Advertisement
জীবন দেখছেন আশরাফুল ও পাইলট!
সেটা ছিল ২০০৫ সাল। ক্রিকেটের ‘মক্কা’ খ্যাত লর্ডসের ড্রেসিংরুমে সেদিন ছিলেন বাংলাদেশের ক্রিকেটের দুই বড় নাম—দেশের বড় তারকা মোহাম্মদ আশরাফুল এবং দলের সেরা উইকেটকিপার ব্যাটসম্যান খালেদ মাসুদ পাইলট। আর এক কোণে গুটিয়ে বসে ছিলেন ১৬ বছর বয়সী এক কিশোর, যাঁর নাম মুশফিকুর রহিম।
সেই সফরে সর্বকনিষ্ঠ খেলোয়াড় হিসেবে লর্ডসে তাঁর প্রবেশ ঘটে। দুই দশক পর সেই ‘ছোট্ট ছেলেটি’ এখন বাংলাদেশের ইতিহাসে নিজের নাম খোদাই করতে প্রস্তুত। এই বুধবার তিনি তাঁর স্বপ্নের ১০০তম টেস্ট ম্যাচ খেলে প্রথম ক্রিকেটার হিসেবে বাংলাদেশ জার্সি পরিধান করবেন।
Advertisement
তাঁর শুরুর দিকের দুই সতীর্থ—মোহাম্মদ আশরাফুল এবং খালেদ মাসুদ পাইলট—মুশফিকুর রহিমের দীর্ঘ এবং অনুপ্রেরণাদায়ী ক্যারিয়ার নিয়ে নিজেদের মধ্যে কথা বলেছেন। তাঁদের অভিজ্ঞতার আয়নায়, এই নিয়তি নির্ধারিত ক্রিকেটারের যাত্রা কেমন ছিল? চলুন জেনে নেওয়া যাক।
Advertisement
শুরু: যেভাবে জাতীয় দলে এলেন মুশফিকুর
২০০৫ সালের সফরের আগে আশরাফুল বা পাইলট কেউই মুশফিকুর রহিম সম্পর্কে খুব বেশি জানতেন না। তবে একটি অনূর্ধ্ব-১৯ টুর্নামেন্টেই তাঁর সহজাত প্রতিভা নজরে আসে।
Advertisement
২০০৪ সালে, টাউনটনে অনূর্ধ্ব-১৯ টেস্টে মুশফিকুরের করা ৮৮ রানের দারুণ ইনিংসই পরের বছর সিনিয়র স্কোয়াডের সাথে তাঁর সফরের পথ পাকা করে দেয়।
আশরাফুলের চোখে মুশফিকুর: এক ‘আদর্শ ক্রিকেটার’
বর্তমানে বাংলাদেশ জাতীয় দলের স্কিল কোচের দায়িত্ব পালন করা মোহাম্মদ আশরাফুল দ্বিধাহীনভাবে মুশফিকুরকে “একক” (Singular) বলে অভিহিত করেন।
তিনি আরও বলেন যে মুশফিকুর খুবই আবেগপ্রবণ একটি ছেলে। যখন তিনি স্কোর করতে ব্যর্থ হতেন, তখন তাঁকে চিন্তিত হয়ে বসে থাকতে দেখা যেত, যা খেলার প্রতি তাঁর গভীর নিষ্ঠা ও ভালোবাসার ইঙ্গিত।
নেতৃত্ব এবং দায়িত্ব
মুশফিকুরকে যখন অধিনায়কত্ব দেওয়া হয়, তখন তাঁর আবেগপ্রবণ স্বভাবের কারণে আশরাফুলের সন্দেহ ছিল। কিন্তু মুশফিকুর সেই চ্যালেঞ্জ গ্রহণ করেন এবং তাঁর সক্ষমতা প্রমাণ করেন।
ত্যাগ এবং অংশীদারিত্ব:
আশরাফুল একটি গুরুত্বপূর্ণ মৌলিক বিষয় তুলে ধরেন যা তাঁর খেলার বোঝাকে হাইলাইট করে।
পাইলটের স্মৃতিতে মুশফিকুর: পরিশ্রমী ‘কিউট’ ছেলেটি
বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) পরিচালক এবং সাবেক অধিনায়ক খালেদ মাসুদ পাইলট প্রথম মুশফিকুরকে লর্ডসে দেখেন।
প্রথম দেখা এবং শৃঙ্খলা
পাইলটের চোখে, প্রথম সাক্ষাতে মুশফিকুর ছিলেন “খুবই কিউট” এবং এমন একজন যিনি “এইমাত্র কৈশোর পেরিয়েছেন।” ড্রেসিংরুমে তিনি খুব শান্ত থাকলেও ছিলেন অত্যন্ত শৃঙ্খলাপরায়ণ।
উইকেটকিপিং ক্যারিয়ার এবং উন্নতি:
