Advertisement
মোহাম্মদ সবুজ মিয়া, একজন সাহসী সেনা যিনি বাংলাদেশের প্রতিপত্তি ও বিশ্ব শান্তির জন্য তার জীবন উৎসর্গ করেছেন, তার আঞ্চলিক মাটিতে ফিরে এসেছেন। সবুজ মিয়া, যিনি সুদানে জাতিসংঘের শান্তিরক্ষী মিশনের সময় এক সন্ত্রাসী ড্রোন আক্রমণে শহীদ হন, তাকে তার পারিবারিক কবরস্থানে সমাহিত করা হয়েছে ২১ ডিসেম্বর ২০২৫, রোববার বিকেলে।
পূর্ণ এলাকা শোকমগ্ন ছিল, এবং শহীদের প্রতি শ্রদ্ধা প্রকাশের মাধ্যমে বোঝা যাচ্ছিল যে “একজন শহীদ কখনো মরে না; তারা জাতির আত্মায় বেঁচে থাকেন।”
Advertisement
চূড়ান্ত যাত্রা: গাইবান্ধায় কবরদান
শহীদ মোহাম্মদ সবুজ মিয়ার দাফন অনুষ্ঠিত হয় বিকেল ৩:৩০ টায় ছোট ভাগবানপুর, মেহেদিপুর ইউনিয়নের গ্রামে, গাইবান্ধা জেলার পলাশবাড়ি থানার আওতায়। তার ইচ্ছা ও পারিবারিক রীতির সাথে মিল রেখে, তাকে স্থায়ীভাবে সমাহিত করা হয় তার পিতা হাবিব আলকান্দ এবং ঠাকুরমার কবরের ঠিক পাশে।
Advertisement
জানাজার সময় এবং জনসাধারণের উপস্থিতি
- বিশাল সমবেত জনতা: তার বাড়ির কাছে একটি খোলা মাঠে হাজারো মানুষ মিলিত হন জানাজার নামাজে অংশ নেওয়ার জন্য।
- উপস্থিতি: শোকাহত পরিবারের সদস্যদের পাশাপাশি দূরদূরান্ত থেকে আসা মানুষ, উচ্চপদস্থ সেনা কর্মকর্তারা এবং স্থানীয় রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বরা শেষ শ্রদ্ধা জানান।
- রাষ্ট্রীয় মর্যাদা: শহীদরের কফিন বিশেষ হেলিকপ্টারে তুলসীঘাট হেলিপ্যাডে আনা হয়, সেখান থেকে অ্যাম্বুলেন্সে বাড়ি পৌঁছে।
শোকাহত পরিবার: “আমার চোখের আলো চলে গেছে”
সবুজ মিয়ার শহীদত্বের সংবাদ পৌঁছালে তার বাড়িতে শোকাহত মানুষদের ভিড় জমে। তার মা ছাকিনা বেগম এবং বিধবা স্ত্রী নুপুর আখতার অচলিত।
Advertisement
পুরো গ্রাম শোকমগ্ন ছিল। সবুজ মিয়া কেবল একজন সৈনিকই নন, বরং কমিউনিটিতে পরিশ্রমী ও সহায়ক যুবক হিসেবে পরিচিত ছিলেন। তার স্ত্রী নুপুর আখতারের দৃশ্য প্রত্যেকের চোখে অশ্রু এনে দেয়।
সুদানের ড্রোন হামলা: কী ঘটেছিল?
