Advertisement
মুদ্রাস্ফীতির চাপে থাকা সাধারণ মানুষের জন্য একটি বড় এবং স্বস্তিদায়ক খবর এসেছে। বাংলাদেশের প্রধান বাজারগুলোতে এবং বিশেষ করে হিলি বাজারের মতো সীমান্ত এলাকায় ভারতীয় পেঁয়াজের আমদানি বৃদ্ধি পাওয়ায় দাম হু হু করে কমেছে। মাত্র চার দিনের ব্যবধানে প্রতি কেজিতে ৪০ টাকা পর্যন্ত বড় ধরনের হ্রাস রেকর্ড করা হয়েছে যা সাধারণ মানুষের জন্য অত্যন্ত প্রয়োজনীয় স্বস্তি নিয়ে এসেছে। মঙ্গলবার ২৩ ডিসেম্বর বাজার পরিদর্শনে দেখা গেছে যে পেঁয়াজের দাম কয়েক দিন আগে আকাশচুম্বী ছিল তা এখন সাধারণ ক্রেতার নাগালের মধ্যে চলে এসেছে।
পেঁয়াজের দামের বড় পতন সাম্প্রতিক পরিসংখ্যান
পাইকারি ও খুচরা উভয় বাজারেই এই দরপতন লক্ষ্য করা যাচ্ছে। চার দিন আগের এবং বর্তমান দামের একটি তুলনামূলক চিত্র নিচে দেওয়া হলো
Advertisement
| পেঁয়াজের ধরণ | চার দিন আগের দাম | পাইকারি বাজারে বর্তমান দাম | খুচরা বাজারে বর্তমান দাম |
| ভারতীয় পেঁয়াজ | ৭০ থেকে ৭৫ টাকা | ৩০ থেকে ৪০ টাকা | ৩৫ থেকে ৪৫ টাকা |
| দেশি মুড়ি পেঁয়াজ | ৮০ থেকে ৯০ টাকা | ৫০ থেকে ৫৫ টাকা | ৫৫ থেকে ৬০ টাকা |
দামের এই আকস্মিক পতন সাধারণ ক্রেতাদের খুশি করেছে এবং এটি ব্যবসায়ী সম্প্রদায়ের মধ্যেও স্বস্তি এনেছে কারণ দাম কমার ফলে বিক্রি অনেক বেড়ে গেছে।
Advertisement
ভারতীয় পেঁয়াজের বাজার পরিস্থিতি এবং আমদানি
হিলি বাজারের একজন পাইকারি বিক্রেতা শাহাবুল ইসলাম জানান যে এই মাসের ৭ তারিখ থেকে ভারতীয় পেঁয়াজ আসা শুরু হয়েছে। বর্তমানে সরবরাহ প্রচুর থাকায় দাম স্থিতিশীল হচ্ছে। ব্যবসায়ীদের মতে ভারত থেকে পেঁয়াজ আমদানি নিয়মিত রয়েছে তাই আগামী কয়েক দিনে দাম আরও কমার সম্ভাবনা রয়েছে। বর্তমানে বাজারে প্রচুর স্টক রয়েছে যার ফলে মজুতদারদের প্রভাব আর নেই।
Advertisement
পণ্য সম্পর্কে সাধারণ মানুষের প্রতিক্রিয়া
দাম কমতে থাকায় সাধারণ মানুষ অত্যন্ত আনন্দিত। বাজারে আসা লুৎফর রহমান নামের একজন ক্রেতা বলেন এক সপ্তাহ আগে আমি প্রতি কেজি পেঁয়াজের জন্য প্রায় ১০০ টাকা দিয়েছি কিন্তু আজ আমি সেই একই পেঁয়াজ ৪০ টাকায় কিনছি। আমাদের মতো সাধারণ মানুষের জন্য এটি অনেক বড় সঞ্চয়। রফিকুল ইসলাম নামে আরেকজন ক্রেতা জানান যে দাম কমে যাওয়ায় তার রান্নাঘরের বাজেট পরিচালনা করা সহজ হয়েছে কারণ পেঁয়াজ প্রতিটি পরিবারের একটি মৌলিক চাহিদা।
