Friday, January 2, 2026
Homeখবরজেসিডিইউ নির্বাচন তৃতীয় দিনে প্রবেশ, গণনা বিলম্বে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে

জেসিডিইউ নির্বাচন তৃতীয় দিনে প্রবেশ, গণনা বিলম্বে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে

Advertisement

ভূমিকা

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (জেসিডিইউ) নির্বাচন তৃতীয় দিনে গড়ালেও এখনও পূর্ণাঙ্গ ফলাফল ঘোষণা করা হয়নি। এতে শিক্ষার্থী, শিক্ষক ও প্রার্থীদের মধ্যে ক্ষোভ ও বিতর্ক দেখা দিয়েছে। প্রশাসনের রাতারাতি ফল ঘোষণা করার আশ্বাস সত্ত্বেও হাতে কলমে ভোট গণনা অব্যাহত রয়েছে। এই প্রতিবেদনে দেরির কারণ, বিতর্ক এবং ছাত্র রাজনীতির ভবিষ্যতের ওপর এর সম্ভাব্য প্রভাব তুলে ধরা হলো।


এখন পর্যন্ত যা জানা গেছে: ভোট গণনা ও উপস্থিতি

  • গণনা সম্পন্ন হওয়া হল: ২১টি আবাসিক হলের মধ্যে ২০টির ভোট গণনা শেষ হয়েছে; কেবল তারামন বিবি হল বাকি।
  • হাতে গণনা: প্রার্থীদের আপত্তির পর ওএমআর (Optical Mark Recognition) মেশিন ব্যবহারের সিদ্ধান্ত বাতিল করা হয়।
  • ভোটার উপস্থিতি: ১১,৭৪৩ নিবন্ধিত ভোটারের মধ্যে প্রায় ৬৭% ভোট দিয়েছেন।
  • ভোটগ্রহণের সময়সূচি: বৃহস্পতিবার ভোট হয় এবং সেদিনই গণনা শুরু হয়, যা এখনও চলমান।

ফলাফল ঘোষণায় বিলম্বের প্রধান কারণ

১. হাতে বনাম মেশিনে গণনা

প্রথমে ওএমআর মেশিন ব্যবহার করার কথা ছিল। কিন্তু কয়েকজন প্রার্থীর আপত্তির কারণে হাতে গণনা শুরু হয়, যা অনেক বেশি সময়সাপেক্ষ।

Advertisement

২. প্রশাসনিক বিলম্ব ও দুর্বল যোগাযোগ

প্রশাসন ও নির্বাচন কমিশন রাতারাতি ফল প্রকাশের আশ্বাস দিলেও শনিবার সকাল পর্যন্ত ফলাফল অসম্পূর্ণ ছিল। এতে সমালোচনা বেড়েছে।

Advertisement

৩. অনিয়মের অভিযোগে পদত্যাগ

নির্বাচন কমিশনের সদস্য প্রফেসর মোফারিহি সাত্তার অনিয়ম ও অন্যায্য পরিবেশের অভিযোগে পদত্যাগ করেন। তিনি জানান, পদত্যাগ না করার জন্য চাপ থাকলেও তিনি দুর্নীতি উপেক্ষা করতে পারেননি।
অন্যদিকে, ইসলামী ছাত্রশিবির-সমর্থিত “কম্বাইন্ড স্টুডেন্ট অ্যালায়েন্স”-এর সহকারী সাধারণ সম্পাদক প্রার্থী ফেরদৌস আল হাসান অভিযোগ করেন, এই পদত্যাগ নির্বাচনকে প্রশ্নবিদ্ধ করার চেষ্টা এবং কমিশনার “মাঠ ছেড়ে পালিয়েছেন।”

Advertisement

৪. করুণ মৃত্যুতে চাপ আরও স্পষ্ট

গণনার সময় সহকারী অধ্যাপক জানতুল ফেরদৌস হঠাৎ অসুস্থ হয়ে মারা যান। এ ঘটনা কর্মীদের ওপর অতিরিক্ত চাপ ও দীর্ঘমেয়াদি হাতে গণনার ঝুঁকি সামনে নিয়ে আসে।


