Advertisement
বাংলাদেশের রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে আজ এক বড় ধরনের পরিবর্তন সূচিত হয়েছে। গণ অধিকার পরিষদের (জিওপি) সাধারণ সম্পাদক ও অন্যতম প্রধান নেতা মুহাম্মদ রাশেদ খান আজ শনিবার ২৭ ডিসেম্বর ২০۲৫ তারিখে তার পদ থেকে ইস্তফা দিয়েছেন। এটি কেবল একটি প্রশাসনিক পরিবর্তন নয় বরং একটি বড় রাজনৈতিক কৌশল। রাশেদ খান আনুষ্ঠানিকভাবে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলে (বিএনপি) যোগদান করেছেন এবং ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারিতে অনুষ্ঠিতব্য সাধারণ নির্বাচনে ঝিনাইদহ ৪ আসন থেকে “ধানের শীষ” প্রতীকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার ঘোষণা দিয়েছেন।
ছাত্র আন্দোলন থেকে বিএনপিতে যাত্রা রাশেদ খানের রাজনৈতিক ক্যারিয়ার শুরু হয়েছিল ২০১৮ সালের বহুল আলোচিত কোটা সংস্কার আন্দোলনের মাধ্যমে। তিনি নুরুল হক নুরের সাথে রাজপথে দীর্ঘ লড়াই করেছেন এবং যুবসমাজের একটি শক্তিশালী কণ্ঠস্বর হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেছেন যার ফলশ্রুতিতে গণ অধিকার পরিষদ গঠিত হয়েছিল।
Advertisement
পদত্যাগ এবং বিএনপিতে যোগদানের কারণ
রাশেদ খান জানিয়েছেন যে তার এই সিদ্ধান্তের মূল কারণ হলো আগামী জাতীয় নির্বাচনে ঝিনাইদহ ৪ আসন থেকে সংসদ সদস্য পদে নির্বাচন করা। এই লক্ষ্য অর্জনের জন্য তিনি দেশের অন্যতম বৃহত্তম রাজনৈতিক দল বিএনপিকে তার প্ল্যাটফর্ম হিসেবে বেছে নিয়েছেন।
Advertisement
দলীয় পদ তিনি গণ অধিকার পরিষদের সাধারণ সম্পাদকের পদ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে সরে দাঁড়িয়েছেন।
Advertisement
নির্বাচনী এলাকা তিনি ঝিনাইদহ ৪ আসন থেকে নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন।
নির্বাচনী প্রতীক তিনি বিএনপির দলীয় প্রতীক ধানের শীষ নিয়ে নির্বাচনে লড়বেন।
নুরুল হক নুরকে লেখা আবেগঘন পদত্যাগপত্র
রাশেদ খান তার পদত্যাগপত্র গণ অধিকার পরিষদের সভাপতি নুরুল হক নুরের কাছে পাঠিয়েছেন। চিঠিতে তিনি তাদের দীর্ঘ রাজনৈতিক বন্ধুত্বের স্মৃতি চারণ করেছেন এবং অতীতে ঘটে যাওয়া যেকোনো ভুলের জন্য ক্ষমা প্রার্থনা করেছেন।
ক্ষমা প্রার্থনা করে তিনি লিখেছেন যে আমরা ২০১৮ সালের আন্দোলন থেকে এখন পর্যন্ত দীর্ঘ সময় একসাথে লড়াই করেছি। এই চলার পথে আমার কোনো কাজ বা কথায় যদি কোনো সহযোদ্ধা বা কর্মী কষ্ট পেয়ে থাকেন তবে আমি তার জন্য অন্তর থেকে ক্ষমা চাচ্ছি। তিনি তার পদত্যাগপত্র গ্রহণ করার জন্য নুরুল হক নুরকে ধন্যবাদ জানান এবং আশা প্রকাশ করেন যে রাজনৈতিক পথ আলাদা হলেও তাদের ভ্রাতৃত্বের বন্ধন অটুট থাকবে।
রাশেদ খানের রাজনৈতিক পরিবর্তনের একটি বিশ্লেষণ
১২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ তারিখে অনুষ্ঠিতব্য সাধারণ নির্বাচনের প্রেক্ষাপটে এই পদক্ষেপটি জিওপি এবং বিএনপি উভয় দলের জন্যই অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। নিচে তার এই পরিবর্তনের একটি সংক্ষিপ্ত রূপরেখা দেওয়া হলো
| বৈশিষ্ট্য | পূর্বের অবস্থান | নতুন অবস্থান |
| রাজনৈতিক দল | গণ অধিকার পরিষদ | বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) |
| পদ ও ভূমিকা | সাধারণ সম্পাদক | সংসদ সদস্য পদপ্রার্থী (ঝিনাইদহ ৪) |
| রাজনৈতিক সহযোদ্ধা | নুরুল হক নুর | বিএনপির শীর্ষ নেতৃত্ব |
| নির্বাচনী প্রতীক | দলীয় নিজস্ব প্রতীক | ধানের শীষ |
Also read:আলবিদা কোচ সিলেট স্টেডিয়ামে মাহবুব আলী জাকিরকে অশ্রুসজল বিদায় শোকাতুর ক্রীড়াঙ্গন
সাধারণ কিছু জিজ্ঞাসা ও উত্তর
১ রাশেদ খান কেন দল ছেড়েছেন?
