Tuesday, March 10, 2026
Homeট্রেন্ডিংঢাকায় গণসমাবেশের ঘোষণা — আটটি রাজনৈতিক দল মঙ্গলবার একত্র হবে

ঢাকায় গণসমাবেশের ঘোষণা — আটটি রাজনৈতিক দল মঙ্গলবার একত্র হবে

Advertisement

ভূমিকা: রাজধানীতে রাজনৈতিক উত্তেজনার চূড়ান্ত পর্ব

বাংলাদেশের রাজনৈতিক অঙ্গন নতুন এক গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়ে প্রবেশ করতে যাচ্ছে, কারণ আটটি রাজনৈতিক দল একত্র হয়ে আগামী মঙ্গলবার, ১১ নভেম্বর ঢাকার পল্টন মোড়ে এক বৃহৎ গণসমাবেশের ঘোষণা দিয়েছে।
আয়োজকদের ভাষায়, “এটি শুধু একটি সমাবেশ নয় — এটি জনগণের শক্তি প্রদর্শনের দিন।”

এই ঘোষণা আসে সোমবার, ১০ নভেম্বর ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত সমন্বয় বৈঠকের পর।
সভায় সভাপতিত্ব করেন জামায়াতে ইসলামী বাংলাদেশের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল হামিদুল রহমান আজাদ।

Advertisement

সমাবেশের বিবরণ: “হাজার নয়, লক্ষ মানুষ উপস্থিত থাকবে”

সংবাদ সম্মেলনে হামিদুল রহমান আজাদ বলেন,
“আমরা পাঁচটি মৌলিক দাবি নিয়ে রাস্তায় নামছি। সরকার যদি জনগণের দাবি উপেক্ষা করে, তাহলে আগামীকালের সমাবেশ জাতিকে একটি স্পষ্ট বার্তা দেবে।”

Advertisement

তিনি জানান, প্রধান মঞ্চ স্থাপন করা হবে পল্টন মোড়ের দক্ষিণ পাশে, যা প্রেস ক্লাব থেকে নাইটিঙ্গেল মোড় এবং দৈনিক বাংলা মোড় পর্যন্ত বিস্তৃত থাকবে।

Advertisement

সমাবেশ শুরু হবে বিকেল ২টায় এবং শেষ হবে বিকেল ৪টায়, যাতে জনজীবন ও যান চলাচলে বিঘ্ন না ঘটে।

পাঁচটি প্রধান দাবি: জনগণের ইশতেহার

আটটি দল যে পাঁচটি মৌলিক দাবিতে ঐক্যমত্যে পৌঁছেছে, তা বর্তমান রাজনৈতিক সংকটের কেন্দ্রে রয়েছে—

ক্র.দাবি
জুলাই ঘোষণা পূর্ণাঙ্গভাবে বাস্তবায়ন
গণভোটের জন্য সাংবিধানিক কাঠামো প্রণয়ন
স্বচ্ছতা নিশ্চিত করে নির্বাচনী সংস্কার
আইন প্রণয়নে জনগণের প্রতিনিধিত্বের নিশ্চয়তা
রাজনৈতিক বন্দিদের মুক্তি ও মৌলিক অধিকার পুনঃপ্রতিষ্ঠা

আজাদ জানান, সরকারকে এই দাবিগুলো পূরণের জন্য ২৪ থেকে ৪৮ ঘণ্টা সময় দেওয়া হয়েছিল, কিন্তু দুই সপ্তাহ পার হয়ে গেলেও কোনো অগ্রগতি হয়নি।

সংলাপের সম্ভাবনা

রাজনৈতিক সংলাপের বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে আজাদ বলেন,
“আমরা বিএনপিসহ সব রাজনৈতিক দলকে আলোচনায় অংশ নেওয়ার আমন্ত্রণ জানিয়েছিলাম। তারা সাড়া দেয়নি — তবে দরজা এখনো খোলা আছে।”

তিনি আরও বলেন, বর্তমান রাজনৈতিক অচলাবস্থা শুধুমাত্র গঠনমূলক সংলাপ ও সংস্কার কর্মসূচিতে ঐকমত্যের মাধ্যমে সমাধান করা সম্ভব।

Also read:ঢাকাকে বিশ্বের তৃতীয় দূষিত শহর হিসেবে ঘোষণা — বায়ুর মান বিপজ্জনক স্তরে পৌঁছেছে

জনস্বার্থ ও প্রশাসনিক প্রস্তুতি

কর্মদিবসে সমাবেশ আয়োজন জনদুর্ভোগ সৃষ্টি করবে কিনা জানতে চাইলে আজাদ বলেন,
“আমরা দুপুরের বিরতির সময়সূচি নির্ধারণ করেছি, যাতে অফিসের কাজ ব্যাহত না হয়। বিকেল ২টা থেকে ৪টা পর্যন্ত সমাবেশ চলবে, তারপর রাস্তাগুলো খুলে দেওয়া হবে।”

