Advertisement
সেই গোপন কথা, যৌবন ধরে রাখতে আপনিও খাবেন!
জনপ্রিয় অভিনেত্রী জয়া আহসান যেন সময়কে উল্টো দিকে ঘোরাচ্ছেন! দিন যত যাচ্ছে, ততই যেন তাঁর সৌন্দর্য বাড়ছে। তাঁর ভক্ত ও অনুসারীদের মধ্যে একটি বড় প্রশ্ন: জয়ার চির–যৌবনের রহস্য কী? তিনি কী খান বা কী করেন, তা নিয়ে চর্চার শেষ নেই।
সম্প্রতি একটি ভিডিও ইন্টারনেটে ভাইরাল হয়েছে, যেখানে দেখা যায় জয়া আয়েশ করে কাঁচা করলা খাচ্ছেন। এই দৃশ্য দেখে অনেকেই অবাক! কারণ বেশিরভাগ মানুষ রান্না করা করলাই এড়িয়ে চলেন, আর সেখানে জয়া খাচ্ছেন একেবারে কাঁচা! কেউ কেউ কৌতুক করে মন্তব্য করেছেন, “পাঁচ লাখ টাকা দিলেও কেউ কাঁচা করলা খাবে না।”
Advertisement
তবে, এই অবাক করা করলার মধ্যেই লুকিয়ে আছে তাঁর চিরন্তন সৌন্দর্য ও তারুণ্যের গোপন চাবিকাঠি। আপনিও যদি আপনার বয়সকে শুধু ক্যালেন্ডারের একটি সংখ্যায় সীমাবদ্ধ রাখতে চান এবং জয়ার মতো উজ্জ্বল ও স্বাস্থ্যোজ্জ্বল ত্বক ধরে রাখতে চান, তবে করলার পুষ্টিগুণ ও উপকারিতা সম্পর্কে আপনার জানা আবশ্যক।
Advertisement
কাঁচা করলা কেন খাবেন? তারুণ্য ধরে রাখার গোপন রহস্য (অ্যান্টি-এজিং উপকারিতা)
আপনি যদি জয়া আহসানের মতো যৌবন ধরে রাখতে চান, তবে আপনার খাদ্যতালিকায় করলাকে অবশ্যই বিবেচনা করতে হবে।
Advertisement
করলার মূল পুষ্টি উপাদান ও উপকারিতা:
ভিটামিন এ ও ভিটামিন সি: এই শক্তিশালী অ্যান্টিঅক্সিডেন্টগুলো ফ্রি র্যাডিকেলের কারণে হওয়া ত্বকের কোষের ক্ষতি থেকে রক্ষা করে।
অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট: এগুলো ত্বকের বার্ধক্য প্রক্রিয়াকে ধীর করে দেয়। ফলে ত্বকে সহজে ভাঁজ বা বলিরেখা পড়ে না।
আয়রন ও ফাইবার: এগুলো শরীরের অভ্যন্তরীণ স্বাস্থ্য বজায় রাখতে সাহায্য করে, যা বার্ধক্য প্রক্রিয়াকে মন্থর করে।
করলার জাদুকরী উপকারিতা: ত্বক উজ্জ্বল করা থেকে ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণ পর্যন্ত
কেবল সৌন্দর্য ধরে রাখার জন্যই নয়, সামগ্রিক শারীরিক স্বাস্থ্য রক্ষায়ও করলা অপরিহার্য। নিচে এর আরও কিছু গুরুত্বপূর্ণ উপকারিতা দেওয়া হলো:
ত্বক উজ্জ্বল ও ব্রণমুক্ত রাখে
নিয়মিত করলা খেলে রক্ত থেকে ক্ষতিকারক উপাদান দূর হয় এবং রক্ত পরিষ্কার থাকে। পরিষ্কার রক্তের ফলস্বরূপ ত্বক হয় উজ্জ্বল ও স্বাস্থ্যোজ্জ্বল।
ব্যবহারের পদ্ধতি: একটি গ্লাসে দুই চামচ করলার রস এবং দুই চামচ কমলার রস মিশিয়ে পান করুন। এতে আপনার মুখের উজ্জ্বলতা বৃদ্ধি পাবে।
ব্রণ ও র্যাশের জন্য: যদি আপনার ত্বকে ঘন ঘন ব্রণ বা র্যাশ দেখা দেয়, তবে নিয়মিত এক গ্লাস করলার রস পান করুন। এর অতিরিক্ত তেতো স্বাদ কমাতে আপনি আপনার পছন্দের ফল বা সবজির রসের সাথে মিশিয়ে নিতে পারেন। এটি আপনার ত্বকের সমস্যা দূর করতে বাধ্য।
ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করে
ডায়াবেটিস রোগীদের জন্য করলা এক প্রকার অমৃত।
কার্যকারিতা: করলায় রয়েছে অ্যাডিনোসিন মনোফসফেট–অ্যাকটিভেটেড প্রোটিন কিনেস (AMPK)। এটি শরীরের কোষের এনজাইম বাড়ায় এবং তাদের শর্করা শোষণের ক্ষমতা বাড়ায়।
উপকারিতা: করলার রস শরীরের কোষের অভ্যন্তরে গ্লুকোজ মেটাবলিজম বাড়িয়ে রক্তে শর্করার মাত্রা নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করে। তাই প্রতিদিন করলার রস পান করা ডায়াবেটিস রোগীদের জন্য খুবই উপকারী।
চোখের সমস্যা দূর করে এবং রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায়
করলা বিটা-ক্যারোটিন বা ভিটামিন এ-তে ভরপুর।
চোখের স্বাস্থ্য: এটি চোখের সমস্যা দূর করতে এবং দৃষ্টিশক্তি ভালো রাখতে সাহায্য করে।
রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা: নিয়মিত করলা খেলে সর্দি, কাশি, মৌসুমী জ্বর এবং অন্যান্য ছোটখাটো অসুস্থতার ঝুঁকিও কমে যায়।
Also Read :বাংলাদেশের অনূর্ধ্ব-১৯ নারী দলের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ – কারণ এখানে!
হজম ও অন্ত্রের স্বাস্থ্য
করলার ফাইবার উপাদান হজম প্রক্রিয়াকে উন্নত করে এবং অন্ত্রের স্বাস্থ্য বজায় রাখতে সাহায্য করে। নিয়মিত দেহ প্রক্রিয়া বদহজম দূর করে এবং শরীরকে সতেজ রাখে।
ডিসক্লেইমার
এই নিবন্ধটি কেবল জ্ঞান ও শিক্ষামূলক উদ্দেশ্যে প্রকাশিত হয়েছে। এই নিবন্ধে প্রদত্ত খাদ্য বা স্বাস্থ্য সম্পর্কিত তথ্য চিকিৎসা চিকিৎসার বিকল্প হিসেবে ব্যবহার করা উচিত নয়। কোনো বড় স্বাস্থ্য-সম্পর্কিত সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে বা নতুন কোনো খাদ্য গ্রহণ শুরু করার আগে সর্বদা একজন বিশ্বস্ত স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ বা ডাক্তারের পরামর্শ নিন। সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে পাঠকদের বিশ্বস্ত উৎস থেকে তথ্য যাচাই করার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।
