Friday, January 2, 2026
Homeখবরশীতকালীন অসুস্থতা: সুস্থও সুরক্ষিত

শীতকালীন অসুস্থতা: সুস্থও সুরক্ষিত

Advertisement

  থাকার জন্য ৫টি জরুরি টিপস!

প্রধান শীতকালীন স্বাস্থ্য সমস্যা এবং তাদের লক্ষণ শ্বাসযন্ত্রের ভাইরাস: সাধারণ ঠান্ডা (সর্দি), কাশি এবং ফ্লু (জ্বর)

সাধারণ ঠান্ডা শীতের শুরুতে তাপমাত্রা কমতে শুরু করলেই এর প্রকোপ দেখা যায়।

Advertisement

লক্ষণ

প্রথমে গলা ব্যথা এবং শুকনো কাশি, নাক বন্ধ, নাক দিয়ে জল ঝরা (পাতলা জলীয় স্রাব), ঘন ঘন হাঁচি, হালকা জ্বর, শরীর ব্যথা, মাথা ব্যথা, ক্ষিধে কমে যাওয়া, এবং দুর্বল বোধ করা।

Advertisement

চিকিৎসা ও প্রতিরোধ

এটি প্রধানত উপরের শ্বাসযন্ত্রের সংক্রমণ যা সাধারণত ৭ দিনের মধ্যে নিজে থেকেই ভালো হয়ে যায়। এই সময় হালকা গরম জল পান করা এবং সামান্য উষ্ণ জলে গার্গল করা উপকারী। প্রয়োজনে প্যারাসিটামল এবং অ্যান্টিহিস্টামিন জাতীয় ঔষধ সেবন করা যেতে পারে। মধু, আদা, তুলসী পাতা, কালো জিরা (কালিজিরা) সেবন করলেও উপসর্গ কমাতে সাহায্য করে।

Advertisement

সতর্কতা

কাশির সাথে হলুদ বা সবুজ রঙের কফ (sputum) বের হলে, এবং তার সাথে জ্বর থাকলে, এটি ব্যাকটেরিয়াজনিত সংক্রমণের ইঙ্গিত দিতে পারে, যার জন্য অ্যান্টিবায়োটিকের প্রয়োজন হতে পারে। এমন ক্ষেত্রে চিকিৎসকের পরামর্শ নিন।

সাময়িক ফ্লু এবং ইনফ্লুয়েঞ্জা  এটিও প্রধানত ভাইরাসজনিত। এর লক্ষণগুলো সাধারণ ঠান্ডার মতোই, তবে জ্বর এবং কাশি অনেক বেশি গুরুতর হয়, এবং শ্বাসকষ্টও হতে পারে।

প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা

ইনফ্লুয়েঞ্জা এবং নিউমোনিয়ার টিকা নেওয়া উচিত, বিশেষত দুর্বল বাসিন্দাদের জন্য (নবজাতক, শিশু, বয়স্ক ব্যক্তি, হাঁপানি রোগী)।

দীর্ঘস্থায়ী শ্বাসযন্ত্রের সমস্যা বৃদ্ধি ঠান্ডা, শুষ্ক বাতাস হাঁপানি রোগীদের শ্বাসনালীকে সংকুচিত করে; যা হাঁপানি  সিওপিডি  এবং এম্ফিসেমা -এর তীব্রতা বাড়ায়।

উচ্চ ঝুঁকির গোষ্ঠী

নবজাতক, শিশু, বয়স্ক ব্যক্তি, হাঁপানি রোগী এবং ধূমপায়ীরা এই সময়ে সবচেয়ে বেশি ভোগেন।

 অন্যান্য সংক্রমণ এবং প্রদাহ

শীতের তীব্রতায় সাইনাস, কান এবং টনসিলের প্রদাহও বাড়ে, যেমন সাইনুসাইটিস (Sinusitis), টনসিলাইটিস (Tonsillitis), এবং ওটিটিস । বেশিরভাগ ক্ষেত্রে এগুলোর জন্য চিকিৎসকের পরামর্শ এবং প্রায়শই অ্যান্টিবায়োটিকের প্রয়োজন হয়।

আর্থ্রাইটিস এবং গাঁটের ব্যথা

শীতকালে আর্থ্রাইটিস বা গাঁটের ব্যথা বেড়ে যায়। এই সমস্যাটি বয়স্কদের মধ্যে, বিশেষ করে যারা রিউমাটয়েড আর্থ্রাইটিস  বা অস্টিওআর্থ্রাইটিস এ ভোগেন, তাদের মধ্যে আরও প্রকট হয়।

করণীয়

ঠান্ডার হাত থেকে রক্ষা পেতে গরম কাপড়, রুম হিটার, গ্লাভস এবং কান ঢাকা টুপি ব্যবহার করুন এবং প্রতিদিন সামান্য উষ্ণ জলে স্নান করুন।

 ত্বকের সমস্যা এবং চর্মরোগ

কম বায়ুমণ্ডলীয় আর্দ্রতার কারণে, শুষ্ক বাতাস ত্বক থেকে জল টেনে নেয়, যা ত্বককে আরও শুষ্ক করে তোলে, ফলে ত্বক ফাটা এবং চর্মরোগের (যেমন: একজিমা, চুলকানি, খোসপাঁচড়া) সৃষ্টি হয়।

ত্বকের যত্নে করণীয়

Also Read:কেন হলুদ ও মধুর মিশ্রণ হবে আ

নিয়মিত ভ্যাসলিন বা গ্লিসারিন, ভালো মানের তেল বা ময়েশ্চারাইজিং লোশন ব্যবহার করুন। ঠোঁট চাটা এড়াতে লিপ জেল বা লিপ বাম ব্যবহার করুন।

জিজ্ঞাস্য 

ঠান্ডা লাগা এবং কাশির জন্য কি অ্যান্টিবায়োটিক নেওয়া উচিত?

উত্তর: বেশিরভাগ সর্দি-কাশি  ভাইরাসজনিত এবং নিজে থেকেই ভালো হয়ে যায়। ভাইরাসের বিরুদ্ধে অ্যান্টিবায়োটিক অকার্যকর। তবে, কাশির সাথে হলুদ বা সবুজ কফ এবং জ্বর থাকলে, ব্যাকটেরিয়ার আক্রমণের কারণে অ্যান্টিবায়োটিকের প্রয়োজন হতে পারে। এমন ক্ষেত্রে সর্বদা চিকিৎসকের পরামর্শ নিন।

 শীতে ত্বকের আর্দ্রতা বজায় রাখার সেরা উপায় কী?

উত্তর: নিয়মিত ময়েশ্চারাইজিং লোশন, ভ্যাসলিন বা গ্লিসারিন ব্যবহার করা। জলের অভাব রোধ করতে, গরম জলের পরিবর্তে হালকা উষ্ণ জলে স্নান করা ভালো।

ডিসক্লেইমার 

এই নিবন্ধে “শীতকালীন অসুস্থতা: সুস্থ ও সুরক্ষিত থাকার জন্য ৫টি জরুরি টিপস!”-এ উপস্থাপিত তথ্য এবং সমস্ত সম্পর্কিত সামগ্রী (পাঠ্য, গ্রাফিক্স, ছবি সহ) শুধুমাত্র সাধারণ তথ্য ও শিক্ষামূলক উদ্দেশ্যে দেওয়া হয়েছে।

সম্পর্কিত প্রবন্ধ

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

সবচেয়ে বেশি পঠিত