Advertisement
পাকিস্তান ও বাংলাদেশের রাজনীতিতে একটি অধ্যায়ের সমাপ্তি ঘটেছে। বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) চেয়ারপারসন এবং সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার দাফন সম্পন্ন হওয়ার পর তার পরিবারের সদস্যরা নিয়মিত মাজার জিয়ারত করে যাচ্ছেন। শুক্রবার ২ জানুয়ারি ২০২৬ সকালে বেগম খালেদা জিয়ার নাতনি জাইমা রহমান পরিবারের অন্যান্য সদস্যদের সাথে নিয়ে তার দাদির শেষ বিদায়ের স্থানে উপস্থিত হন এবং মোনাজাত করেন।
ঢাকার চন্দ্রিমা উদ্যানে (জিয়া উদ্যান) জাইমা রহমান যখন প্রায় ২০ জন পরিবারের সদস্য নিয়ে পৌঁছান তখন সেখানে এক আবেগঘন পরিবেশের সৃষ্টি হয়। বেগম খালেদা জিয়াকে তার স্বামী সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের পাশে সমাহিত করা হয়েছে।
Advertisement
জাইমা রহমান ও পরিবারের মাজার জিয়ারত
সকাল আনুমানিক ১০ টা ৩০ মিনিটে কড়া নিরাপত্তা ব্যবস্থার মধ্য দিয়ে জাইমা রহমান জিয়া উদ্যানে পৌঁছান। তার সাথে ছিলেন বেগম খালেদা জিয়ার ছোট ছেলে প্রয়াত আরাফাত রহমান কোকোর স্ত্রী সৈয়দা শর্মিলা রহমান সিঁথি এবং পরিবারের অন্যান্য ঘনিষ্ঠ আত্মীয়স্বজন।
Advertisement
জিয়ারতের বিশেষ মুহূর্তগুলো
Advertisement
ফাতেহা পাঠ জাইমা রহমান ও পরিবারের সদস্যরা মাজারের পাশে বেশ কিছুক্ষণ সময় কাটান এবং অত্যন্ত শান্তভাবে দোয়া ও মোনাজাতে অংশ নেন।
শ্রদ্ধা নিবেদন পরিবারের পক্ষ থেকে কবরে পুষ্পস্তবক অর্পণ করা হয় এবং তাদের মহান নেত্রী ও পরিবারের অভিভাবকের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানানো হয়।
প্রস্থান জিয়ারত শেষে সকাল আনুমানিক ১০ টা ৪০ মিনিটে পরিবারের সকল সদস্য নীরবে মাজার প্রাঙ্গণ ত্যাগ করেন।
রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় দাফন সম্পন্ন
উল্লেখ্য যে বেগম খালেদা জিয়া সম্প্রতি পরলোকগমন করেছেন এবং গত বুধবার ৩১ ডিসেম্বর ২০২৫ তারিখে তাকে পূর্ণ রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় দাফন করা হয়েছে। বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান ও তার ছেলে তারেক রহমানের তত্ত্বাবধানে এবং পরিবারের অন্যান্য সদস্যদের সাথে পরামর্শ করে দাফনের সমস্ত কাজ সম্পন্ন করা হয়।
দাফনের আগে সশস্ত্র বাহিনীর পক্ষ থেকে তাকে গার্ড অফ অনার প্রদান করা হয় যা জাতির প্রতি তার সেবার স্বীকৃতিস্বরূপ একটি মর্যাদাপূর্ণ সম্মান।
ঐতিহাসিক জানাজা ও জনগণের শ্রদ্ধা
বেগম খালেদা জিয়ার মৃত্যুতে পুরো দেশে শোকের ছায়া নেমে আসে। তার জানাজা জাতীয় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজা এবং বিশাল মানিক মিয়া এভিনিউতে অনুষ্ঠিত হয় যেখানে লক্ষ লক্ষ সাধারণ মানুষ রাজনৈতিক নেতা ও সুশীল সমাজের প্রতিনিধিরা সমবেত হন।
পর্যবেক্ষকদের মতে এটি ঢাকার ইতিহাসের অন্যতম বৃহত্তম জানাজা ছিল যা প্রমাণ করে যে জনগণের হৃদয়ে বেগম খালেদা জিয়া এখনো এক বিশেষ স্থানে অধিষ্ঠিত।
এক নজরে জিয়ারতের তথ্য
| তথ্যের বিষয় | বিস্তারিত |
| জিয়ারতকারীর নাম | জাইমা রহমান ও পরিবারের সদস্যরা |
| তারিখ ও সময় | ২ জানুয়ারি ২০২৬ সকাল ১০ টা ৩০ মিনিট |
| স্থান | জিয়া উদ্যান (চন্দ্রিমা উদ্যান) ঢাকা |
| সাথে ছিলেন | সৈয়দা শর্মিলা রহমান এবং অন্যান্য আত্মীয় |
also read:রুকাইয়া জাহান চমকের চুরি চম চম না কি কোনো বড় চাল ভাইরাল ভিডিওর আড়ালে থাকা সেই রহস্য
সাধারণ কিছু জিজ্ঞাসা ও উত্তর
১ জাইমা রহমান কে?
