Friday, January 2, 2026
Homeট্রেন্ডিংনুরুল হক নুরের সাহসী অবস্থান: "আমার সরকারি বন্দুকধারীদের দরকার নেই; প্রথমে আমার...

নুরুল হক নুরের সাহসী অবস্থান: “আমার সরকারি বন্দুকধারীদের দরকার নেই; প্রথমে আমার হামলাকারীদের শাস্তি দিন”

Advertisement

বাংলাদেশে নতুন রাজনৈতিক উত্তেজনার ঝড় উঠেছে। পিপলস রাইটস কাউন্সিলের সভাপতি ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রিয় ছাত্র সংসদের (DUCSU) প্রাক্তন ভিপি নুরুল হক নুর স্পষ্টভাবে সরকারের দেওয়া ব্যক্তিগত নিরাপত্তা ও সশস্ত্র বন্দুকধারীদের প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেছেন।

সোমবার, ২২ ডিসেম্বর ২০২৫, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে একটি প্রতিবাদ সমাবেশে নুর স্পষ্ট করে বলেন, তিনি কোনো সরকারি প্রটোকল বা নিরাপত্তা গ্রহণ করবেন না যতক্ষণ না অতীতের রাজনৈতিক হামলার দায়ীদের বিচারের মুখোমুখি করা হয়।

Advertisement

ছয় বছরের DUCSU হামলার বার্ষিকী: একটি অন্ধকার দিনের স্মৃতি

নুরের এই বক্তব্য এসেছে DUCSU ভবনের ভিতরে তার ও সহকর্মীদের উপর নির্মম হামলার ছয়তম বার্ষিকীতে। ছয় বছর আগে একটি সহিংস দলে নুর ও অনেক ছাত্র আহত হন।

Advertisement

সমাবেশে তিনি বলেন:
“আমি সরকার প্রদত্ত বন্দুকধারীদের গ্রহণ করি না যতক্ষণ না আমাকে এবং আমার সহকর্মীদের লক্ষ্য করে করা হামলার দায়ীদের শাস্তি দেয়া হয়। এটি ব্যঙ্গাত্মক যে, আমাদের নিজস্ব অফিসের সামনে আমাদের উপর আক্রমণ করা হয়েছে, অথচ তখনও যিনি নিরাপত্তায় থাকা উচিত ছিলেন, তারা দাঁড়িয়েছিলেন।”

Advertisement

“শুধুমাত্র নেতাদের সুরক্ষা দেশকে সুরক্ষিত করে না”

নুর প্রশাসন ও আইন-শৃঙ্খলা সংস্থার কৌশলকে সমালোচনা করেছেন। তিনি বলেন, রাজনৈতিক নেতাদের জন্য ব্যক্তিগত নিরাপত্তা দেওয়া দেশের স্থায়ী নিরাপত্তার সমাধান নয়।

মূল বক্তব্য:

  • প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কারের প্রয়োজন: নুর বলেন, শুধুমাত্র একটি ব্যক্তিকে বন্দুকধারী দেওয়া দেশের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পারে না। পুরো নিরাপত্তা ব্যবস্থা পুনর্গঠন করা জরুরি।
  • নির্বাচনী পরিবেশ: শুধুমাত্র প্রার্থীদের রক্ষা করে সাধারণ ভোটাররা নিরাপদ বোধ না করলে নির্বাচনে অংশ নেবে না।
  • আইন ও শৃঙ্খলা: প্রশাসনকে অরাজনৈতিক ভিত্তিতে কাজ করতে হবে যাতে দীর্ঘস্থায়ী শান্তি প্রতিষ্ঠিত হয়।

উপদেষ্টা পরিষদকে কঠোর বার্তা

প্রাক্তন DUCSU ভিপি বর্তমান উপদেষ্টা পরিষদকে সরাসরি সতর্ক করেছেন। তিনি বলেছেন, যদি তার জীবনের কোনো ক্ষতি হয় বা পুনরায় আক্রমণ করা হয়, পুরো দায় বর্তমান সরকারের ওপর বর্তাবে — এমনকি তিনি ব্যক্তিগত নিরাপত্তা গ্রহণ না করলেও।

