Advertisement
বাংলাদেশের কৃষি ভাণ্ডার হিসেবে পরিচিত রাজশাহীর তানোর এবং বিশেষ করে গোদাগাড়ী উপজেলার টমেটো চাষিরা চলতি মৌসুমে চরম অর্থনৈতিক সংকটের মুখে পড়েছেন। টমেটোর দুর্গ হিসেবে খ্যাত গোদাগাড়ীতে এবার কাঙ্ক্ষিত ফলন পাওয়া যায়নি। কৃষকদের অভিযোগ নিম্নমানের বীজ এবং জলবায়ু পরিবর্তন তাদের সমস্ত পরিশ্রম ধুলোয় মিশিয়ে দিয়েছে। এ বছর বিনিয়োগ করা টাকা তুলে আনাও প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়েছে যা স্থানীয় কৃষক সমাজকে হতাশায় নিমজ্জিত করেছে।
ফলন বিপর্যয়ের কারণ বীজের সংকট ও বৈরী আবহাওয়া
গোদাগাড়ীর রামনগর হেলিপ্যাড নবগ্রাম এবং আমতলা এলাকায় সরেজমিনে দেখা গেছে যে কৃষকরা টমেটো তুলছেন ঠিকই কিন্তু বিঘা প্রতি ফলন গত বছরের তুলনায় অনেক কম।
Advertisement
নিম্নমানের বীজ রামনগরের কৃষকরা জানিয়েছেন যে বাজার থেকে কেনা বীজ থেকে চারা ভালো গজায়নি। টমেটোর আকার ছোট রয়ে গেছে এবং গাছগুলো রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা হারিয়ে ফেলেছে।
Advertisement
আবহাওয়ার প্রভাব গত কয়েক দিনের তীব্র শীত ঘন কুয়াশা এবং হিমেল হাওয়ার কারণে টমেটো পাকার প্রক্রিয়া ধীর হয়ে গেছে। সূর্যের আলোর অভাবে টমেটো স্বাভাবিক লাল বর্ণ ধারণ করতে পারছে না যার সরাসরি প্রভাব পড়ছে বাজারমূল্যে।
Advertisement
টমেটো প্রক্রিয়াজাতকরণ ও বাজারজাতকরণ পরিস্থিতি
মাঠে ফলন কম হলেও বাণিজ্যিক কেন্দ্রগুলো এখন ব্যস্ত। রামনগর এবং হেলিপ্যাড এলাকায় প্রায় ৩০টি স্থানে টমেটো প্রক্রিয়াজাতকরণের কাজ চলছে।
প্রক্রিয়াজাতকরণ পদ্ধতি কাঁচা টমেটোতে ইথেফন এবং ডিথেন এম স্প্রে করা হয়। এরপর সূর্যের আলোতে প্রায় ১০ দিন শুকানোর পর সেগুলো লাল বর্ণ ধারণ করে।
পরিবহন ব্যবস্থা টমেটো পুরোপুরি লাল হয়ে গেলে ট্রাকের মাধ্যমে ঢাকা চট্টগ্রাম এবং সিলেটের মতো বড় শহরের পাইকারি বাজারে পাঠিয়ে দেওয়া হয়।
এক নজরে মৌসুমের পরিসংখ্যান
| বিস্তারিত | পরিসংখ্যান |
| চাষাবাদের এলাকা | প্রায় ২,৬৭০ হেক্টর |
| প্রত্যাশিত আয় | ১১২ কোটি ১৪ লক্ষ টাকা |
| কর্মসংস্থান | ৮,০০০ থেকে ৯,০০০ মানুষ (অস্থায়ী) |
| বাজার দর | ৪-৫ কেজি ওজনের প্রতি মণ ৭০০ থেকে ৮০০ টাকা |
কোটি টাকার বাণিজ্য নিয়ে ব্যবসায়ী ও আড়তদারদের উদ্বেগ
গোদাগাড়ীর টমেটো মৌসুম আরও দুই মাস চলবে বলে আশা করা হচ্ছে। ধারণা করা হচ্ছে এই মৌসুমে শুধু এই এলাকাতেই প্রায় ১২৫ কোটি টাকার ব্যবসা হবে। দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আসা ব্যবসায়ীরা এখানে অস্থায়ী ক্যাম্প স্থাপন করেছেন। তবে কৃষকদের মতো ব্যবসায়ীরাও বেশ চিন্তিত। ঢাকার ব্যবসায়ীরা জানিয়েছেন যে মৌসুমের শুরুতেই টমেটোর দাম চড়া। যদি শহরে সঠিক দাম না পাওয়া যায় তবে তাদের বড় অঙ্কের লোকসান গুনতে হতে পারে।
also read:হাম্মদ রাশেদ খানের পদত্যাগ ও বিএনপিতে যোগদান বাংলাদেশের রাজনীতিতে নতুন মোড়
সাধারণ কিছু জিজ্ঞাসা ও উত্তর
১ টমেটো উৎপাদন কমার প্রধান কারণ কী?
