Advertisement
নিয়মিত লিপস্টিক ব্যবহারে কী ক্ষতি হতে পারে?
লিপস্টিক এখন কেবল একটি প্রসাধনী অনুষঙ্গ নয়; এটি অনেক নারীর কাছে আত্মবিশ্বাস ও ব্যক্তিত্বের প্রতীক। তা সে অফিসের জন্যই হোক, কোনো পার্টি বা দৈনন্দিন জীবনে—ঠোঁটে এক চিমটি রং যেন চেহারায় এক নতুন জেল্লা এনে দেয়। কিন্তু এই সৌন্দর্যের আড়ালে কি স্বাস্থ্যের কোনো গোপন ঝুঁকি লুকিয়ে আছে? কেনই বা ডাক্তাররা নিয়মিত লিপস্টিক ব্যবহারে সতর্কতা জারি করেন?
এই নিবন্ধে আমরা লিপস্টিকের ক্ষতিকারক দিক এবং এর রাসায়নিক উপাদানটির স্বাস্থ্যগত প্রভাব সম্পর্কে বিস্তারিত আলোচনা করব। নির্ভরযোগ্য গবেষণা ও বিশেষজ্ঞের মতামতের ভিত্তিতে আমরা জানব, কীভাবে আপনার প্রিয় লিপস্টিকটি আপনার ঠোঁট এবং সামগ্রিক স্বাস্থ্যের ক্ষতি করতে পারে। এই গুরুত্বপূর্ণ তথ্য জানার পরে হয়তো আপনি ঠোঁটে এই প্রসাধনীটি প্রয়োগ করার আগে অন্তত একবার ভাববেন।
Advertisement
ঠোঁটের কী ধরনের ক্ষতি হতে পারে?
নিয়মিত লিপস্টিক ব্যবহারে ঠোঁটের সংবেদনশীল ত্বকের নানাভাবে ক্ষতি হতে পারে। লিপস্টিকের প্রাথমিক পার্শ্বপ্রতিক্রিয়াগুলো নিচে দেওয়া হলো:
Advertisement
শুষ্ক ও ফাটা ঠোঁট
অনেক লিপস্টিকে আর্দ্রতা শোষণকারী উপাদান থাকে। এটি ঠোঁটের প্রাকৃতিক আর্দ্রতা কমিয়ে দেয়, যা শুষ্কতার জন্ম দেয়। যাদের ত্বক এমনিতেই শুষ্ক, তাদের জন্য এই সমস্যা আরও গুরুতর হতে পারে।
Advertisement
কার্যকরী টিপস: লিপস্টিক কেনার সময় উপাদান তালিকায় তেল, মাখন বা শিয়া বাটার (Shea butter) সমৃদ্ধ পণ্যগুলো দেখে নিন।
ঠোঁটে কালো দাগ (Dark spots on lips) দীর্ঘদিন ধরে গাঢ় রঙের এবং নিম্নমানের লিপস্টিক ব্যবহার করলে ঠোঁটের রঙ পরিবর্তন হতে পারে (color change)। নিয়মিত ব্যবহারে ঠোঁটে কালো ছোপ বা দাগের ঝুঁকি বাড়ে। অতিরিক্ত রাসায়নিকের প্রভাবে সংবেদনশীল ঠোঁটের ত্বক কালচে হতে পারে।
লিপস্টিক অ্যালার্জি ও সংক্রমণ লিপস্টিকে ব্যবহৃত রাসায়নিকের প্রতি অ্যালার্জি থাকলে ঠোঁটে চুলকানি, লালচে ভাব বা র্যাশ দেখা যেতে পারে। এটি কন্টাক্ট ডার্মাটাইটিস (contact dermatitis) নামেও পরিচিত।
সংক্রমণ: পুরোনো বা মেয়াদোত্তীর্ণ লিপস্টিক ব্যবহার করলে তাতে উপস্থিত ব্যাকটেরিয়ার কারণে সংক্রমণ ছড়াতে পারে।
জরুরি সতর্কতা: নতুন কোনো কসমেটিক ব্র্যান্ড ব্যবহার করার আগে কানের পেছনে বা কবজির ভেতরের মতো ত্বকের ছোট একটি অংশে ‘প্যাচ টেস্ট’ (Lipstick patch test) করে নেওয়া অপরিহার্য।
লিপস্টিকে লুকিয়ে থাকা বিষাক্ত রাসায়নিক এবং স্বাস্থ্য ঝুঁকি
লিপস্টিকের সবচেয়ে বড় ঝুঁকি হলো এর মধ্যে থাকা বিভিন্ন রাসায়নিক পদার্থ । যদিও এই উপাদানগুলো অল্প পরিমাণে থাকে, তবুও নিয়মিত লিপস্টিক ব্যবহার, ঠোঁট চাটা বা খাবারের সঙ্গে এর কিছুটা পেটে চলে যাওয়ার কারণে দীর্ঘমেয়াদী স্বাস্থ্য সমস্যা দেখা দিতে পারে।
ভারী ধাতু ও বিষাক্ত পদার্থ
