Advertisement
আসন্ন পবিত্র রমজান মাসে ইফতারের অন্যতম প্রধান অনুষঙ্গ খেজুরের দাম সাধারণ মানুষের নাগালের মধ্যে রাখতে এবং বাজার নিয়ন্ত্রণে রাখতে সরকার একটি যুগান্তকারী পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) সম্প্রতি খেজুর আমদানির ওপর মোট শুল্ক ৪০ শতাংশ কমানোর ঘোষণা দিয়েছে।
২৪ ডিসেম্বর বুধবার এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে যার মূল উদ্দেশ্য হলো বাজারে খেজুরের পর্যাপ্ত সরবরাহ নিশ্চিত করা এবং দাম কমিয়ে আনা যাতে সাধারণ ভোক্তারা তা সহজেই কিনতে পারেন। এই নির্দেশটি অবিলম্বে কার্যকর করার জন্য একটি সরকারি প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়েছে।
Advertisement
ট্যাক্স ব্রেক আপডেট শুল্ক ও অগ্রিম আয়করের নতুন হার
আমদানিকারকদের সহায়তা করতে এবং সাধারণ মানুষকে সরাসরি সুফল পৌঁছে দিতে সরকার কর ব্যবস্থায় বড় ধরনের পরিবর্তন এনেছে।
Advertisement
কাস্টমস ডিউটি বা আমদানি শুল্ক হ্রাস
Advertisement
খেজুর আমদানির ওপর শুল্ক ২৫ শতাংশ থেকে কমিয়ে ১৫ শতাংশ করা হয়েছে। এই সরাসরি ১০ শতাংশ হ্রাসের ফলে বাজার মূল্যে বড় ধরনের প্রভাব পড়বে বলে আশা করা হচ্ছে।
অগ্রিম আয়কর (এআইটি) ত্রাণ
পূর্ববর্তী বাজেট বিধি সংশোধন করে খেজুরসহ সব ধরনের ফল আমদানির ক্ষেত্রে অগ্রিম আয়করের হার ১০ শতাংশ থেকে কমিয়ে ৫ শতাংশ করা হয়েছে।
সুবিধার মেয়াদ
সরকার জানিয়েছে যে এই ট্যাক্স সুবিধা ২০২৬ সালের ৩১ মার্চ পর্যন্ত বহাল থাকবে। এর অর্থ হলো এই বছরের রমজান এবং পরবর্তী বছরের শুরুর মাসগুলোতেও সাধারণ মানুষ সুলভ মূল্যে খেজুর কেনার সুযোগ পাবেন।
শুল্ক ও করের তুলনামূলক চিত্র
| করের ধরন | পূর্ববর্তী হার | নতুন হার | মোট হ্রাস |
| কাস্টমস ডিউটি | ২৫ শতাংশ | ১৫ শতাংশ | ১০ শতাংশ পতন |
| অগ্রিম আয়কর | ১০ শতাংশ | ৫ শতাংশ | ৫০ শতাংশ রেয়াত |
| সামগ্রিক প্রভাব | উচ্চ মূল্য | হ্রাসকৃত মূল্য | প্রায় ৪০ শতাংশ মোট শুল্ক সাশ্রয় |
সরকারি অবস্থান জনআকাঙ্ক্ষার প্রতি শ্রদ্ধা
সরকারি প্রজ্ঞাপনে স্পষ্ট করা হয়েছে যে পবিত্র রমজান মাসের পবিত্রতা এবং জনসাধারণের ধর্মীয় অনুভূতির প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। জাতীয় রাজস্ব বোর্ড নিশ্চিত করেছে যে এর ফলে বাজারে খেজুরের সরবরাহ স্থিতিশীল থাকবে। কৃত্রিমভাবে দাম বৃদ্ধি এবং মজুতদারি রোধে এটি একটি কঠোর বার্তা। মধ্যবিত্ত ও সাধারণ ক্রেতাদের পছন্দের খেজুরগুলো এখন আরও সাশ্রয়ী হবে।