দাম স্থিতিশীল রাখার জন্য কিছু পরামর্শ
আপাতত দাম কমলেও অর্থনীতিবিদরা মনে করেন এই স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে কিছু পদক্ষেপ নেওয়া প্রয়োজন
স্থানীয় উৎপাদনের ওপর গুরুত্ব আমদানি করা পেঁয়াজের ওপর নির্ভর না করে স্থানীয় কৃষকদের পেঁয়াজ চাষে প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম ও সহায়তা দেওয়া উচিত। অফ সিজনে দাম যাতে না বাড়ে সেজন্য পেঁয়াজ সতেজ রাখার জন্য কোল্ড স্টোরেজ নির্মাণ করা প্রয়োজন। বাজারে কৃত্রিম মুদ্রাস্ফীতি রোধ করতে প্রাইস কন্ট্রোল কমিটিগুলোকে নিয়মিত কাজ চালিয়ে যেতে হবে।
সাধারণ জিজ্ঞাসা
১ পেঁয়াজের দাম এত দ্রুত কমার কারণ কী
ভারত থেকে পেঁয়াজ আমদানি উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পাওয়ায় বাজারে সরবরাহ বেড়ে গেছে যা দাম কমাতে সাহায্য করেছে।
২ স্থানীয়ভাবে উৎপাদিত পেঁয়াজের দামও কি কমেছে
হ্যাঁ স্থানীয় মুড়ি পেঁয়াজের দামও প্রতি কেজি ৮০ থেকে ৯০ টাকা থেকে কমে এখন ৫৫ টাকার কাছাকাছি চলে এসেছে।
৩ আগামী দিনে কি দাম আরও কমবে
ব্যবসায়ীদের মতে যদি আমদানি চেইন নিরবচ্ছিন্ন থাকে তবে দাম আরও কমার সম্ভাবনা রয়েছে।
সারাংশ এবং আপনার মতামত
দ্রব্যমূল্যের উর্ধ্বগতির এই সময়ে পেঁয়াজের দাম প্রতি কেজিতে ৪০ টাকা পর্যন্ত কমে যাওয়া একটি দুর্দান্ত খবর। এই পতন বিশেষ করে নিম্ন আয়ের পরিবার এবং শ্রমজীবী মানুষের জন্য একটি বড় আশীর্বাদ। আপনার শহরেও কি পেঁয়াজের দাম কমেছে। বর্তমানে আপনার এলাকায় পেঁয়াজের দাম কত। কমেন্টে আমাদের জানান এবং আপনার বন্ধুদের সাথে এই তথ্যটি শেয়ার করুন।
ডিসক্লেইমার
এই খবরটি বিভিন্ন নির্ভরযোগ্য উৎস এবং জনসমক্ষে উপলব্ধ তথ্যের উপর ভিত্তি করে তৈরি করা হয়েছে। প্রদত্ত বিষয়বস্তু শুধুমাত্র তথ্যগত এবং বিনোদনের উদ্দেশ্যে এবং এটিকে চূড়ান্ত বা নিশ্চিত বিবৃতি হিসেবে বিবেচনা করা উচিত নয়। খবরের অন্তর্ভুক্ত মতামত বিশ্লেষণ বা ভবিষ্যদ্বাণী লেখকের ব্যক্তিগত দৃষ্টিভঙ্গি এবং কোনো প্রতিষ্ঠান বা সংস্থার প্রতিনিধিত্ব করে না। তথ্য সময়ের সাথে পরিবর্তিত হতে পারে তাই পাঠকদের যাচাইকরণের জন্য সরকারি বা নির্ভরযোগ্য উৎসের সাহায্য নেওয়া উচিত। এই খবরের তথ্যের উপর নির্ভর করার ফলে উদ্ভূত কোনো ক্ষতি বা ভুল বোঝাবুঝির জন্য কোনো দায় গ্রহণ করা হবে না।