তিনি সাধারণ নাগরিকদের শান্তি ও শৃঙ্খলা বজায় রাখার আহ্বান জানান এবং বলেন, সমাবেশটি শান্তিপূর্ণ ও সুশৃঙ্খলভাবে অনুষ্ঠিত হবে।

“জুলাই ঘোষণা”: রাজনৈতিক দ্বন্দ্বের মূল

আজাদ অভিযোগ করেন, সরকার জনপ্রিয় “জুলাই ঘোষণা” বাস্তবায়নে অযথা বিলম্ব করছে, যা বর্তমান সংকটকে গভীরতর করেছে।

তিনি বলেন,
“কনসেনসাস কমিশন পরিষ্কার সুপারিশ দিয়েছিল। কিন্তু সরকার অপ্রয়োজনীয়ভাবে ‘অথবা’ শব্দটি যোগ করে বিষয়টি জটিল করেছে। যদি ঘোষণাটি সরলভাবে কার্যকর করা হতো, আজ রাজনৈতিক সংকট দেখা দিত না।”

সাংবিধানিক বিতর্ক: “গণভোট জনগণের অধিকার”

বর্তমান সংবিধানে গণভোটের বিধান আছে কিনা জানতে চাইলে আজাদ বলেন,
“পনেরতম সংশোধনের আগে গণভোটের আইন বিদ্যমান ছিল। এটি এক কর্তৃত্ববাদী শাসনের সময় বাতিল করা হয়েছে, এবং বিষয়টি এখনো আদালতে বিচারাধীন।
জনমত দমন করা অসাংবিধানিক — সংবিধান জনগণের জন্য, জনগণ সংবিধানের জন্য নয়।”

তিনি বলেন, গণতন্ত্রের চেতনা জনগণের ইচ্ছার ওপর প্রতিষ্ঠিত, ক্ষমতার স্থায়িত্বের ওপর নয়।

অংশগ্রহণকারী দল ও নেতৃবৃন্দ

সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন আটটি জোটভুক্ত দলের জ্যেষ্ঠ নেতৃবৃন্দ—

নামপদবিদল
মাওলানা ইউনুস আহমদমহাসচিবইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ
প্রিন্সিপাল সৈয়দ মোসাদ্দেক বিল্লাহ আল-মাদানীপ্রেসিডিয়াম সদস্য
প্রফেসর আশরাফ আলী আকিনরাজনৈতিক বিশ্লেষক
মাওলানা সাখাওয়াত হোসেনভাইস আমীরখিলাফত মজলিস
মাওলানা ইউসুফ সাদিক হক্কানিমহাসচিবখিলাফত আন্দোলন
মাওলানা তৌহিদুল জামানযুগ্ম সম্পাদক
প্রফেসর ইকবাল হোসেনমহাসচিবজাতীয় গণতান্ত্রিক পার্টি (জাগপা)
কাজী নিজামুল হকমহাসচিববাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট পার্টি (বিডিপি)

সব নেতারা একযোগে ঘোষণা দেন,
“মঙ্গলবারের সমাবেশ শান্তিপূর্ণ, সুশৃঙ্খল ও ঐতিহাসিক হবে।”

দায়স্বীকার

এই প্রতিবেদনটি বিভিন্ন নির্ভরযোগ্য উৎস ও প্রকাশ্য তথ্যের ভিত্তিতে তৈরি। এখানে প্রদত্ত তথ্য শুধুমাত্র তথ্যবহুল ও বিনোদনের উদ্দেশ্যে প্রকাশ করা হয়েছে, এটিকে চূড়ান্ত বা প্রমাণিত ঘোষণা হিসেবে গণ্য করা যাবে না। প্রতিবেদনে উল্লিখিত মতামত, বিশ্লেষণ বা মন্তব্য লেখকের ব্যক্তিগত চিন্তাভাবনা, যা কোনো প্রতিষ্ঠান বা সংগঠনের প্রতিনিধিত্ব করে না। তথ্য সময়ের সঙ্গে পরিবর্তিত হতে পারে, তাই পাঠকদের অনুরোধ করা হচ্ছে নির্ভরযোগ্য সূত্র থেকে যাচাই করে নেবেন। এই প্রতিবেদনের তথ্যের উপর নির্ভর করে কোনো ক্ষতি বা বিভ্রান্তি সৃষ্টি হলে তার দায়ভার গ্রহণ করা হবে না۔

সম্পর্কিত প্রবন্ধ

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

সবচেয়ে বেশি পঠিত