জাইমা রহমান হলেন সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার নাতনি এবং বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের কন্যা।
২ বেগম খালেদা জিয়াকে কোথায় সমাহিত করা হয়েছে?
তাকে ঢাকার জিয়া উদ্যানে তার স্বামী সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের কবরের পাশে সমাহিত করা হয়েছে।
৩ খালেদা জিয়ার দাফনে কি রাষ্ট্রীয় মর্যাদা দেওয়া হয়েছিল?
হ্যাঁ তাকে পূর্ণ রাষ্ট্রীয় প্রটোকল অনুযায়ী দাফন করা হয়েছে যার মধ্যে সশস্ত্র বাহিনীর গার্ড অফ অনার অন্তর্ভুক্ত ছিল।
সারসংক্ষেপ এবং পাঠকদের মতামত
বেগম খালেদা জিয়ার মৃত্যু বাংলাদেশের রাজনীতিতে এক বিশাল শূন্যতার সৃষ্টি করেছে। জাইমা রহমানের মাজার জিয়ারত পরিবারের পক্ষ থেকে তাদের পূর্বসূরিদের আদর্শ ও রাজনৈতিক সংগ্রাম এগিয়ে নেওয়ার দৃঢ় সংকল্পের প্রতিফলন হিসেবে দেখা হচ্ছে।
বেগম খালেদা জিয়ার রাজনৈতিক অবদানকে আপনি কীভাবে স্মরণ করবেন? আপনি কি মনে করেন ভবিষ্যতে জাইমা রহমান বিএনপির নেতৃত্বে আসতে পারেন? আপনার মূল্যবান মতামত কমেন্টে জানান এবং এই খবরটি শেয়ার করুন।
সতর্কবার্তা
এই সংবাদটি বিভিন্ন নির্ভরযোগ্য উৎস এবং জনসমক্ষে উপলব্ধ তথ্যের ওপর ভিত্তি করে তৈরি করা হয়েছে। প্রদত্ত বিষয়বস্তু শুধুমাত্র তথ্য ও বিনোদনের উদ্দেশ্যে যা কোনো চূড়ান্ত বা নিশ্চিত বিবৃতি হিসেবে গণ্য করা উচিত নয়। সংবাদের মতামত বা বিশ্লেষণ লেখকের ব্যক্তিগত এবং কোনো প্রতিষ্ঠান বা সংস্থার প্রতিনিধিত্ব করে না। সময়ের সাথে সাথে তথ্যের পরিবর্তন হতে পারে তাই যাচাইয়ের জন্য পাঠকদের অফিশিয়াল উৎসে যোগাযোগ করার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। এই সংবাদের তথ্যের ওপর নির্ভর করে কোনো ভুল বোঝাবুঝি বা ক্ষতির জন্য দায় স্বীকার করা হবে না।
