Advertisement
বাংলাদেশের রাজনীতি এখন একটি ঐতিহাসিক সন্ধিক্ষণে দাঁড়িয়ে আছে যেখানে ক্ষমতার ভারসাম্য দ্রুত পরিবর্তিত হচ্ছে। দুটি বড় ঘটনা বিশ্বজুড়ে মনোযোগ আকর্ষণ করেছে যার মধ্যে প্রথমটি হলো ১৮ বছরের নির্বাসন শেষে বিএনপি ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের দেশে ফেরা এবং দ্বিতীয়টি হলো অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের নিয়োগ প্রক্রিয়ায় বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর জোরালো ভূমিকা। সেনাপ্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামানের দৃঢ় অবস্থানকে দেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষা এবং রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ গঠনের একটি বড় পদক্ষেপ হিসেবে দেখছেন সাধারণ মানুষ।
সেনাপ্রধানের ভেটো কেন খলিলুর রহমানের নিয়োগ স্থগিত করা হলো
বিভিন্ন সূত্রের খবর অনুযায়ী অন্তর্বর্তীকালীন সরকার জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা (এনএসএ) ডক্টর খলিলুর রহমানকে নতুন স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা হিসেবে নিয়োগ দেওয়ার চেষ্টা করেছিল। তিনি লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরীর স্থলাভিষিক্ত হতেন। তবে সামরিক নেতৃত্ব সরাসরি এই পদক্ষেপে হস্তক্ষেপ করে এটি বন্ধ করে দেয়।
Advertisement
রক্তাক্ত করিডোর নয় কেন সেনাবাহিনী এটি চায়নি
Advertisement
জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান এবং অন্যান্য উচ্চপদস্থ সামরিক কর্মকর্তারা বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ কারণে এই নিয়োগের বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছেন বলে জানা গেছে
Advertisement
রোহিঙ্গা করিডোর বিতর্ক ডক্টর খলিলুর রহমান এর আগে বাংলাদেশের ভেতর দিয়ে মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে একটি মানবিক করিডোর তৈরির প্রস্তাব দিয়েছিলেন। সেনাবাহিনী এটিকে দেশের স্বাধীনতার জন্য বড় হুমকি হিসেবে দেখেছে।
রক্তাক্ত সতর্কবার্তা জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান এই প্রস্তাবের কঠোর সমালোচনা করে এটিকে রক্তাক্ত করিডোর হিসেবে অভিহিত করেছেন বলে জানা গেছে। তিনি মনে করেন এই ধরনের পদক্ষেপ বাংলাদেশকে যুদ্ধক্ষেত্রে পরিণত করতে পারে এবং বিদেশি হস্তক্ষেপকে আমন্ত্রণ জানাতে পারে।
দ্বৈত নাগরিকত্ব নিয়ে উদ্বেগ একজন কানাডিয়ান নাগরিককে সংবেদনশীল জাতীয় নিরাপত্তা পদে নিয়োগ দেওয়ার বিরুদ্ধে বিএনপি এবং অন্যান্য দলগুলো সরব হয়েছে। তারা মনে করেন বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর গোপনীয় রিপোর্ট একজন বিদেশি নাগরিকের কাছে পাঠানো উচিত নয়।
সিভিল মিলিটারি উত্তেজনা প্রধান উপদেষ্টা ডক্টর মুহাম্মদ ইউনুস সেনাবাহিনীর সাথে যথাযথ আলোচনা ছাড়াই এই সিদ্ধান্ত নেওয়ায় পরিস্থিতির অবনতি ঘটেছিল বলে শোনা যাচ্ছে।
১৮ বছর পর তারেক রহমানের স্বদেশ প্রত্যাবর্তন
১৮ বছরের নির্বাসন শেষে ২৫ ডিসেম্বর ২০২৫ বৃহস্পতিবার তারেক রহমানের ঢাকা ফেরা বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) জন্য একটি বিশাল ঘটনা। এর মাধ্যমে ২০০৮ সাল থেকে লন্ডনে তাঁর নির্বাসিত জীবনের অবসান ঘটলো।
ভিআইপি মর্যাদা তারেক রহমান পৌঁছানোর পর প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয় থেকে তাঁকে ভেরি ইম্পরট্যান্ট পারসন বা ভিআইপি হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছে।
কঠোর নিরাপত্তা স্পেশাল সিকিউরিটি ফোর্স (এসএসএফ) তাঁকে সর্বোচ্চ স্তরের সুরক্ষা দিচ্ছে যা সাধারণত রাষ্ট্র ও সরকার প্রধানদের দেওয়া হয়।