মোহাম্মদ সবুজ মিয়া ২০১০ সালে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীতে যোগদান করেন। তিনি জাতিসংঘের শান্তিরক্ষী মিশনের জন্য নির্বাচিত হন এবং ৭ নভেম্বর সুদানের আবেয়ি অঞ্চলে যাত্রা করেন।
ঘটনার বিবরণ
- তারিখ: ১৩ ডিসেম্বর
- স্থান: আবেয়ি, সুদান
- হামলাকারী: একটি বিচ্ছিন্নতাবাদী সশস্ত্র গোষ্ঠী ড্রোন ব্যবহার করে জাতিসংঘের ঘাঁটিতে হামলা চালায়।
- ফলাফল:
- শহীদ: বাংলাদেশি শান্তিরক্ষী বাহিনীর ছয় সদস্য, যার মধ্যে সবুজ মিয়াও ছিলেন
- আহত: আটজন গুরুতরভাবে আহত
এই হামলা দেখিয়েছে যে ড্রোন প্রযুক্তির খারাপ ব্যবহার শান্তিরক্ষী মিশনের জন্য একটি বড় বিশ্বব্যাপী চ্যালেঞ্জ।
শহীদ মোহাম্মদ সবুজ মিয়া: সময়রেখা
| তারিখ | ঘটনা |
|---|---|
| ২০১০ | বাংলাদেশ সেনাবাহিনীতে যোগদান |
| ৭ নভেম্বর | জাতিসংঘ শান্তিরক্ষী মিশনের জন্য সুদানে যাত্রা |
| ১৩ ডিসেম্বর | নির্দিষ্ট ড্রোন আক্রমণে শহীদ হন |
| ২১ ডিসেম্বর | গাইবান্ধায় পূর্ণ মর্যাদায় দাফন |
জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা এবং বাংলাদেশের ভূমিকা
বাংলাদেশ এখনও বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ শান্তিরক্ষী বাহিনী প্রদানকারী দেশ। মোহাম্মদ সবুজ মিয়ার মতো সাহসী সৈন্যদের ত্যাগ প্রমাণ করে যে বাংলাদেশ যে কোনো মূল্যে বিশ্ব শান্তির জন্য অঙ্গীকারবদ্ধ।
বিশেষজ্ঞরা পরামর্শ দিচ্ছেন যে, এই হামলার পর জাতিসংঘকে তাদের শান্তিরক্ষীদের নিরাপত্তা বাড়ানোর জন্য বিশেষ করে উন্নত অ্যান্টি-ড্রোন সিস্টেম প্রয়োগ করা জরুরি।
প্রায়শই জিজ্ঞাসিত প্রশ্নাবলী (FAQs)
- মোহাম্মদ সবুজ মিয়া কোন জেলার বাসিন্দা ছিলেন?
তিনি গাইবান্ধার পলাশবাড়ি এলাকার বাসিন্দা ছিলেন। - সুদানে হামলা কারা চালিয়েছিল?
একটি বিচ্ছিন্নতাবাদী সশস্ত্র গোষ্ঠী ড্রোন ব্যবহার করে জাতিসংঘের ঘাঁটিতে হামলা চালিয়েছিল। - সবুজ মিয়া কখন সেনাবাহিনীতে যোগদান করেছিলেন?
তিনি ২০১০ সালে সেনাবাহিনীতে যোগদান করেন এবং সেবার মাধ্যমে ক্রমবর্ধমান পদে উন্নীত হন।
উপসংহার: এক ত্যাগ যা কখনও ভুলা যায় না
মোহাম্মদ সবুজ মিয়ার ত্যাগ তার পরিবারকে গভীর শোকে ডুবিয়েছে, তবে পুরো দেশকে গর্বিত করেছে। তিনি এখন তার পিতামাতা ও ঠাকুরমার পাশে শান্তিতে শুয়ে আছেন, তবে তার নাম ইতিহাসের পাতায় স্বর্ণাক্ষরে লেখা থাকবে।
আপনি কি মনে করেন জাতিসংঘকে শান্তিরক্ষীদের ড্রোন আক্রমণ থেকে রক্ষা করার জন্য আরও শক্তিশালী ব্যবস্থা গ্রহণ করা উচিত? মন্তব্যে আপনার মতামত জানান এবং শহীদদের জন্য প্রার্থনা করুন।
ডিসক্লেইমার
এই সংবাদটি বিভিন্ন প্রামাণিক সূত্র এবং প্রকাশিত তথ্যের উপর ভিত্তি করে তৈরি। এখানে প্রদত্ত তথ্য শুধুমাত্র তথ্যবহুল এবং বিনোদনমূলক উদ্দেশ্যে, যা চূড়ান্ত বা নিশ্চিত বিবৃতি হিসেবে গণ্য হবে না। এখানে ব্যক্তিগত মতামত, বিশ্লেষণ বা পূর্বাভাস রয়েছে যা লেখকের নিজস্ব দৃষ্টিভঙ্গি প্রতিফলিত করে এবং কোনো প্রতিষ্ঠান বা সংস্থার প্রতিনিধিত্ব করে না। তথ্য সময়ের সাথে পরিবর্তিত হতে পারে, তাই পাঠককে প্রামাণিক বা সরকারি সূত্র থেকে যাচাই করতে পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। এই সংবাদে নির্ভরতার কারণে হওয়া ক্ষতি বা ভুল বোঝার কোনো দায় গ্রহণ করা হবে না।