নুরের অবস্থান জনগণের নিরাপত্তার দায় রাষ্ট্রের উপর চাপিয়ে দেয়, প্রিমিয়াম বা ব্যক্তিগত নিরাপত্তা গ্রহণের বদলে।

নুরুল হক নুরের দাবির সংক্ষিপ্তসার

বিষয়নুরের অবস্থান
সরকারি নিরাপত্তাসম্পূর্ণ প্রত্যাখ্যান (যতক্ষণ না বিচার হয়)
দায়বদ্ধতাসর্বোচ্চ অগ্রাধিকার; DUCSU এবং অতীতের হামলার দায়ীদের শাস্তি
নিরাপত্তা সংস্কারআইন-শৃঙ্খলা সংস্থা ও প্রশাসনের পূর্ণ সংস্কার প্রয়োজন
নির্বাচন ২০২৫-২৬ভোটাররা নিরাপদ না হলে ভোট কেন্দ্রে আসবে না

also read:ঢাকার মগবাজারে দুই সহোদরের মর্মান্তিক মৃত্যু, খাদ্যে বিষক্রিয়ার আশঙ্কা

প্রায়শই জিজ্ঞাসিত প্রশ্নাবলী

  1. নুরুল হক নুর কেন সরকারি নিরাপত্তা প্রত্যাখ্যান করেছেন?
    তিনি বিশ্বাস করেন, যতোক্ষণ তার হামলাকারীরা অব্যাহত আছে এবং সাধারণ জনগণ দুর্বল অবস্থায় আছে, ব্যক্তিগত নিরাপত্তা গ্রহণ করা শুধুই খালি প্রিভিলেজ হবে।
  2. DUCSU হামলা কী ছিল?
    ছয় বছর আগে একটি সহিংস দল নুর ও তার অনুসারীদের উপর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে হামলা চালায়। আজকের প্রতিবাদ সেই হামলার ছয়তম বার্ষিকী।
  3. নুরের রাজনৈতিক দাবি কী?
    তিনি স্বচ্ছ নির্বাচন ও পুলিশ ও প্রশাসনে সংস্কার চাচ্ছেন, নেতা-নেত্রীদের ব্যক্তিগত নিরাপত্তা নয়।

উপসংহার: জনগণের নিরাপত্তা বনাম ব্যক্তিগত সুবিধা

নুরুল হক নুরের সিদ্ধান্তকে সমর্থকরা সাহসী পদক্ষেপ হিসেবে অভিহিত করছেন। তার দাবি—”প্রথমে জনগণকে সুরক্ষা দিন”—সোশ্যাল মিডিয়ায় ট্রেন্ডিং।

আপনার মতামত কী? রাজনৈতিক নেতারা কি ব্যক্তিগত নিরাপত্তা প্রত্যাখ্যান করে সরকারের উপর সংস্কার চাপ সৃষ্টি করতে পারে? মন্তব্যে জানান এবং সর্বশেষ রাজনৈতিক আপডেটের জন্য সাবস্ক্রাইব করুন।

ডিসক্লেইমার

এই সংবাদটি বিভিন্ন প্রামাণিক সূত্র এবং প্রকাশিত তথ্যের উপর ভিত্তি করে তৈরি। এখানে প্রদত্ত তথ্য শুধুমাত্র তথ্যবহুল এবং বিনোদনমূলক উদ্দেশ্যে, যা চূড়ান্ত বা নিশ্চিত বিবৃতি হিসেবে বিবেচিত হবে না। এখানে ব্যক্তিগত মতামত, বিশ্লেষণ বা পূর্বাভাস রয়েছে যা লেখকের নিজস্ব দৃষ্টিভঙ্গি প্রতিফলিত করে এবং কোনো প্রতিষ্ঠান বা সংস্থার প্রতিনিধিত্ব করে না। তথ্য সময়ের সাথে পরিবর্তিত হতে পারে, তাই পাঠককে প্রামাণিক বা সরকারি সূত্র থেকে যাচাই করতে পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। এই সংবাদে নির্ভরতার কারণে হওয়া ক্ষতি বা ভুল বোঝার কোনো দায় গ্রহণ করা হবে না।

সম্পর্কিত প্রবন্ধ

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

সবচেয়ে বেশি পঠিত