Advertisement
শীতের আগমনের সাথে সাথে আমাদের জীবনযাত্রায় পরিবর্তন আসতে শুরু করে। গরম পোশাক এবং চা কফির ব্যবহার বাড়লেও এই সময়ে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়ায় গোসল করা। ঠান্ডার ভয়ে অনেকে গোসল করতে দেরি করেন আবার কেউ কেউ কনকনে ঠান্ডা জলে গোসল করাকে বীরত্ব মনে করেন। অন্যদিকে গরম জল ছাড়া বাথরুমে পা রাখা অনেকের কাছেই অসম্ভব। কিন্তু আপনি কি জানেন শীতকালে আপনার শরীরের জন্য আসলে কোন জল বেশি উপকারী। সম্প্রতি ভারতীয় গণমাধ্যম এনডিটিভি র একটি প্রতিবেদনে গরম ও ঠান্ডা জলের প্রভাব নিয়ে আলোচনা করা হয়েছে। বিজ্ঞান ও চিকিৎসা শাস্ত্র কী বলে চলুন তা দেখে নেওয়া যাক।
গরম জলে গোসলের সুবিধা
শীতকালে অধিকাংশ মানুষ গরম জল পছন্দ করেন এবং এর বেশ কিছু স্বাস্থ্যগত সুবিধা রয়েছে
Advertisement
পেশীর শিথিলতা গরম জল পেশীর টান এবং ক্লান্তি দূর করতে সাহায্য করে।
Advertisement
রক্ত সঞ্চালন কুসুম কুসুম গরম জল রক্তনালীগুলোকে প্রসারিত করে যা সারা শরীরে রক্ত প্রবাহ বৃদ্ধি করে।
Advertisement
সর্দি ও কাশি থেকে মুক্তি গরম জলের বাষ্প শ্বাসপ্রশ্বাস পরিষ্কার করে এবং বন্ধ নাক খুলে দিতে সাহায্য করে।
গরম জলের অসুবিধা
গরম জল আরামদায়ক হলেও এর অতিরিক্ত ব্যবহার বিপজ্জনক হতে পারে। খুব গরম জল দীর্ঘক্ষণ ব্যবহার করলে ত্বকের প্রাকৃতিক তেল নষ্ট হয়ে যায় যার ফলে ত্বক শুষ্ক হয়ে যায় এবং চুলকানি তৈরি হয়। বিশেষজ্ঞদের মতে এটি সোরিয়াসিস বা একজিমার মতো সমস্যাকে আরও বাড়িয়ে দিতে পারে।
ঠান্ডা জলে গোসলের সুবিধা
শীতকালে শুনতে কঠিন মনে হলেও ঠান্ডা জলে গোসলের নিজস্ব কিছু বিশেষ সুবিধা আছে
রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি ঠান্ডা জলের সংস্পর্শে শরীরে শ্বেত রক্তকণিকা উৎপাদন বৃদ্ধি পায় যা রোগের বিরুদ্ধে লড়তে সাহায্য করে।
মানসিক সতর্কতা ঠান্ডা জল শরীরে একটি শক দেয় যা আপনাকে তাৎক্ষণিকভাবে সজাগ করে তোলে এবং অলসতা দূর করে মনোযোগ বৃদ্ধি করে।
ব্যথা কমানো শরীরের প্রদাহ এবং জয়েন্টের ব্যথা কমাতে ঠান্ডা জল বেশ সহায়ক বলে মনে করা হয়।
ঠান্ডা জলের ঝুঁকি
সবার জন্য হঠাৎ ঠান্ডা জলের সংস্পর্শে আসা ঠিক নয়। হার্টের সমস্যা, ব্রঙ্কাইটিস বা হাঁপানি রোগীদের জন্য এটি ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে কারণ এটি শ্বাসপ্রশ্বাস এবং হৃদস্পন্দনের ওপর হঠাৎ চাপ সৃষ্টি করে।
গরম বনাম ঠান্ডা জল একটি সংক্ষিপ্ত তুলনা
| বৈশিষ্ট্য | গরম জল | ঠান্ডা জল |
| উপযুক্ত সময় | রাত (ভালো ঘুমের জন্য) | সকাল (সতর্কতা ও সতেজতার জন্য) |
| ত্বকের ওপর প্রভাব | শুষ্কতা তৈরি করতে পারে | ত্বক টানটান রাখে |
