Advertisement
বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)-এর ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান এবং বেগম খালেদা জিয়ার জ্যেষ্ঠ পুত্র তারেক রহমান-এর দেশে ফিরে না আসার বিষয়টি জনমনে এবং রাজনৈতিক মহলে ব্যাপক প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে। বিশেষত বেগম খালেদা জিয়ার গুরুতর অসুস্থতার কারণে এই প্রশ্ন আরও জোরালো হয়েছে। এই সংবেদনশীল বিষয়ে ব্যাখ্যা ও কারণ জানাতে তারেক রহমানের উপদেষ্টা ডা. মেহেদী আমিন তাঁর ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে একটি দীর্ঘ পোস্ট লিখেছেন। তিনি বলেন, ব্যক্তিগত অনুভূতির ভিত্তিতে নয়, বরং মায়ের স্বাস্থ্য এবং দেশের কল্যাণের কথা মাথায় রেখে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। তারেক রহমানের দেশে না আসার আসল কারণ কী এবং লন্ডন থেকে তিনি কী দায়িত্ব পালন করছেন? সমস্ত তথ্য জানতে এই প্রতিবেদনটি পড়ুন।
দেশে না ফেরার আসল কারণ
ডা. মেহেদী আমিন বৃহস্পতিবার (৪ ডিসেম্বর)-এর পোস্টে স্পষ্ট করেছেন যে তারেক রহমানের এই মুহূর্তে দেশে না ফেরাটা ছিল একটি খুবই কঠিন, কিন্তু অপরিহার্য সিদ্ধান্ত।
Advertisement
প্রথম এবং প্রধান: মায়ের স্বাস্থ্য
উপদেষ্টা বলেন, তারেক রহমানের কাছে বেগম খালেদা জিয়া সবার আগে একজন মা, তারপরেই তিনি একজন নেত্রী।
Advertisement
- সিদ্ধান্তহীনতা নয়: “তারেক রহমান দেশে এলে তাঁর সামনে মায়ের সাথে লন্ডনে যাওয়া অথবা দেশে থাকার মধ্যে একটিকে বেছে নিতে হতো।”
- আরও বিশৃঙ্খলা: “যেকোনো ক্ষেত্রেই আরও বিশৃঙ্খলা (Bishrinkhala) সৃষ্টি হতো।”
- জনস্বার্থ: “তাই, তাঁকে তাঁর ব্যক্তিগত অনুভূতি এবং মায়ের স্বাস্থ্য এবং দেশের স্থিতিশীলতার (Sthiti) মধ্যে একটিকে বেছে নিতে হয়েছে।”
- সর্বোত্তম সিদ্ধান্ত: “তিনি যা করছেন, তা-ই তাঁর মায়ের জন্য সর্বোত্তম (Sarvottam)।”
চিকিৎসার পরিবেশের নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতার ওপর হুমকি
ডা. মেহেদী আমিন আরও বলেন যে তারেক রহমানের ঢাকায় আগমন কিছু ব্যবহারিক সমস্যা এবং নিরাপত্তা উদ্বেগ সৃষ্টি করতে পারত, যা চিকিৎসার পরিবেশকে আরও খারাপ করত।
Advertisement
নিরাপত্তা ও ব্যবহারিক উদ্বেগ
| উদ্বেগের বিষয় | বিবরণ |
| নিরাপত্তা ইস্যু | দেশে তাঁর আগমন একটি নিরাপত্তা সংকট (Security Crisis) সৃষ্টি করতে পারত। |
| হাসপাতালের পরিবেশ | বিশৃঙ্খলা (Bishrinkhala) এবং বিশাল জনসমাগমের (Jansamagam) কারণে হাসপাতালের পরিবেশ নষ্ট হতে পারত, যা খালেদা জিয়ার স্বাস্থ্যের জন্য বিপজ্জনক (Khatarnak) হতো। |
| উন্নত সমন্বয় | তিনি লন্ডনে অবস্থান করে আন্তর্জাতিক ডাক্তার, হাসপাতাল এবং এয়ার অ্যাম্বুলেন্সের সাথে উন্নত সমন্বয় সাধন করতে পারছেন। |
Also read:কাতার এয়ার অ্যাম্বুলেন্স ‘ব্যর্থতা’! খালেদা জিয়াকে বিদেশ যেতে বাধা কেন? এটি কি কোনো বড় ষড়যন্ত্র?