নিম্নমানের ভেজাল বীজ এবং তীব্র শীত ও কুয়াশাচ্ছন্ন আবহাওয়াই এ বছর ফলন বিপর্যয়ের প্রধান কারণ হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে।
২ টমেটো কেন কৃত্রিমভাবে পাকানো হয়?
দূরবর্তী স্থানে পরিবহনের সময় টমেটো যেন পচে না যায় এবং বাজারের চাহিদা মেটাতে কাঁচা টমেটো তুলে কেমিক্যাল ব্যবহারের মাধ্যমে পাকানো হয়।
৩ এই সংকটের কারণে টমেটোর দামে কী প্রভাব পড়বে?
উৎপাদন কম হওয়ায় বড় শহরগুলোতে টমেটোর দাম বৃদ্ধির আশঙ্কা রয়েছে যার সরাসরি প্রভাব পড়বে সাধারণ ভোক্তার পকেটে।
সারসংক্ষেপ এবং আপনার মতামত
গোদাগাড়ীর অর্থনীতি মূলত টমেটো চাষের ওপর নির্ভরশীল। কিন্তু এ বছর বীজের সংকট এবং প্রতিকূল আবহাওয়া কৃষকদের জীবন জীবিকা কঠিন করে তুলেছে। ভেজাল বীজ সরবরাহকারী কোম্পানিগুলোর বিরুদ্ধে সরকারের কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া এবং ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের ক্ষতিপূরণ দেওয়া এখন সময়ের দাবি।
আপনার কি মনে হয় যে কোম্পানিগুলো খারাপ বীজ বিক্রি করে তাদের বড় অঙ্কের জরিমানা করা উচিত? আপনার এলাকায় কি সবজির দাম বাড়তে দেখেছেন? কমেন্টে আপনার মূল্যবান মতামত জানান।
সতর্কবার্তা
এই সংবাদটি বিভিন্ন নির্ভরযোগ্য উৎস এবং জনসমক্ষে উপলব্ধ তথ্যের ওপর ভিত্তি করে তৈরি করা হয়েছে। প্রদত্ত বিষয়বস্তু শুধুমাত্র তথ্য ও বিনোদনের উদ্দেশ্যে যা কোনো চূড়ান্ত বা নিশ্চিত বিবৃতি হিসেবে গণ্য করা উচিত নয়। সংবাদের মতামত বা বিশ্লেষণ লেখকের ব্যক্তিগত এবং কোনো প্রতিষ্ঠান বা সংস্থার প্রতিনিধিত্ব করে না। সময়ের সাথে সাথে তথ্যের পরিবর্তন হতে পারে তাই যাচাইয়ের জন্য পাঠকদের অফিশিয়াল উৎসে যোগাযোগ করার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। এই সংবাদের তথ্যের ওপর নির্ভর করে কোনো ভুল বোঝাবুঝি বা ক্ষতির জন্য দায় স্বীকার করা হবে না।