বাজার প্রভাব এবং বিশেষজ্ঞদের মতামত
অর্থনীতিবিদদের মতে খেজুরের শুল্ক কমানোর ফলে বাজারে প্রতিযোগিতা বাড়বে। আমদানি খরচ কম হওয়ায় ব্যবসায়ীরা আরও বেশি পরিমাণে খেজুর আমদানিতে উৎসাহিত হবেন যা চাহিদা ও সরবরাহের মধ্যে ভারসাম্য বজায় রাখবে।
অর্থনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে রমজানে খেজুরের চাহিদা প্রায় ৩০০ শতাংশ বেড়ে যায়। ৪০ শতাংশ শুল্ক কমানোর ফলে প্রতি কেজি খেজুরের দাম ৫০ থেকে ১৫০ টাকা পর্যন্ত কমতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
সাধারণ জিজ্ঞাসা
১ শুল্ক হ্রাসের সুফল কবে থেকে পাওয়া যাবে
সরকারি প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী এই সিদ্ধান্ত অবিলম্বে কার্যকর হয়েছে। তাই এখন থেকে আসা নতুন চালানের ক্ষেত্রে এই সুবিধা প্রযোজ্য হবে।
২ এই সুবিধা কি সব ধরনের খেজুরের জন্য প্রযোজ্য
হ্যাঁ সাধারণ ফলের পাশাপাশি সব ধরণের আমদানিকৃত খেজুরের ক্ষেত্রেই এই শুল্ক ছাড় দেওয়া হয়েছে।
৩ এই সুবিধা কতদিন স্থায়ী হবে
সরকার এই সুবিধার মেয়াদ ২০২৬ সালের ৩১ মার্চ পর্যন্ত নির্ধারণ করে দিয়েছে।
Also read:পেঁয়াজ ক্রেতাদের জন্য জ্যাকপট দামের আকস্মিক পতনে সবাই স্তব্ধ এখন এক কেজির দাম কত
সারাংশ এবং আপনার মতামত
সরকারের এই পদক্ষেপ অবশ্যই প্রশংসনীয়। তবে এখন আসল চ্যালেঞ্জ হলো খুচরা বিক্রেতা এবং দোকানদাররা এই ট্যাক্স সুবিধার সুফল সাধারণ মানুষের কাছে পৌঁছাতে দিচ্ছে কি না তা নিশ্চিত করা। প্রশাসনের উচিত বাজার মনিটরিং ব্যবস্থা আরও জোরদার করা।
আপনি কি মনে করেন শুল্ক কমানোর ফলে বাজারে খেজুরের দাম সত্যিই কমবে। নাকি মজুতদাররা দাম কমতে বাধা দেবে। আপনার মূল্যবান মতামত আমাদের জানান এবং গুরুত্বপূর্ণ এই খবরটি আপনার পরিচিতদের সাথে শেয়ার করুন।
ডিসক্লেইমার
এই খবরটি বিভিন্ন নির্ভরযোগ্য উৎস এবং জনসমক্ষে উপলব্ধ তথ্যের উপর ভিত্তি করে তৈরি করা হয়েছে। প্রদত্ত বিষয়বস্তু শুধুমাত্র তথ্যগত এবং বিনোদনের উদ্দেশ্যে এবং এটিকে চূড়ান্ত বা নিশ্চিত বিবৃতি হিসেবে বিবেচনা করা উচিত নয়। খবরের অন্তর্ভুক্ত মতামত বিশ্লেষণ বা ভবিষ্যদ্বাণী লেখকের ব্যক্তিগত দৃষ্টিভঙ্গি এবং কোনো প্রতিষ্ঠান বা সংস্থার প্রতিনিধিত্ব করে না। তথ্য সময়ের সাথে পরিবর্তিত হতে পারে তাই পাঠকদের যাচাইকরণের জন্য সরকারি বা নির্ভরযোগ্য উৎসের সাহায্য নেওয়া উচিত। এই খবরের তথ্যের উপর নির্ভর করার ফলে উদ্ভূত কোনো ক্ষতি বা ভুল বোঝাবুঝির জন্য কোনো দায় গ্রহণ করা হবে না।
