Advertisement
বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকার দেড় বছরের মাইলফলক স্পর্শ করার সঙ্গে সঙ্গে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি দেশের সবচেয়ে আলোচিত বিষয়ে পরিণত হয়েছে। আসন্ন জাতীয় নির্বাচনকে সামনে রেখে নিরাপত্তা পরিস্থিতির অবনতি নিয়ে জনমনে উদ্বেগ বাড়ছে। এরই মধ্যে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে বড় ধরনের রদবদলের গুঞ্জন জোরালো হয়েছে।
বিশ্বস্ত সূত্রের তথ্য অনুযায়ী বর্তমান স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা লেফটেন্যান্ট জেনারেল অবসরপ্রাপ্ত জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরীর জায়গায় নিরাপত্তা উপদেষ্টা ড. খলিল উর রহমানকে স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টার দায়িত্ব দেওয়ার পরিকল্পনা করা হচ্ছে।
Advertisement
স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে পরিবর্তনের প্রয়োজন কেন
গত কয়েক মাসে কয়েকটি ঘটনায় সরকারের কার্যকারিতা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।
Advertisement
শরিফ উসমান হাদী হত্যাকাণ্ডের তদন্তে দৃশ্যমান অগ্রগতি না থাকায় বিভিন্ন সংগঠন জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরীর পদত্যাগ দাবি করে
এক অনুষ্ঠানে সন্ত্রাসী গ্রেপ্তার প্রসঙ্গে প্রশ্নের জবাবে তিনি পেঁয়াজ ও আলুর দাম নিয়ে কথা বলেন যা নিয়ে ব্যাপক সমালোচনা হয়
প্রশাসনিক পুনর্বিন্যাসের অংশ হিসেবে তাকে পুরোপুরি বাদ না দিয়ে কৃষি মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে সীমাবদ্ধ রাখার আলোচনা চলছে
Advertisement
ড. খলিল উর রহমান কেন আলোচনায়
বর্তমান নিরাপত্তা উপদেষ্টা ড. খলিল উর রহমানকে একজন অভিজ্ঞ টেকনোক্র্যাট হিসেবে দেখা হয়। সরকার মনে করছে তার নেতৃত্বে
বিভিন্ন নিরাপত্তা সংস্থার মধ্যে সমন্বয় বাড়বে
নির্বাচনকালীন শান্তিপূর্ণ পরিবেশ নিশ্চিত করা সহজ হবে
অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা ব্যবস্থাপনায় আরও কৌশলগত দৃষ্টিভঙ্গি আসবে
একই সঙ্গে প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী খুদা বখশ চৌধুরীর দায়িত্ব থেকেও সরে যাওয়ার সম্ভাবনার কথা শোনা যাচ্ছে।
অন্তর্বর্তী সরকারের স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টাদের ধারাবাহিকতা
| উপদেষ্টার নাম | সময়কাল | বর্তমান অবস্থা বা পরিবর্তনের কারণ |
|---|---|---|
| ব্রিগেডিয়ার অবসরপ্রাপ্ত সাখাওয়াত হোসেন | শুরুতে | বিতর্কিত বক্তব্যের পর সরে যান |
| লেফটেন্যান্ট জেনারেল অবসরপ্রাপ্ত জাহাঙ্গীর আলম | বর্তমান | কৃষি মন্ত্রণালয়ে স্থানান্তরের সম্ভাবনা |
| ড. খলিল উর রহমান | সম্ভাব্য | নিরাপত্তা পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার প্রত্যাশা |
অতীতের প্রেক্ষাপট
স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বরাবরই একটি স্পর্শকাতর দায়িত্ব। আওয়ামী লীগের টানা দুই মেয়াদে আসাদুজ্জামান খান কামাল দীর্ঘদিন এই দায়িত্ব পালন করেন। নানা চ্যালেঞ্জের মধ্যেও তাকে সতর্ক ও অভিজ্ঞ প্রশাসক হিসেবে বিবেচনা করা হতো। বর্তমান অন্তর্বর্তী সরকার তার চেয়েও ভালো আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিশ্চিত করার চাপের মুখে রয়েছে।
সাধারণ প্রশ্ন ও উত্তর
জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী কি সরকার থেকে বাদ পড়ছেন
না তিনি পুরোপুরি বাদ পড়ছেন না বরং তাকে কৃষি মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে সীমিত রাখা হতে পারে
ড. খলিল উর রহমান কে
তিনি অন্তর্বর্তী সরকারের বর্তমান নিরাপত্তা উপদেষ্টা এবং একজন জ্যেষ্ঠ নীতিনির্ধারক
Also read:বেশি টমেটো খেলে কখন স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর হতে পারে
এই পরিবর্তন নির্বাচনে কী প্রভাব ফেলতে পারে
সরকার মনে করছে নতুন নেতৃত্ব নিরাপত্তা ব্যবস্থার ওপর আস্থা ফিরিয়ে আনবে এবং সুষ্ঠু নির্বাচন নিশ্চিত করতে সহায়ক হবে
উপসংহার
স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা পরিবর্তনের সম্ভাবনা শুধু প্রশাসনিক রদবদল নয় বরং দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি দ্রুত উন্নত করার একটি বার্তা। ড. খলিল উর রহমান দায়িত্ব পেলে সন্ত্রাস দমন থেকে শুরু করে রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা রক্ষায় বড় চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করতে হবে। এই পরিবর্তন কতটা কার্যকর হয় সেটিই এখন দেখার বিষয়।
ডিসক্লেইমার
এই সংবাদটি বিভিন্ন নির্ভরযোগ্য উৎস ও প্রকাশ্য তথ্যের ভিত্তিতে প্রস্তুত করা হয়েছে। এখানে প্রদত্ত তথ্য শুধুমাত্র তথ্যগত ও পাঠককে অবহিত করার উদ্দেশ্যে প্রকাশিত। এটি কোনো চূড়ান্ত বা নিশ্চিত ঘোষণা নয়। লেখায় প্রকাশিত মতামত বিশ্লেষণ বা অনুমান লেখকের নিজস্ব এবং কোনো প্রতিষ্ঠান বা সংস্থার প্রতিনিধিত্ব করে না। সময়ের সঙ্গে তথ্য পরিবর্তিত হতে পারে তাই পাঠকদের সরকারি বা নির্ভরযোগ্য উৎস থেকে যাচাই করার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। এই প্রতিবেদনের ওপর নির্ভর করে সৃষ্ট কোনো ক্ষতি বা বিভ্রান্তির দায় গ্রহণ করা হবে না।