লন্ডন: কেন্দ্রীয় সমন্বয় কেন্দ্র
ডা. মেহেদী আমিন খালেদা জিয়ার চিকিৎসা সংক্রান্ত বিষয়ে একটি নতুন পোস্টও লিখেছেন, যেখানে বলা হয়েছে যে সমস্ত গুরুত্বপূর্ণ ব্যবস্থা লন্ডন থেকেই করা হচ্ছে।
- স্বাস্থ্যের উন্নতি: স্থানীয় ও বিদেশি বিশেষজ্ঞদের নিয়ে গঠিত মেডিকেল বোর্ড খালেদা জিয়ার স্বাস্থ্যের দিকে নজর রাখছিল এবং তাঁর স্বাস্থ্যের উন্নতি হয়েছে।
- লন্ডনে স্থানান্তর: উন্নত চিকিৎসার জন্য তাঁকে অবিলম্বে লন্ডনে স্থানান্তরের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
- কেন্দ্রীয় সমন্বয়: তারেক রহমান এবং তাঁর স্ত্রী ডা. জুবাইদা রহমান এই প্রক্রিয়ার সমস্ত সমন্বয়ের দায়িত্বে রয়েছেন।
ডা. জুবাইদা রহমানের ভূমিকা
- খালেদা জিয়ার যাত্রা নিশ্চিত করতে ডা. জুবাইদা লন্ডন থেকেই সমস্ত ব্যবস্থা তদারকি করছেন।
- ঢাকায় আগমন: তাঁর শাশুড়ির বিদেশ যাত্রা যেন পরিকল্পনা অনুযায়ী হয়, তা স্বচক্ষে দেখতে তিনি দ্রুত ঢাকায় আসার চেষ্টা করছেন।
- বিশেষজ্ঞের আগমন: লন্ডনের বিশেষজ্ঞ ডা. রিচার্ড বিয়াল ইতিমধ্যেই ঢাকায় রয়েছেন।
তারেক রহমানের প্রত্যাশিত প্রত্যাবর্তন
ডা. মেহেদী আমিন তাঁর পোস্টে আরও উল্লেখ করেন যে তারেক রহমান রাজনৈতিক আবেগের ভিত্তিতে নয়, বরং বাস্তব এবং দেশের জন্য যা কল্যাণকর, তার ওপর ভিত্তি করেই সিদ্ধান্ত নিচ্ছেন।
তিনি আশা প্রকাশ করেন যে খালেদা জিয়া লন্ডনে পৌঁছানোর পর, সুস্থ হয়ে উঠলে এবং তাঁর স্বাস্থ্যের উন্নতি হলে তারেক রহমানও দেশে ফিরে আসবেন।
উপসংহার: প্রার্থনা এবং বাস্তববাদ
মায়ের গুরুতর অসুস্থতা সত্ত্বেও তারেক রহমানের দেশে না ফেরার সিদ্ধান্ত ছিল রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা এবং মায়ের চিকিৎসার প্রয়োজনের কারণে নেওয়া একটি কঠিন ও জটিল পছন্দ। তাঁর উপদেষ্টার এই স্পষ্টীকরণ রাজনৈতিক মহলে এবং সাধারণ মানুষের মধ্যে চলমান গুজবকে প্রশমিত করতে সাহায্য করতে পারে।
ডিসক্লেমার
এই খবরটি বিভিন্ন বিশ্বস্ত সূত্র এবং জনসমক্ষে উপলব্ধ তথ্যের ওপর ভিত্তি করে তৈরি করা হয়েছে। সরবরাহকৃত বিষয়বস্তু শুধুমাত্র তথ্যমূলক এবং বিনোদনের উদ্দেশ্যে, এটিকে চূড়ান্ত বা নিশ্চিত বিবৃতি হিসেবে বিবেচনা করা উচিত নয়। খবরে থাকা মতামত, বিশ্লেষণ বা ভবিষ্যদ্বাণীগুলি লেখকের ব্যক্তিগত মতামত এবং কোনো প্রতিষ্ঠান বা সংস্থার প্রতিনিধিত্ব করে না। তথ্য সময়ের সাথে পরিবর্তিত হতে পারে, তাই পাঠকদের যাচাইকরণের জন্য সরকারি বা খাঁটি উৎসের সাথে যোগাযোগ করা উচিত। এই খবরের বিষয়বস্তুর ওপর নির্ভর করার ফলে উদ্ভূত কোনো ক্ষতি বা ভুল বোঝাবুঝির জন্য কোনো দায়িত্ব গ্রহণ করা হয় না।
