Advertisement
হাইকোর্টের নির্দেশে সেনার পর্যালোচনার জন্য গেল ছবি!
বলিউড সুপারস্টার রণবীর সিং অভিনীত বহু প্রতীক্ষিত ছবি ‘ধুরন্ধর’ বর্তমানে দেশজুড়ে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে। মুক্তির আগেই অগ্রিম বক্স অফিস বুকিং-এ রেকর্ড গড়লেও, ছবিটি একটি গুরুতর আইনি জটিলতার সম্মুখীন হয়েছে। শহিদ মেজর মোহিত শর্মার পরিবার ছবির মুক্তি স্থগিত করার আবেদন জানিয়ে দিল্লি হাইকোর্টে একটি পিটিশন দাখিল করার পরই বিষয়টি সামনে আসে।
কিন্তু এই আপত্তির কারণ কী? মেজরের পরিবারের দাবি, নির্মাতারা তাদের অনুমতি ছাড়াই ছবিতে মেজরের বাস্তব জীবন এবং সামরিক অভিযানকে তুলে ধরেছেন। এই পরিস্থিতিতে দিল্লি হাইকোর্টের জারি করা নির্দেশ শুধু ছবির সেন্সর সার্টিফিকেশনকেই সন্দেহজনক করে তোলেনি, বরং জাতীয় নিরাপত্তার প্রশ্নকেও সামনে এনেছে। ‘ধুরন্ধর’-এর ভাগ্য এখন ভারতীয় সেনাবাহিনীর হাতে!
Advertisement
এই প্রতিবেদনে আমরা এই সম্পূর্ণ বিতর্কের মূল কারণ, আদালতের নির্দেশ এবং ছবির ভবিষ্যৎ নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করব।
Advertisement
হাইকোর্টের ঐতিহাসিক রায়: কেন ছবি সেনার কাছে যাবে?
সোমবার একটি গুরুত্বপূর্ণ মামলায় দিল্লি হাইকোর্ট একটি তাৎপর্যপূর্ণ রায় দিয়েছে। আদালত তার নির্দেশে স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে যে রণবীরের ছবি ‘ধুরন্ধর’ দ্রুত ভারতীয় সেনাবাহিনীর কাছে পর্যালোচনার জন্য পাঠাতে হবে।
Advertisement
বিতর্কের মূল কারণ: মেজর মোহিত শর্মার পরিবারের অভিযোগ
বিতর্কের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন শহিদ মেজর মোহিত শর্মা। তাঁর বাবা-মা-সহ পরিবারের প্রধান অভিযোগগুলি হলো:
কোনো অনুমতি নেওয়া হয়নি: নির্মাতারা মেজরের বাস্তব জীবনের ঘটনা ব্যবহার করলেও পরিবারের কোনো অনুমতি নেননি।
গোপন কৌশল ফাঁস: পরিবারের দাবি, ছবির ট্রেলারে গোপন সেনা কৌশল (LSI Keyword) এবং প্রকৃত সামরিক প্রেক্ষাপট প্রকাশ করা হয়েছে, যা দেশের জাতীয় নিরাপত্তার জন্য ঝুঁকি তৈরি করতে পারে।
জীবনের মিল: তারা দাবি করেন, ছবির অনেক দৃশ্য মেজরের বাস্তব জীবনের সামরিক অভিযানের সঙ্গে হুবহু মিলে যাচ্ছে।
আদালতে প্রযোজক ও সরকারের যুক্তি
কেন্দ্রীয় সরকারের আইনজীবী আশিস দীক্ষিত আদালতকে জানান যে ছবিটি এখনও সেন্সর বোর্ডের সার্টিফিকেট পায়নি। তিনি যুক্তি দেন যে ‘ধুরন্ধর’ কোনো বায়োপিক নয়, বরং এর গল্প সম্পূর্ণ কাল্পনিক।
পরিচালক আদিত্য ধরের পক্ষ থেকেও আদালতে একটি পোস্ট দাখিল করা হয়, যেখানে তিনি স্পষ্টভাবে বলেছেন যে ছবিটি মেজর মোহিত শর্মার ওপর ভিত্তি করে তৈরি নয়।
ছবি নির্মাতাদের আইনজীবী সৌরভ কৃপাল কেবল ট্রেলারের ভিত্তিতে ছবি নিষিদ্ধ করার ধারণার ভুল দিকটি তুলে ধরেন।
সকল পক্ষের বক্তব্য শোনার পর হাইকোর্ট তার চূড়ান্ত রায় দেয়: সেনাবাহিনীর ‘সবুজ সংকেত‘ ছাড়া ছবির সেন্সর সার্টিফিকেট সম্পর্কে কোনো সিদ্ধান্ত নেওয়া যাবে না।
‘ধুরন্ধর‘ ছবির ভবিষ্যৎ: মুক্তি কি স্থগিত হচ্ছে?
রণবীর সিং-এর ‘ধুরন্ধর’ কেবল সাধারণ দর্শক নয়, পেশাদারদের মধ্যেও ব্যাপক আগ্রহ সৃষ্টি করেছে। কিছু প্রেক্ষাগৃহে টিকিটের দাম ₹২,০০০ স্পর্শ করেছে, যা এর আকাশছোঁয়া অগ্রিম বুকিং-এর ইঙ্গিত দেয়।
Also Read:ইসলামের প্রথম মাদরাসা ‘দারুল আরকাম’
এই পরিস্থিতিতে অনেকেই মনে করছেন যে নতুন আদালতের নির্দেশের কারণে ছবির মুক্তি স্থগিত/বিলম্বিত হওয়ার সম্ভাবনাকে উড়িয়ে দেওয়া যায় না। ভারতীয় সেনাবাহিনীর পর্যালোচনা রিপোর্ট এখন ছবির ভাগ্য নির্ধারণ করবে।
সচরাচর জিজ্ঞাসিত প্রশ্ন
প্রশ্ন: ‘ধুরন্ধর’ কি সত্যিই মেজর মোহিত শর্মার বায়োপিক?
উত্তর: ছবির নির্মাতাদের আইনজীবী এবং পরিচালক আদিত্য ধর আদালতে যুক্তি দিয়েছেন যে ‘ধুরন্ধর’ কোনো বায়োপিক নয় এবং এর গল্প সম্পূর্ণরূপে কাল্পনিক। তবে, মেজরের পরিবার দাবি করেছে যে গল্পের অনেক অংশ বাস্তব জীবনের অভিযানের সঙ্গে মিলে যায়।
প্রশ্ন: হাইকোর্টের নির্দেশের পর কি ছবিটি নির্ধারিত তারিখে মুক্তি পাবে?
উত্তর: হাইকোর্ট ছবিটিকে সেনাবাহিনীর পর্যালোচনার জন্য পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছে। সেনাবাহিনী সবুজ সংকেত না দেওয়া পর্যন্ত ছবির সেন্সর সার্টিফিকেট আটকে থাকবে। তাই স্বাভাবিক মুক্তির সম্ভাবনা কমে গেছে এবং মুক্তির বিলম্বের আশঙ্কা রয়েছে।
কল টু অ্যাকশন
রণবীর সিং-এর ‘ধুরন্ধর’ সিনেমা এবং জাতীয় নিরাপত্তা—উভয় ক্ষেত্রেই একটি যুগান্তকারী বিতর্কের সৃষ্টি করেছে। দিল্লি হাইকোর্টের নির্দেশ দেশের নিরাপত্তা এবং শৈল্পিক স্বাধীনতার মধ্যে ভারসাম্যের ওপর একটি নতুন আলোচনার সূত্রপাত করেছে।
