Advertisement
খান্নার অবিশ্বাস্য জীবন কাহিনি এবং লেখালেখির প্রেরণা
নব্বই দশকের জনপ্রিয় বলিউড অভিনেত্রী টুইঙ্কেল খান্না অনেক আগেই অভিনয় থেকে অবসর নিয়েছেন। বর্তমানে তিনি একজন সফল লেখক এবং কলামিস্ট হিসেবে পরিচিত। কিন্তু আপনারা কি জানেন, লেখক হিসেবে তাঁর এই সাফল্যের পেছনে রয়েছে একটি অত্যন্ত বেদনাদায়ক ঘটনা?
সম্প্রতি ভারতীয় সংবাদ সংস্থা পিটিআই-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে টুইঙ্কেল খান্না (অক্ষয় কুমারের স্ত্রী) একটি অবিশ্বাস্য তথ্য প্রকাশ করেছেন—তাঁর শরীরের প্রতিটি হাড় একবার করে ভেঙেছে! এই দীর্ঘ যন্ত্রণাদায়ক অভিজ্ঞতাই তাঁকে লেখালেখির জগতে ঠেলে দিয়েছে। চলুন, জেনে নেওয়া যাক কীভাবে তাঁর এই শারীরিক দুর্ভোগ জীবনকে এক নতুন পথে চালিত করল এবং তাঁর বিখ্যাত বই ‘মিসেস ফানিবোনস’-এর নামকরণের ইতিহাস কী।
Advertisement
ভাঙা হাড়ের যন্ত্রণা থেকেই লেখার জন্ম
লেখক টুইঙ্কেল খান্নার জন্য হাড় ভাঙা যেন একটি নিয়মিত ঘটনা। শৈশব থেকেই জীবনের একটি দীর্ঘ সময় ধরে তিনি এই যন্ত্রণা ভোগ করেছেন।
Advertisement
টুইঙ্কেল খান্না বলেন:
Advertisement
“আমার শরীরের প্রতিটি হাড় ভেঙেছিল, প্রতিটি একক হাড়। কিচ্ছু বাকি নেই। আমার টেইলবোন, কলারবোন, হাত ও পা ভেঙেছিল। আমার বাঁ দিকে ৪০টি এবং ডান দিকে ১০টি লিগামেন্ট টিয়ার হয়েছিল।”
এই কথা শুনে যে কেউ অবাক হতে বাধ্য! অভিনেত্রী জানান, তাঁর প্রথম হাড় ভাঙার ঘটনা ঘটে যখন তাঁর বয়স মাত্র আট বা নয় বছর। জানালা থেকে পড়ে তাঁর কলারবোন ভেঙে গিয়েছিল, এরপর সাইকেল থেকে পড়ে যাওয়া সহ আরও নানা দুর্ঘটনা ঘটেছে।
বন্দিদশার বিদ্যালয়
এই গুরুতর আঘাত এবং লিগামেন্ট ছেঁড়ার কারণে তাঁকে দীর্ঘ সময় ঘরবন্দি জীবন কাটাতে হয়েছিল। সেই যন্ত্রণার দিনগুলোর কথা স্মরণ করে তিনি বলেন:
“দীর্ঘ সময়টা আমার জন্য অনেক দুঃখের কারণ হয়েছিল।”
“একই সময়ে এই সময়টি আমাকে বসে থাকার এবং লেখার সুযোগ করে দেয়।”
যেহেতু তিনি নড়াচড়া করতে পারতেন না, তাই তাঁর কাছে অন্য কোনো বিকল্প ছিল না। তিনি বিশ্বাস করেন, লেখক হিসেবে তাঁর বর্তমান পরিচিতি এই কঠিন সময়েরই ফল।
মিসেস ফানিবোনস’ নামের পেছনের মজার কাহিনি
২০১৫ সালে প্রকাশিত টুইঙ্কেল খান্নার বই ‘মিসেস ফানিবোনস’ ছিল তাঁর বিভিন্ন কলামের সংকলন এবং প্রকাশের পরপরই এটি একটি বেস্ট সেলার বই হয়ে ওঠে। কিন্তু এই অদ্ভুত নামের পেছনে কারণ কী?
