Advertisement
বিখ্যাত বাংলাদেশী চলচ্চিত্র তারকা রিয়াজ আহমেদের মৃত্যু নিয়ে গত দুই দিন ধরে সোশ্যাল মিডিয়ায় চাঞ্চল্যকর খবর ছড়িয়ে পড়েছে। ফেসবুক এবং হোয়াটসঅ্যাপে ছড়িয়ে পড়া এই সংবাদে ভক্তরা স্তব্ধ এবং গভীরভাবে মর্মাহত হয়েছিলেন। তবে সর্বশেষ যাচাইকৃত তথ্য অনুযায়ী এই সমস্ত খবর সম্পূর্ণ মিথ্যা এবং ভিত্তিহীন। অভিনেতার ঘনিষ্ঠজন এবং চলচ্চিত্র সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা এই গুজব অস্বীকার করেছেন এবং জানিয়েছেন যে তিনি সুস্থ আছেন। তার মৃত্যুর খবরগুলো কেবল ফেক নিউজ মাত্র।
চলচ্চিত্র অঙ্গনের অবস্থান এবং গুজবের সত্যতা যাচাই
এই গুজব ছড়িয়ে পড়ার সাথে সাথেই বাংলাদেশ চলচ্চিত্র শিল্পী সমিতি এবং অন্যান্য নির্ভরযোগ্য সূত্রের সাথে যোগাযোগ করা হয়। সমিতির কর্মকর্তারা স্পষ্ট করেছেন যে তারা এমন কোনো দুঃখজনক ঘটনার খবর পাননি।
Advertisement
সরাসরি সূত্র থেকে যাচাই
Advertisement
রিয়াজের একজন ঘনিষ্ঠ বন্ধু গণমাধ্যমকে জানিয়েছেন রিয়াজ যেখানেই থাকুক সে নিরাপদ ও সুস্থ আছে। অনুগ্রহ করে তার মৃত্যু নিয়ে ছড়ানো কোনো বিদ্বেষমূলক গুজবে বিশ্বাস করবেন না।
Advertisement
রিয়াজ আহমেদের রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট এবং অন্তরাল
রিয়াজ আহমেদ সম্পর্কে এই গুজব এত দ্রুত ছড়িয়ে পড়ার অন্যতম কারণ হলো গত প্রায় এক বছর ধরে তিনি জনসম্মুখে আসছেন না।
রাজনৈতিক সম্পৃক্ততা শেখ হাসিনা ওয়াজেদের অধীনে রিয়াজ আহমেদ আওয়ামী লীগের রাজনীতির সাথে নিবিড়ভাবে জড়িত ছিলেন। তাকে নিয়মিত শাসক দলের প্রচারণায় দেখা যেত।
নিখোঁজ হওয়ার কারণ ২০২৪ সালের জুলাইয়ের ছাত্র আন্দোলন এবং পরবর্তীকালে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর থেকে রিয়াজ আহমেদের কোনো খোঁজ পাওয়া যাচ্ছে না। তার অফিসিয়াল ফ্যান পেজটি সম্পূর্ণ নিষ্ক্রিয় এবং তার মোবাইল ফোনটিও বন্ধ রয়েছে।
বর্তমান অবস্থা তিনি দেশের বাইরে চলে গেছেন নাকি বাংলাদেশে কোথাও আত্মগোপনে আছেন তা বর্তমানে অজানা। তার এই নীরবতার সুযোগ নিয়েই কিছু অসাধু চক্র তার মৃত্যুর ভুয়া খবর ভাইরাল করে দিয়েছে।
রিয়াজ আহমেদের চলচ্চিত্র জীবন এক নজরে
রিয়াজ আহমেদ এমন একজন অভিনেতা যার অভিনয় একটি পুরো প্রজন্মকে প্রভাবিত করেছে।
শুরু ১৯৯৫ সালে বাংলার নায়ক সিনেমার মাধ্যমে তার ক্যারিয়ার শুরু হয়।1
সুপারহিট চলচ্চিত্র তিনি রোমান্টিক এবং অ্যাকশন উভয় চরিত্রে দক্ষ ছিলেন এবং তার ক্যারিয়ারে ডজন ডজন সফল চলচ্চিত্র উপহার দিয়েছেন।2
শেষ কাজ ২০২২ সালের বহুল প্রশংসিত চলচ্চিত্র অপারেশন সুন্দরবন ছিল রিয়াজের শেষ প্রজেক্ট।+1
রিয়াজ আহমেদের রাজনৈতিক ও পেশাদার পটভূমি
| বিষয় | বিস্তারিত |
