাঁটার জন্য যান। হাঁটার আগে এবং হাঁটার সময় পর্যাপ্ত পরিমাণে জল পান করুন।
হাঁটার পরপরই বিশ্রাম বা খাওয়া
অনেকেই হাঁটা শেষ করেই দ্রুত বসে পড়েন বা খেতে শুরু করেন, যা হজম প্রক্রিয়াকে ব্যাহত করে।
ক্ষতি: হঠাৎ বসে পড়লে রক্ত সঞ্চালন ধীর হয়ে যায় এবং পাকস্থলীতে চাপ সৃষ্টি হয়।
ফলাফল: এর কারণে হজমের সমস্যা, বুক জ্বালা এবং গ্যাস হতে পারে।
সঠিক উপায়: হাঁটা শেষে শরীরকে ঠান্ডা করার জন্য অন্তত ৫ মিনিট ধীরে ধীরে হাঁটুন (কুল-ডাউন)। পূর্ণ খাবার খাওয়ার আগে ২০-৩০ মিনিট অপেক্ষা করুন এবং হালকা বিশ্রাম নিন।
স্বাস্থ্যকর হাঁটার জন্য ৫টি কার্যকর টিপস
আপনর হাঁটার অভ্যাসকে আরও স্বাস্থ্যকর এবং উপভোগ্য করতে এই সহজ নিয়মগুলো অনুসরণ করুন:
সঠিক জুতো নির্বাচন: আরামদায়ক স্পোর্টস শু ব্যবহার করুন। কেনার আগে বিকেলবেলা (যখন পা সামান্য ফোলা থাকে) পরে দেখুন।
পরিমিত গতি: এমন গতিতে হাঁটুন যা আপনার বয়স এবং ফিটনেস স্তরের জন্য উপযুক্ত, যে গতিতে আপনার শ্বাসকষ্ট হবে না।
ওয়ার্ম–আপ এবং কুল–ডাউন: হাঁটার আগে ৫ মিনিট হালকা ব্যায়াম বা ধীরে হাঁটার মাধ্যমে ওয়ার্ম–আপ করুন। হাঁটার পরে ৫ মিনিট ধীরে হেঁটে শরীর ঠান্ডা করুন।
পোশাকের দিকে মনোযোগ দিন: আরামদায়ক পোশাক পরুন যা সহজে বাতাস চলাচল করতে দেয় (ময়েশ্চার–উইকিং কাপড় ভালো)।
Also Read:ভারত অস্ট্রেলিয়ার বিরুদ্ধে চতুর্থ ধারাবাহিক টি২০ সিরিজ জিতল
সর্বোত্তম সময়: দিনের শীতলতম সময়গুলো বেছে নিন, যেমন: সকাল ৬টা থেকে ৮টা অথবা বিকেল ৪টা থেকে ৬টা।
বিশেষজ্ঞদের মন্তব্য
“সঠিক পদ্ধতিতে হাঁটা একটি সুস্থ জীবনযাত্রার ভিত্তি। ভুল অঙ্গবিন্যাসে হাঁটা উপকার করার পরিবর্তে মাংসপেশী এবং গাঁটের স্থায়ী ক্ষতি করতে পারে। হাঁটাকে কেবল ব্যায়াম হিসেবে নয়, একটি সঠিক দৈনন্দিন অভ্যাস হিসেবে গ্রহণ করা উচিত।”
প্রায়শই জিজ্ঞাসিত প্রশ্নাবলী
কতক্ষণ হাঁটা উচিত?
দ্রুত হাঁটা উপযুক্ত। এটি সপ্তাহে মোট ১৫০ মিনিট হলে সবচেয়ে ভালো।
হাঁটার সময় কি মোবাইল ব্যবহার করা উচিত?
না। এটি আপনার ভঙ্গি পরিবর্তন করে এবং রাস্তায় দুর্ঘটনার ঝুঁকি বাড়ায়। হাঁটার সময় মন শান্ত রাখা ভালো।
আমার কতদিন পর পর জুতো পরিবর্তন করা উচিত?
বেশিরভাগ স্পোর্টস শু ৫০০-৮০০ কিলোমিটার হাঁটার পরে পরিবর্তন করা উচিত, কারণ এর কুশন নষ্ট হতে শুরু করে, যা গাঁটে ক্ষতি করতে পারে।
কর্ম আহ্বান
আপনি কি আপনার হাঁটার রুটিনে পরিবর্তন আনতে প্রস্তুত? নিচের মন্তব্য বক্সে আপনার অভিজ্ঞতা শেয়ার করুন এবং এই গুরুত্বপূর্ণ টিপসগুলো আপনার বন্ধুদের সাথে শেয়ার করুন!