ইউনিভার্সিটি অফ ক্যালিফোর্নিয়া, বার্কলে-র স্কুল অফ পাবলিক হেলথের একটি গবেষণা অনুসারে, বেশিরভাগ লিপস্টিকে ক্রোমিয়াম, সিসা (Lead), অ্যালুমিনিয়াম, ক্যাডমিয়াম এবং আরও অনেক বিষাক্ত পদার্থের সামান্য উপস্থিতি থাকে। গবেষকরা ইঙ্গিত করেছেন:
গাঢ় রঙের লিপস্টিকগুলোতে বিষাক্ত রাসায়নিকের পরিমাণ বেশি থাকে।
লিপস্টিকের ক্যাডমিয়াম (Cadmium) দীর্ঘকাল ব্যবহারে শরীরে জমা হতে থাকে। এই উপাদানগুলো কিডনি, ফুসফুসের ক্ষতি, হাড়ের রোগ এবং হরমোনের ভারসাম্যহীনতা ঘটাতে পারে। যারা ২৪ ঘণ্টার মধ্যে ২ থেকে ৩ বার লিপস্টিক পুনরায় প্রয়োগ করেন, তাদের জন্য স্বাস্থ্য ঝুঁকি বিশেষভাবে বেশি।
প্যারাবেন্স প্রিজারভেটিভের বিপদ
অনেক লিপস্টিকে প্রিজারভেটিভ হিসেবে প্যারাবেন্স ব্যবহার করা হয়।
এই পদার্থ শরীরে ইস্ট্রোজেন হরমোনের ভারসাম্য নষ্ট করতে পারে এবং স্তন ক্যান্সারের ঝুঁকি বাড়িয়ে তুলতে পারে। তাই, লিপস্টিক ও স্বাস্থ্য সমস্যার মধ্যেকার সংযোগ বিবেচনা করে কেনার সময় প্যারাবেন্সের উপস্থিতি যাচাই করা উচিত।
Also Read:সিলেট টাইটানস স্বাক্ষর করেছে চার বিদেশি তারকা ক্রিকেটারকে BPL 2025-এর জন্য
বুঝে–শুনে লিপস্টিক ব্যবহার করুন
লিপস্টিক পুরোপুরি বর্জন না করে, কিছু সতর্কতা অবলম্বন করে এর ক্ষতিকে ন্যূনতম স্তরে নামিয়ে আনতে পারেন:
স্বনামধন্য ব্র্যান্ড বেছে নিন: সর্বদা নামকরা এবং অনুমোদিত ব্র্যান্ডের লিপস্টিক ব্যবহার করুন।
ঠোঁটের যত্ন নিন: রাতে ঘুমানোর আগে অবশ্যই লিপস্টিক পরিষ্কার করে ময়েশ্চারাইজার বা লিপ বাম ব্যবহার করুন।
বেশি ঘন ঘন নয়: দিনের বেলায় বারবার লিপস্টিক লাগানো এড়িয়ে চলুন।
উপাদান তালিকা পরীক্ষা করুন: সিসা, অ্যালুমিনিয়াম এবং প্যারাবেন্সমুক্ত ) পণ্য কেনার চেষ্টা করুন।
মূল কৌশল এবং পরবর্তী পদক্ষেপ
নিয়মিত লিপস্টিক ব্যবহার ঠোঁটের শুষ্কতা, কালো দাগ এবং অ্যালার্জির মতো সাধারণ সমস্যা সৃষ্টি করতে পারে। তবে আরও গুরুতর উদ্বেগের বিষয় হলো লিপস্টিকে পাওয়া সিসা, ক্যাডমিয়ামের মতো ভারী ধাতু এবং প্যারাবেন্স, যা কিডনি/শ্বাসযন্ত্রের ক্ষতি এবং স্তন ক্যান্সারের মতো দীর্ঘমেয়াদী স্বাস্থ্য সমস্যার ঝুঁকি বাড়াতে পারে। বিশ্বস্ত, রাসায়নিকমুক্ত ব্র্যান্ড বেছে নেওয়া এবং সচেতনতার সাথে ঠোঁটের সঠিক যত্ন নিলে এই ঝুঁকিগুলো হ্রাস করা যাবে।
আপনার ঠোঁট ও স্বাস্থ্য অমূল্য। জেনে এবং সঠিক যত্নের মাধ্যমে সৌন্দর্য ও অসুস্থতার মধ্যে ভারসাম্য বজায় রাখুন।
দাবি পরিত্যাগ
এই নিবন্ধটি শুধুমাত্র তথ্যগত এবং শিক্ষামূলক উদ্দেশ্যে প্রকাশিত হয়েছে। প্রসাধনী বা স্বাস্থ্য সম্পর্কিত কোনো সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে একজন বিশেষজ্ঞ বা চিকিৎসকের সঙ্গে পরামর্শ করুন এবং বিশ্বস্ত সূত্র থেকে তথ্য যাচাই করে নিন। এই তথ্যের ভিত্তিতে নেওয়া কোনো সিদ্ধান্তের জন্য লেখক বা প্রকাশক দায়ী নন।