| প্রথম সিনেমা | বাংলার নায়ক (১৯৯৫) |
| শেষ সিনেমা | অপারেশন সুন্দরবন (২০২২) |
| রাজনৈতিক দল | বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ |
| বর্তমান অবস্থা | অন্তরালে (কিন্তু নিরাপদ) |
| গুজবের ধরণ | মিথ্যা মৃত্যুর সংবাদ |
ডিজিটাল যুগে গুজব প্রতিরোধের উপায়
আজকের বিশ্বে সেলিব্রিটিদের সম্পর্কে ভুল তথ্য ছড়ানো খুব সহজ হয়ে গেছে। নৈতিক মান বজায় রাখার জন্য আমাদের সবসময় তথ্য নিশ্চিত করা উচিত
যাচাই কোনো পোস্টে বিশ্বাস করার আগে নির্ভরযোগ্য নিউজ ওয়েবসাইটগুলো চেক করুন।
সূত্র নিশ্চিত করুন পরিবারের কোনো সদস্য বা কোনো অফিসিয়াল এজেন্সি খবরটি শেয়ার করেছে কি না তা দেখুন।
শেয়ার করা থেকে বিরত থাকুন সত্য না জানা পর্যন্ত এমন খবর শেয়ার করবেন না কারণ এটি ওই ব্যক্তির পরিবারের জন্য মানসিক কষ্টের কারণ হতে পারে।
also read:সিলেটে সংক্ষিপ্ত যাত্রাবিরতি কেন তারেক রহমানের সঙ্গে দেখা করতে পারলেন না নেতা কর্মীরা
সাধারণ জিজ্ঞাসা
১ রিয়াজ আহমেদ কি সত্যিই মারা গেছেন
না এই তথ্য সম্পূর্ণ মিথ্যা। রিয়াজ আহমেদের মৃত্যুর খবরগুলো গুজব তিনি নিরাপদ আছেন।
২ রিয়াজ আহমেদের ফোন কেন বন্ধ
বাংলাদেশের সাম্প্রতিক রাজনৈতিক পরিবর্তনের পর থেকে তিনি লোকচক্ষুর অন্তরালে থাকায় বর্তমানে তার সাথে যোগাযোগ করা সম্ভব হচ্ছে না।
৩ রিয়াজের সর্বশেষ সিনেমা কোনটি
অপারেশন সুন্দরবন (২০২২) ছিল তার অভিনীত সর্বশেষ মুক্তিপ্রাপ্ত সিনেমা।
সারাংশ এবং শেষ কথা
অভিনেতা রিয়াজ আহমেদ বাংলাদেশী চলচ্চিত্রের এক অমূল্য সম্পদ। তার রাজনৈতিক মতাদর্শের সাথে একমত না হলেও তার মৃত্যু নিয়ে স্পর্শকাতর গুজব ছড়ানো অনৈতিক। আমরা আশা করি তিনি খুব শীঘ্রই জনসম্মুখে আসবেন এবং ব্যক্তিগতভাবে তার ভক্তদের আশ্বস্ত করবেন। রিয়াজ আহমেদের অভিনীত কোন সিনেমাটি আপনার সবচেয়ে প্রিয়। সোশ্যাল মিডিয়ায় যারা ভুয়া খবর ছড়ায় তাদের কীভাবে থামানো যায়। কমেন্ট সেকশনে আপনার মতামত জানান এবং এই সত্যটি সবার মাঝে ছড়িয়ে দিন।
ডিসক্লেইমার
এই খবরটি বিভিন্ন নির্ভরযোগ্য উৎস এবং জনসমক্ষে উপলব্ধ তথ্যের উপর ভিত্তি করে তৈরি করা হয়েছে। প্রদত্ত বিষয়বস্তু শুধুমাত্র তথ্যগত এবং বিনোদনের উদ্দেশ্যে এবং এটিকে চূড়ান্ত বা নিশ্চিত বিবৃতি হিসেবে বিবেচনা করা উচিত নয়। খবরের অন্তর্ভুক্ত মতামত বিশ্লেষণ বা ভবিষ্যদ্বাণী লেখকের ব্যক্তিগত দৃষ্টিভঙ্গি এবং কোনো প্রতিষ্ঠান বা সংস্থার প্রতিনিধিত্ব করে না। তথ্য সময়ের সাথে পরিবর্তিত হতে পারে তাই পাঠকদের যাচাইকরণের জন্য সরকারি বা নির্ভরযোগ্য উৎসের সাহায্য নেওয়া উচিত। এই খবরের তথ্যের উপর নির্ভর করার ফলে উদ্ভূত কোনো ক্ষতি বা ভুল বোঝাবুঝির জন্য কোনো দায় গ্রহণ করা হবে না।