অংশীদারদের প্রতিক্রিয়া

অংশীদারমূল বার্তা / অবস্থান
প্রার্থী ও সমর্থকরাস্বচ্ছতা ও সমান সুযোগের দাবি; ফলাফলের গ্রহণযোগ্যতা নিয়ে উদ্বেগ।
ফেরত কর্মকর্তা / শিক্ষকরাক্লান্তি ও স্বাস্থ্যঝুঁকির অভিযোগ; একজন কর্মকর্তা বর্তমান শর্তে বয়কট করেন।
প্রশাসন ও নির্বাচন কমিশনবিলম্বে দুঃখ প্রকাশ, গণনার টেবিল বাড়ানো, এবং প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন সব হলের গণনা শেষ হলে ফলাফল ঘোষণা করা হবে।

কী ঝুঁকির মুখে: স্বচ্ছতা, আস্থা ও ছাত্র রাজনীতি

এই দেরি কেবল প্রশাসনিক নয় — এটি শিক্ষার্থীদের আস্থার সংকট তৈরি করছে।

  • আস্থার ক্ষয়: শিক্ষার্থীরা প্রশ্ন তুলতে পারে নির্বাচনের ন্যায্যতা নিয়ে।
  • রাজনৈতিক মেরুকরণ: বিলম্ব ও অভিযোগে ক্যাম্পাসে বিভাজন আরও বাড়তে পারে।
  • দৃষ্টান্ত তৈরি: যেভাবে এই নির্বাচন পরিচালিত হচ্ছে, তা ভবিষ্যতের ছাত্র সংসদ নির্বাচনের কাঠামো নির্ধারণ করবে।

করণীয়: সুপারিশ ও সময়সূচি

আস্থা পুনরুদ্ধারে জরুরি পদক্ষেপ:

  • স্বচ্ছ আপডেট — নির্বাচন কমিশনকে নিয়মিতভাবে গণনার অগ্রগতি জানাতে হবে।
  • নিরপেক্ষ পর্যবেক্ষণ — শিক্ষক বা সিভিল সোসাইটি প্রতিনিধি পর্যবেক্ষণে রাখতে হবে।
  • গণনার পদ্ধতির পর্যালোচনা — ভবিষ্যতে ওএমআর বা হাইব্রিড সিস্টেম বিবেচনা করা উচিত।
  • কর্মীদের সহায়তা — বিশ্রাম, চিকিৎসা সুবিধা ও যথাযথ সময়সূচি নিশ্চিত করা জরুরি।
  • চূড়ান্ত সময়সীমা — ফলাফলের জন্য স্পষ্ট ও নির্ধারিত সময় ঘোষণা করতে হবে।

প্রায়শই জিজ্ঞাসিত প্রশ্ন (FAQs)

প্রশ্ন: ওএমআর মেশিন ব্যবহার কেন বাতিল হলো?
উত্তর: প্রার্থীরা স্বচ্ছতা নিয়ে আপত্তি করায় হাতে গণনা শুরু হয়।

প্রশ্ন: কতজন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন এবং কোন কোন পদে?
উত্তর: কেন্দ্রীয় জেসিডিইউ নির্বাচনে ১৭৭ জন প্রার্থী ২৫টি পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন, যার মধ্যে সহ-সভাপতি, সাধারণ সম্পাদকসহ অন্যান্য পদ রয়েছে।

প্রশ্ন: ফলাফল ঘোষণার কোনো সময়সীমা আছে কি?
উত্তর: কমিশন জানিয়েছিল শুক্রবার রাতের মধ্যে ফল আসবে, কিন্তু শনিবার সকাল পর্যন্তও তা সম্পূর্ণ হয়নি।


উপসংহার

জেসিডিইউ নির্বাচনের বিলম্ব কেবল ভোট গণনার সমস্যা নয় — এটি স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিয়ে বেড়ে ওঠা উদ্বেগকে সামনে এনেছে। যদিও ভোটার উপস্থিতি ছিল উল্লেখযোগ্য, তবে এই নির্বাচনের বিশ্বাসযোগ্যতা এখন নির্ভর করছে কত দ্রুত এবং কতটা স্বচ্ছতার সঙ্গে ফলাফল প্রকাশ করা হয়।


আহ্বান

আপনার মতে ছাত্র সংসদ নির্বাচনে স্বচ্ছতা ও আস্থা নিশ্চিত করার সবচেয়ে কার্যকর উপায় কী হতে পারে? আপনি কি ডিজিটাল বা ওএমআর-ভিত্তিক গণনার পক্ষে? মন্তব্যে আপনার মতামত জানান, এবং আরও আপডেটের জন্য আমাদের নিউজলেটার সাবস্ক্রাইব করুন বা সামাজিক মাধ্যমে অনুসরণ করুন।

সম্পর্কিত প্রবন্ধ

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

সবচেয়ে বেশি পঠিত