টুইঙ্কেল খান্না প্রকাশ করেছেন যে তিনি নিজেই এই নামটি দিয়েছিলেন। যখন তিনি একটি টুইটার (বর্তমানে X) অ্যাকাউন্ট খুলতে চেয়েছিলেন, তখন ‘TwinkleKhanna’ ইউজারনেমটি অনুপলব্ধ ছিল। ঠিক তখনই তিনি নিজের সম্পর্কে গভীরভাবে ভাবতে শুরু করেন।
“তখন আমি ভাবলাম—আমি একটু মজার মানুষ। কারণ আমার এত ‘ফানিবোনস’ (ভাঙা হাড়) আছে। এভাবেই ‘মিসেস ফানিবোনস’-এর জন্ম।”
এই হাস্যরসাত্মক দৃষ্টিভঙ্গিই তাঁকে পাঠকদের মধ্যে ‘মিসেস ফানিবোনস’ হিসেবে প্রতিষ্ঠা করেছে।
সাহিত্যিক টুইঙ্কেলের লেখালেখি ও আগামীর পরিকল্পনা
টুইঙ্কেল খান্না (ডিম্পল কাপাডিয়া এবং রাজেশ খান্নার মেয়ে) শুধু একজন সফল লেখকই নন, তিনি নিজেকে আরও উন্নত করেছেন আনুষ্ঠানিক শিক্ষার মাধ্যমে।
গত বছর, তিনি ইউনিভার্সিটি অফ লন্ডন থেকে ফিকশন রাইটিংয়ে (Fiction Writing) স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেছেন। তাঁর সমাবর্তন অনুষ্ঠানে স্বামী অক্ষয় কুমার তাঁর হাত ধরে উপস্থিত ছিলেন।
তাঁর প্রথম বইয়ের সিক্যুয়েল, ‘মিসেস ফানিবোনস রিটার্নস’ মূল বই প্রকাশের দশ বছর পরে প্রকাশিত হয়। এখন পর্যন্ত তিনি পাঁচটি বই প্রকাশ করেছেন এবং বর্তমানে তিনি তাঁর ৬ষ্ঠ বই (একটি উপন্যাস) নিয়ে ব্যস্ত রয়েছেন।
ব্যক্তিগত জীবন ও পরিবার
টুইঙ্কেল ২০০১ সালের ১৭ জানুয়ারি বলিউড অভিনেতা অক্ষয় কুমারকে বিয়ে করেন। তাঁদের প্রথম সন্তান আরভ কুমার জন্ম নেয় ২০০২ সালে এবং কন্যা নীতারা কুমার জন্ম নেয় ২০১২ সালে। একজন লেখক হিসেবে ব্যস্ত থাকা সত্ত্বেও তিনি তাঁর পরিবারকে সমান গুরুত্ব দেন।
Also Read:পাকিস্তান মাত্র ৮০ রানে অলআউট — বাংলাদেশ কিভাবে জয় লাভ করলো
পাঠকদের প্রশ্ন
প্রশ্ন: টুইঙ্কেল খান্না কয়টি বই প্রকাশ করেছেন?
উত্তর: এখন পর্যন্ত টুইঙ্কেল খান্না পাঁচটি বই প্রকাশ করেছেন এবং তাঁর ৬ষ্ঠ উপন্যাসটির কাজ বর্তমানে চলছে।
প্রশ্ন: ‘মিসেস ফানিবোনস’ কখন প্রকাশিত হয়েছিল?
উত্তর: ‘মিসেস ফানিবোনস’ বইটি ২০১৫ সালে প্রকাশিত হয়েছিল।
প্রশ্ন: টুইঙ্কেল খান্না কোথায় ফিকশন রাইটিং নিয়ে পড়াশোনা করেছেন?
উত্তর: তিনি ইউনিভার্সিটি অফ লন্ডন থেকে ফিকশন রাইটিংয়ে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেছেন।
পাঠকের জন্য আহ্বান
দুর্ঘটনা এবং শারীরিক ব্যথাকে জীবনের নতুন পথে চালিত করার এই পবিত্র স্মৃতিচারণ আপনার কেমন লাগলো?
নিচে মন্তব্য করে জানান, আপনি টুইঙ্কেল খান্নার জীবন থেকে কী শিখলেন। যদি আপনার নিবন্ধটি ভালো লাগে, তবে আপনার বন্ধুদের সাথে শেয়ার করুন এবং আরও খবর ও নিবন্ধের জন্য আমাদের সোশ্যাল মিডিয়া অনুসরণ করুন।