পাইলট বিশ্বাস করেন যে, প্রথম দিকে মুশফিকুর কেবল একজন বিশেষজ্ঞ ব্যাটসম্যান হিসেবেই পরিচিত ছিলেন। পাইলটের অবসরের পর তাঁর উইকেটকিপিং ক্যারিয়ার শুরু হয়। পাইলট নিশ্চিত করেন যে, পরে মুশফিকুর তাঁর উইকেটকিপিংয়ের উন্নতি করার পরই তিনি দীর্ঘ সময়ের জন্য টেস্টে এই দায়িত্ব নিতে শুরু করেন।
ইচ্ছাশক্তি এবং প্রেরণা
পাইলটের মতে, মুশফিকুরের দীর্ঘ ক্যারিয়ারের প্রধান কারণ হলো তাঁর “ইচ্ছাশক্তি” (willpower)। যদিও তাঁর চেয়ে বেশি প্রতিভাবান ক্রিকেটার বাংলাদেশে এসেছেন, কিন্তু কেউ সেই চালিকাশক্তি বা আকাঙ্ক্ষা দেখাননি।
ভবিষ্যৎ: একটি ক্রিকেট মস্তিষ্কের প্রয়োজন
পাইলট আশা করেন যে মুশফিকুর তাঁর শততম টেস্টেও একটি বড় ইনিংস খেলবেন। তিনি চান মুশফিকুরকে তরুণ ক্রিকেটারদের জন্য একটি উদাহরণ হিসেবে দেখতে।
তিনি আশা করেন যে মিরাজ, লিটন, শান্ত এবং মুমিনুলরা মুশফিকুরকে ছাড়িয়ে যাওয়ার লক্ষ্য রাখবেন। তিনি বিশ্বাস করেন যে আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ার দীর্ঘ করার জন্য প্রথমে একটি নিয়ন্ত্রিত জীবন প্রয়োজন, যা মুশফিকুরের মধ্যে রয়েছে।
Also Read:সেটে জিতু-দিতিপ্রিয়া মুখ দেখাদেখি বন্ধ!
পাইলট আরও চান যে অবসরের পর মুশফিকুর তাঁর অভিজ্ঞতা এবং ক্রিকেট মস্তিষ্ক দিয়ে বাংলাদেশের ক্রিকেটকে সমৃদ্ধ করবেন।
পাঠকের প্রশ্ন
মুশফিকুর রহিম কত সালে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে প্রবেশ করেন?
মুশফিকুর রহিম ২০০৫ সালে লর্ডসে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে টেস্ট অভিষেক করেন।
মুশফিকুর রহিম কি বাংলাদেশ দলের প্রথম উইকেটকিপার-ব্যাটসম্যান?
না। খালেদ মাসুদ পাইলট এবং আরও কয়েকজন তাঁর আগে এই ভূমিকা পালন করেছেন। তবে তিনি উইকেটকিপার-ব্যাটসম্যান হিসেবে দীর্ঘ সময়ের জন্য টেস্টে তাঁর উইকেটকিপিং ক্যারিয়ারকে সফলভাবে ধরে রেখেছেন।
মুশফিকুর রহিম কি বাংলাদেশ টেস্ট দলের সর্বোচ্চ রান সংগ্রাহক?
হ্যাঁ, মুশফিকুর রহিম বর্তমানে বাংলাদেশের অন্যতম সর্বোচ্চ রান সংগ্রাহক, এবং এই অবস্থানের মাধ্যমে তিনি নিজেকে এক অনন্য উচ্চতায় নিয়ে গেছেন।
অস্বীকৃতি
দ্য রাইজিংবিডি (The RisingBD) থেকে প্রকাশিত এই আর্টিকেলটি আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের খবর এবং খেলোয়াড়দের ব্যক্তিগত সাক্ষাৎকারের ভিত্তিতে প্রস্তুত করা হয়েছে। এই আর্টিকেলটি শুধুমাত্র তথ্যগত এবং শিক্ষামূলক উদ্দেশ্যে প্রকাশিত হয়েছে। পাঠকদের পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে যে আর্টিকেলের বিষয়বস্তু সম্পর্কে আরও বিস্তারিত তথ্যের জন্য নির্ভরযোগ্য সংবাদ মাধ্যম বা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে তথ্য যাচাই করে নিতে।