রাজনৈতিক মাইলফলক আসন্ন নির্বাচনের আগে ৩শ ফিট রাস্তা বা জুলাই এক্সপ্রেসওয়েতে হাজার হাজার সমর্থক তাঁকে স্বাগত জানাতে ভিড় করে যা বিএনপির জন্য একটি বড় শক্তি হিসেবে দেখা দিচ্ছে।
বাংলাদেশের সাম্প্রতিক গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক ঘটনাবলী
| ইভেন্ট | বিস্তারিত | তাৎপর্য |
| তারেক রহমানের আগমন | ২৫ ডিসেম্বর ২০২৫ তারিখে পৌঁছান এবং এসএসএফ নিরাপত্তা পান | বিএনপির রাজনৈতিক গতিশীলতা বহুগুণ বেড়েছে |
| খলিলুর রহমানের ওপর ভেটো | সেনাপ্রধান তাঁকে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে নিয়োগ দিতে বাধা দেন | এটি নীতি নির্ধারণে সেনাবাহিনীর তদারকি প্রমাণ করে |
| করিডোর অবস্থান | সেনাবাহিনীর রক্তাক্ত করিডোর নয় নীতি | ত্রাণ পথের চেয়ে সীমান্ত নিরাপত্তা ও সার্বভৌমত্বকে অগ্রাধিকার দেওয়া |
| মন্ত্রিসভায় পরিবর্তন | ছাত্র উপদেষ্টাদের পদত্যাগ (১০ থেকে ১১ ডিসেম্বর) | অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের কাঠামোতে পরিবর্তন |
Also read:নায়ক রিয়াজের মৃত্যুর গুজব আসল ঘটনা কী পরিবারের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক ব্যাখ্যা
সাধারণ জিজ্ঞাসা এবং উত্তর
১ কেন সেনাপ্রধান খলিলুর রহমানের বিরোধিতা করেছিলেন?
সামরিক বাহিনীর ধারণা ছিল যে তাঁর মানবিক করিডোর প্রস্তাবটি একটি বড় নিরাপত্তা ঝুঁকি যা অরাষ্ট্রীয় সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোকে (যেমন আরাকান আর্মি) জড়িত করতে পারে এবং সীমান্তকে ঝুঁকিতে ফেলতে পারে।
২ তারেক রহমান কী ধরনের সুরক্ষা পাচ্ছেন?
তাঁকে স্পেশাল সিকিউরিটি ফোর্স বা এসএসএফ দ্বারা সুরক্ষা দেওয়া হচ্ছে যা প্রমাণ করে যে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার তাঁকে একজন প্রভাবশালী রাজনৈতিক নেতা হিসেবে স্বীকৃতি দিচ্ছে।
৩ সেনাবাহিনী কি এখন সরকার পরিচালনা করছে?
না তবে স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টার নিয়োগে সেনাবাহিনীর হস্তক্ষেপ এটি দেখায় যে জাতীয় নিরাপত্তা এবং অভ্যন্তরীণ স্থিতিশীলতার বিষয়ে তারা এখনও নিবিড় পর্যবেক্ষণ রাখছে।
সারসংক্ষেপ এবং আপনার মতামত
বাংলাদেশ এখন একটি নতুন যুগে প্রবেশ করেছে। একদিকে একজন শক্তিশালী রাজনৈতিক নেতা নিজের জায়গা নিতে ফিরে এসেছেন অন্যদিকে সামরিক বাহিনী অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সিদ্ধান্তগুলো জাতীয় স্বার্থে হচ্ছে কি না তা নিশ্চিত করতে নজর রাখছে। সেনাপ্রধানের রক্তাক্ত করিডোর নয় অবস্থান স্পষ্ট করে দিয়েছে যে মানবিক কূটনীতির নামে জাতীয় নিরাপত্তাকে ঝুঁকিতে ফেলা হবে না।
রাজনৈতিক নিয়োগে সেনাপ্রধানের এই হস্তক্ষেপকে আপনি কীভাবে দেখছেন? তারেক রহমানের প্রত্যাবর্তন কি দেশকে আরও স্থিতিশীল করবে নাকি মেরুকরণ বাড়াবে? কমেন্টে আপনার মতামত জানান এবং অন্যদের সচেতন করতে এই আপডেটটি শেয়ার করুন।
সতর্কবার্তা
এই সংবাদটি বিভিন্ন নির্ভরযোগ্য উৎস এবং জনসমক্ষে উপলব্ধ তথ্যের ওপর ভিত্তি করে তৈরি করা হয়েছে। প্রদত্ত বিষয়বস্তু শুধুমাত্র তথ্য এবং বিনোদনের উদ্দেশ্যে যা কোনো চূড়ান্ত বা নিশ্চিত বিবৃতি হিসেবে গণ্য করা উচিত নয়। সংবাদের মতামত বা বিশ্লেষণ লেখকের ব্যক্তিগত এবং কোনো প্রতিষ্ঠান বা সংস্থার প্রতিনিধিত্ব করে না। সময়ের সাথে সাথে তথ্যের পরিবর্তন হতে পারে তাই যাচাইয়ের জন্য পাঠকদের অফিসিয়াল উৎসে যোগাযোগ করার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। এই সংবাদের তথ্যের ওপর নির্ভর করে কোনো ভুল বোঝাবুঝি বা ক্ষতির জন্য দায় স্বীকার করা হবে না।
