Advertisement
বলিউড তারকাদের জীবন প্রায়শই চকমক এবং গ্ল্যামারে পূর্ণ মনে হয় তবে এই পর্দার আড়ালে তাদের গোপনীয়তা প্রায়শই সোশ্যাল মিডিয়া ক্যামেরার বেদিতে বিসর্জন দেওয়া হয়। সম্প্রতি শ্রীলঙ্কান বংশোদ্ভূত বলিউড সুন্দরী জ্যাকলিন ফার্নান্দেজ একই ধরণের পরিস্থিতির সম্মুখীন হয়েছেন যখন দিল্লির একটি রেস্টুরেন্টে তার ব্যক্তিগত মুহূর্তগুলি গোপনে রেকর্ড করা হয়েছিল এবং ইন্টারনেটে ফাঁস করা হয়েছিল। এই ঘটনাটি কেবল সোশ্যাল মিডিয়ায় ট্রেন্ডিংই নয় বরং সেলিব্রিটিদের ব্যক্তিগত সীমানা এবং নৈতিক আচরণ নিয়ে নতুন করে বিতর্কের জন্ম দিয়েছে।
ভাইরাল ভিডিওর পটভূমি এবং জ্যাকলিনের প্রতিক্রিয়া
সবকিছু শুরু হয়েছিল যখন একজন সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহারকারী একটি ভিডিও পোস্ট করেছিলেন যেখানে জ্যাকলিন ফার্নান্দেজকে দিল্লির একটি রেস্টুরেন্টে এক অজ্ঞাত ব্যক্তির সাথে বসে থাকতে দেখা গেছে। ভিডিওটির নির্মাতা জ্যাকলিনের হিট গান চিটিয়া কালাইয়াঁ ব্যাকগ্রাউন্ডে যুক্ত করেছিলেন এবং ক্যাপশন দিয়েছিলেন আপনার কী মনে হয় আমার মনে হয় এটি অভিনেত্রী জ্যাকলিন ফার্নান্দেজ।
Advertisement
অভিনেত্রীর অপ্রত্যাশিত প্রতিক্রিয়া বেশিরভাগ সময় এই ধরণের গোপনীয়তা লঙ্ঘনের ঘটনায় তারকারা রেগে যান। অন্যদিকে জ্যাকলিন পরিস্থিতিটি হালকাভাবে এবং বন্ধুত্বপূর্ণ উপায়ে মোকাবিলা করেছেন। তিনি ভিডিওটিতে হাসির ইমোজি দিয়ে উত্তর দিয়েছেন হ্যাঁ এটি আমি। অনেক মানুষ তার এই সহজ উত্তরের প্রশংসা করেছেন কিন্তু গোপনীয়তা রক্ষাকারীরা বিষয়টি নিয়ে উদ্বিগ্ন।
Advertisement
প্রকাশ্য বিতর্ক সেলিব্রিটিদের কি সত্যিই কোনো গোপনীয়তা থাকে
জ্যাকলিন বিষয়টি হাসিমুখে উড়িয়ে দিলেও ইন্টারনেটে মানুষ ব্যাপকভাবে বিভক্ত। এই উত্তপ্ত অনলাইন আলোচনার মূল পয়েন্টগুলো নিচে দেওয়া হলো
Advertisement
গোপনীয়তার প্রতি সম্মান অনেকে বলছেন যে অনুমতি ছাড়া কাউকে রেকর্ড করা ভুল তা তিনি যতই বিখ্যাত হন না কেন।
নিরাপত্তা উদ্বেগ সমালোচকরা বলছেন যে এই ধরণের ভিডিও দেখায় যে একজন তারকা সেই মুহূর্তে কোথায় আছেন যা বিপজ্জনক হতে পারে।
সীমা নির্ধারণ একটি বড় প্রশ্ন উঠছে তারা পাবলিক ফিগার বলেই কি প্রকাশ্যে কাউকে ফিল্ম করা ঠিক।
অন্যান্য সেলিব্রিটি যাদের গোপনীয়তা লঙ্ঘিত হয়েছিল
জ্যাকলিন প্রথম অভিনেত্রী নন যিনি এই ডিজিটাল আক্রমণের শিকার হয়েছেন। অতীতে বেশ কিছু পরিচিত ব্যক্তিত্ব একই ধরণের ঘটনার মধ্য দিয়ে গেছেন
| অভিনেতা বা অভিনেত্রী | যা ঘটেছিল |
| সুহানা খান | বিমানবন্দর এবং রেস্টুরেন্টে লুকানো ক্যামেরা |
