Advertisement
পরিচিতি
শনিবার সকাল পর্যন্ত, ঢাকার বায়ু মান “মধ্যম” (Moderate) পর্যায়ে রেকর্ড করা হয়েছে। সকাল ৯:১৪ মিনিটে এয়ার কোয়ালিটি ইনডেক্স (AQI) ৫৯ ছিল, যা ঢাকাকে বিশ্বের ৩৬তম সর্বাধিক দূষিত শহর হিসাবে স্থান দেয়। যদিও এই স্তর খুব বিপজ্জনক নয়, বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করেছেন যে সংবেদনশীল গোষ্ঠীর মানুষদের এখনও সতর্ক থাকতে হবে।
এই রিপোর্টে ঢাকার বর্তমান বায়ু পরিস্থিতি, এর কারণসমূহ, আন্তর্জাতিক প্রেক্ষাপট এবং নাগরিকদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ নিরাপত্তা নির্দেশনা তুলে ধরা হয়েছে।
Advertisement
এয়ার কোয়ালিটি ইনডেক্স (AQI) কী?
AQI হলো একটি দৈনিক সূচক যা বায়ুর মান রিপোর্ট করে। এটি নাগরিকদের জানায় যে তাদের এলাকার বায়ু কতটা পরিষ্কার বা দূষিত এবং এর সম্ভাব্য স্বাস্থ্য প্রভাব কী হতে পারে।
Advertisement
AQI স্তর:
Advertisement
- 0–50: ভালো (Good)
- 51–100: মধ্যম (Moderate)
- 101–150: সংবেদনশীলদের জন্য অসুস্থকর (Unhealthy for sensitive groups)
- 151–200: অসুস্থ (Unhealthy)
- 201–300: খুব অসুস্থ (Very Unhealthy)
- 301+: বিপজ্জনক (Hazardous)
আন্তর্জাতিক প্রেক্ষাপট: ঢাকা কোথায় দাঁড়াচ্ছে?
অন্যান্য শহরের তুলনায়, ঢাকার বায়ু বর্তমানে তুলনামূলকভাবে ভালো:
- কিনশাসা (ডিআর কঙ্গো): AQI 159
- মানিলা (ফিলিপাইন): AQI 157
- কায়রো (মিশর): AQI 153
- ঢাকা (বাংলাদেশ): AQI 59
এই তথ্য দেখায় যে ঢাকাটি এখনো বিপজ্জনক অঞ্চলে নেই, তবে ইতিহাস প্রমাণ করে যে শীতকালে বায়ু দূষণ প্রায়শই উদ্বেগজনক মাত্রায় পৌঁছে।
ঢাকার বায়ু দূষণের কারণসমূহ
ঢাকা বহু বছর ধরে বায়ু দূষণের সমস্যার মুখোমুখি, যা বেশ কয়েকটি কারণে হচ্ছে:
- যানবাহনের ধোঁয়া: দ্রুত বাড়ছে যানবাহনের সংখ্যা।
- শিল্প কলকারখানার বর্জ্য: ফ্যাক্টরি ও ইটভাটার ধোঁয়া।
- নির্মাণ কাজ: ধুলার মাত্রা বৃদ্ধি।
- মৌসুমী প্রভাব: শীতকালে দূষণ বৃদ্ধি পায়, বর্ষায় কমে।
স্বাস্থ্য প্রভাব: বিশেষজ্ঞদের সতর্কবার্তা
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (WHO) অনুযায়ী, বায়ু দূষণ প্রতি বছর প্রায় ৭ মিলিয়ন মানুষকে হত্যা করে।
প্রধান স্বাস্থ্য ঝুঁকি:
- স্ট্রোক (Stroke)
- হৃদরোগ (Heart disease)
- ক্রনিক অবস্ট্রাকটিভ পালমোনারি ডিজিজ (COPD)
- ফুসফুসের ক্যান্সার
- মারাত্মক শ্বাসকষ্টজনিত সংক্রমণ
যদিও বর্তমানে বায়ু মান “মধ্যম”, শিশু, প্রবীণ এবং হাঁপানি বা হৃদরোগে ভুগছেন এমন ব্যক্তিদের দীর্ঘ সময় বাইরে থাকা এড়াতে হবে।
AQI কীভাবে পরিমাপ করা হয়?
বাংলাদেশে AQI পাঁচটি মূল দূষক উপাদানের ওপর ভিত্তি করে পরিমাপ করা হয়:
- PM10 এবং PM2.5 কণিকা
- নাইট্রোজেন ডাই অক্সাইড (NO₂)
- কার্বন মনোক্সাইড (CO)
- সালফার ডাই অক্সাইড (SO₂)
- ওজোন (O₃)
এর মধ্যে PM2.5 কণিকা সবচেয়ে বিপজ্জনক কারণ এটি ফুসফুসের গভীরে প্রবেশ করে দীর্ঘমেয়াদি ক্ষতি করতে পারে।
নাগরিকদের জন্য সতর্কতা নির্দেশনা
- সকালে এবং সন্ধ্যায় অপ্রয়োজনীয়ভাবে বাইরে যাওয়া এড়ানো।
- মাস্ক ব্যবহার করুন (N95 বা সার্জিক্যাল)।
- ঘরে এয়ার পিউরিফায়ার ব্যবহার করুন বা গাছ লাগান।
- পর্যাপ্ত পানি পান করুন এবং সুষম খাদ্য গ্রহণ করুন।
- দূষিত দিনে শিশু ও প্রবীণদের বাইরে খেলা বা ব্যায়াম থেকে বিরত রাখুন।
প্রায়শই জিজ্ঞাসিত প্রশ্নাবলী (FAQs)
প্র: ঢাকার বায়ু কখন সবচেয়ে দূষিত হয়?
উ: সাধারণত শীতকালে, বর্ষায় বায়ু তুলনামূলকভাবে পরিষ্কার থাকে।
প্র: বর্তমানে সাধারণ জনগণের জন্য এটি নিরাপদ কি?
উ: হ্যাঁ, তবে সংবেদনশীল গোষ্ঠীর মানুষদের এখনও সতর্ক থাকা উচিত।
প্র: দূষণ কমাতে সরকার কী ব্যবস্থা নিচ্ছে?
উ: সরকার ইটভাটায় নিয়ন্ত্রণ কড়া করেছে এবং পাবলিক ট্রান্সপোর্ট উন্নয়নে কাজ করছে, তবে আরও পদক্ষেপ প্রয়োজন।
উপসংহার
ঢাকার বায়ু মান বর্তমানে “মধ্যম” অঞ্চলে রয়েছে, তবে এই স্বস্তি দীর্ঘস্থায়ী নাও হতে পারে। বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করে বলেছেন যে দীর্ঘমেয়াদি পদক্ষেপ ছাড়া শীতকালে দূষণ আবারও বিপজ্জনক পর্যায়ে পৌঁছাতে পারে। নাগরিক ও সরকারকে মিলিতভাবে পদক্ষেপ নিতে হবে, যা কেবল স্বাস্থ্য রক্ষা নয়, পরিবেশ রক্ষার জন্যও গুরুত্বপূর্ণ।
কার্যকর আহ্বান
আপনার মতে, ঢাকায় বায়ু দূষণ কমানোর সবচেয়ে কার্যকর পদক্ষেপ কী হতে পারে? আপনার মতামত কমেন্টে জানান, এবং আরও আপডেটের জন্য আমাদের নিউজলেটার সাবস্ক্রাইব করুন অথবা সোশ্যাল মিডিয়ায় ফলো করুন।