| পেশীর ওপর প্রভাব | চাপ ও প্রদাহ কমায় | পেশীর ব্যথা ও ফোলা কমায় |
| শারীরিক অবস্থা | সর্দি ও ক্লান্তির জন্য ভালো | অলসতা ও মানসিক চাপের জন্য ভালো |
বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ কুসুম কুসুম গরম জল
চিকিৎসা বিশেষজ্ঞদের মতে কোনো চরম তাপমাত্রার দিকে না যাওয়াই ভালো। শীতকালে গোসলের জন্য কুসুম কুসুম গরম জল বা লুকেওয়ার্ম ওয়াটার সবচেয়ে ভারসাম্যপূর্ণ এবং নিরাপদ বিকল্প।
কুসুম কুসুম গরম জলের উপকারিতা
এটি ত্বকের আর্দ্রতা বজায় রাখে।
শরীরের তাপমাত্রার হঠাৎ কোনো পরিবর্তন হয় না বলে হৃদপিণ্ডের ওপর চাপ পড়ে না।
এটি শীতের আমেজ দূর করার পাশাপাশি সতেজ অনুভূতি প্রদান করে।
সাধারণ জিজ্ঞাসা
১ শীতকালে ঠান্ডা জলে গোসল করলে কি জ্বর হতে পারে
যদি আপনার রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কম থাকে তবে হঠাৎ ঠান্ডার ধাক্কায় আপনি অসুস্থ হতে পারেন। জলের তাপমাত্রা ধীরে ধীরে কমানো ভালো।
২ গরম জল কি চুলের ক্ষতি করতে পারে
হ্যাঁ অতিরিক্ত গরম জল চুলের গোড়া দুর্বল করে দিতে পারে এবং খুশকির সমস্যা তৈরি করতে পারে।
৩ হার্টের রোগীদের জন্য কোন জল বেশি ভালো
অতিরিক্ত ঠান্ডা বা খুব গরম জল হার্টের রোগীদের জন্য বিপজ্জনক হতে পারে তাই তাদের জন্য সবসময় কুসুম কুসুম গরম জল ব্যবহারের পরামর্শ দেওয়া হয়।
সারাংশ এবং আপনার মতামত
শীতকালে গোসল করা কেবল পরিচ্ছন্নতার জন্য নয় বরং স্বাস্থ্য বজায় রাখার জন্যও গুরুত্বপূর্ণ। আপনার শারীরিক অবস্থা অনুযায়ী জলের তাপমাত্রা বেছে নেওয়া উচিত। আপনি যদি সুস্থ থাকেন তবে কুসুম কুসুম গরম জলই সেরা বিকল্প। গোসলের পর ত্বকের শুষ্কতা এড়াতে সবসময় লোশন বা ময়েশ্চারাইজার ব্যবহার করুন।
শীতকালে আপনি গোসলের জন্য কোন জল ব্যবহার করেন। ডিসেম্বরের এই কনকনে ঠান্ডায় আপনি কি কখনো ঠান্ডা জলে গোসল করেছেন। আপনার অভিজ্ঞতা আমাদের কমেন্টে জানান এবং এই প্রয়োজনীয় তথ্যটি বন্ধুদের সাথে শেয়ার করুন।
ডিসক্লেইমার
এই খবরটি বিভিন্ন নির্ভরযোগ্য উৎস এবং জনসমক্ষে উপলব্ধ তথ্যের উপর ভিত্তি করে তৈরি করা হয়েছে। প্রদত্ত বিষয়বস্তু শুধুমাত্র তথ্যগত এবং বিনোদনের উদ্দেশ্যে এবং এটিকে চূড়ান্ত বা নিশ্চিত বিবৃতি হিসেবে বিবেচনা করা উচিত নয়। খবরের অন্তর্ভুক্ত মতামত বিশ্লেষণ বা ভবিষ্যদ্বাণী লেখকের ব্যক্তিগত দৃষ্টিভঙ্গি এবং কোনো প্রতিষ্ঠান বা সংস্থার প্রতিনিধিত্ব করে না। তথ্য সময়ের সাথে পরিবর্তিত হতে পারে তাই পাঠকদের যাচাইকরণের জন্য সরকারি বা নির্ভরযোগ্য উৎসের সাহায্য নেওয়া উচিত। এই খবরের তথ্যের উপর নির্ভর করার ফলে উদ্ভূত কোনো ক্ষতি বা ভুল বোঝাবুঝির জন্য কোনো দায় গ্রহণ করা হবে না।