| রণবীর কাপুর | ছুটিতে থাকাকালীন ব্যক্তিগত মুহূর্তের ছবি ফাঁস |
| বিরাট কোহলি | হোটেলের ঘরের ভিতরের ভাইরাল ভিডিও |
| কারিনা কাপুর | বাড়ির বাইরে ভক্তদের গোপন রেকর্ডিং |
also read:যিনাকে ‘বাজি’ ডাকতেন তাকেই বিয়ে করলেন? সানা খান ও মুফতি আনাসের অজানাপ্রেমের গল্প
বিশেষজ্ঞের মতামত এবং সামাজিক নৈতিকতা
মনোবিজ্ঞানীরা বলছেন যে সেলিব্রিটিরা যারা সর্বদা জনসাধারণের নজরে থাকেন তারা সামাজিক উদ্বেগের শিকার হতে পারেন। সোশ্যাল মিডিয়া এথিক্স বিশেষজ্ঞরা মনে করেন সেলিব্রিটিরাও মানুষ। তাদের শান্তিতে খাওয়ার এবং বন্ধুদের সাথে আড্ডা দেওয়ার অধিকার রয়েছে। গোপনে তাদের ভিডিও করা কেবল ভুল নয় বরং এটিকে ডিজিটাল হয়রানি হিসেবেও গণ্য করা যেতে পারে।
সাধারণ জিজ্ঞাসা
১ অনুমতি ছাড়া কাউকে ফিল্ম করা কি আইনত অপরাধ
ভারত এবং পাকিস্তানসহ অনেক দেশে ব্যক্তিগত মুহূর্ত গোপনে রেকর্ড করা আইনের আওতায় আসতে পারে বিশেষ করে যদি এটি কারো সম্মান বা নিরাপত্তা ক্ষুন্ন করে।
২ জ্যাকলিন ভিডিওটি সম্পর্কে কী বলেছিলেন
জ্যাকলিন রেগে না গিয়ে হাসিমুখে নিশ্চিত করেছেন যে ভিডিওটিতে তিনিই ছিলেন।
৩ রেস্টুরেন্ট কর্তৃপক্ষের কি কোনো দায় আছে
ব্যবসা প্রতিষ্ঠানগুলো সাধারণত তাদের গ্রাহকদের গোপনীয়তা রক্ষার জন্য দায়ী থাকে তবে স্মার্টফোনের যুগে এটি করা কঠিন হয়ে পড়ছে।
আপনার চিন্তাভাবনা এবং উপসংহার
পাবলিক ফিগারদের গোপনীয়তাকে সম্মান করা প্রত্যেকের দায়িত্ব। জ্যাকলিন অত্যন্ত নম্রভাবে এটি মোকাবিলা করেছেন তবে এই প্রবণতা বন্ধ করা দরকার যাতে সবাই নজরদারির ভয় ছাড়াই তাদের জীবন যাপন করতে পারে। আপনি কি মনে করেন কোনো সেলিব্রিটিকে গোপনে ফিল্ম করা ঠিক। জ্যাকলিনের কি ওই ব্যক্তির বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা নেওয়া উচিত ছিল। আপনার মতামত আমাদের জানান এবং সচেতনতা বৃদ্ধিতে এই নিবন্ধটি শেয়ার করুন।
ডিসক্লেইমার
এই খবরটি বিভিন্ন নির্ভরযোগ্য উৎস এবং জনসমক্ষে উপলব্ধ তথ্যের উপর ভিত্তি করে তৈরি করা হয়েছে। প্রদত্ত বিষয়বস্তু শুধুমাত্র তথ্যগত এবং বিনোদনের উদ্দেশ্যে এবং এটিকে চূড়ান্ত বা নিশ্চিত বিবৃতি হিসেবে বিবেচনা করা উচিত নয়। খবরের অন্তর্ভুক্ত মতামত বিশ্লেষণ বা ভবিষ্যদ্বাণী লেখকের ব্যক্তিগত দৃষ্টিভঙ্গি এবং কোনো প্রতিষ্ঠান বা সংস্থার প্রতিনিধিত্ব করে না। তথ্য সময়ের সাথে পরিবর্তিত হতে পারে তাই পাঠকদের যাচাইকরণের জন্য সরকারি বা নির্ভরযোগ্য উৎসের সাহায্য নেওয়া উচিত। এই খবরের তথ্যের উপর নির্ভর করার ফলে উদ্ভূত কোনো ক্ষতি বা ভুল বোঝাবুঝির জন্য কোনো দায় গ্রহণ করা হবে না।