তিনি ঝিনাইদহ ৪ আসন থেকে বিএনপির টিকিটে জাতীয় নির্বাচনে অংশ নেওয়ার জন্য পদত্যাগ করেছেন।
২ নুরুল হক নুর কি তার পদত্যাগপত্র গ্রহণ করেছেন?
হ্যাঁ রাশেদ খান জানিয়েছেন যে সভাপতি নুরুল হক নুর তার পদত্যাগপত্র গ্রহণে সম্মতি দিয়েছেন।
৩ রাশেদ খানের রাজনৈতিক অভিজ্ঞতা কেমন?
তিনি ২০১৮ সালের কোটা সংস্কার আন্দোলনের অন্যতম শীর্ষ নেতা এবং দীর্ঘ সময় ধরে বাংলাদেশে যুব নেতৃত্বে রাজনীতিতে সক্রিয় ভূমিকা পালন করছেন।
সারসংক্ষেপ এবং আপনার মতামত
গণ অধিকার পরিষদ থেকে রাশেদ খানের প্রস্থান বাংলাদেশের নির্বাচনী সমীকরণে একটি বড় পরিবর্তন। তিনি তার কর্মীদের কাছে ক্ষমা চেয়ে নিজের রাজনৈতিক মর্যাদা বজায় রাখার চেষ্টা করেছেন। তবে এখন দেখার বিষয় হলো ঝিনাইদহ ৪ আসনের সাধারণ মানুষ তাকে বিএনপির প্রার্থী হিসেবে কতটা গ্রহণ করবে।
আপনার মতে রাশেদ খানের কি নিজের রাজনৈতিক ক্যারিয়ারের জন্য বিএনপিতে যোগ দেওয়া সঠিক হয়েছে? এর ফলে কি নুরুল হক নুরের দল সাংগঠনিকভাবে দুর্বল হয়ে পড়বে? আপনার মূল্যবান মতামত কমেন্টে জানান।
সতর্কবার্তা
এই সংবাদটি বিভিন্ন নির্ভরযোগ্য উৎস এবং জনসমক্ষে উপলব্ধ তথ্যের ওপর ভিত্তি করে তৈরি করা হয়েছে। প্রদত্ত বিষয়বস্তু শুধুমাত্র তথ্য এবং বিনোদনের উদ্দেশ্যে যা কোনো চূড়ান্ত বা নিশ্চিত বিবৃতি হিসেবে গণ্য করা উচিত নয়। সংবাদের মতামত বা বিশ্লেষণ লেখকের ব্যক্তিগত এবং কোনো প্রতিষ্ঠান বা সংস্থার প্রতিনিধিত্ব করে না। সময়ের সাথে সাথে তথ্যের পরিবর্তন হতে পারে তাই যাচাইয়ের জন্য পাঠকদের অফিশিয়াল উৎসে যোগাযোগ করার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। এই সংবাদের তথ্যের ওপর নির্ভর করে কোনো ভুল বোঝাবুঝি বা ক্ষতির জন্য দায় স্বীকার করা হবে না।
