Advertisement
বাংলাদেশের বৃহত্তম বিরোধী দল বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) এক নতুন রাজনৈতিক যুগে প্রবেশ করতে যাচ্ছে। দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান খুব শীঘ্রই আনুষ্ঠানিকভাবে পূর্ণাঙ্গ চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করতে যাচ্ছেন। বিএনপি স্থায়ী কমিটির নির্ভরযোগ্য সূত্র নিশ্চিত করেছে যে বেগম খালেদা জিয়ার পর দলের লাগাম আনুষ্ঠানিকভাবে তার ছেলে তারেক রহমানের হাতেই যাচ্ছে।
৩০ ডিসেম্বর ২০২৫ তারিখে বিএনপি চেয়ারপারসন এবং সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার মৃত্যুর পর দলের শীর্ষ পদটি শূন্য হয়ে পড়ে। ১৯৮৪ সাল থেকে টানা চার দশক ধরে খালেদা জিয়া বিএনপিকে নেতৃত্ব দিয়েছেন এবং দলটিকে দেশের অন্যতম শক্তিশালী রাজনৈতিক শক্তিতে পরিণত করেছেন। এখন তার সেই রাজনৈতিক উত্তরাধিকার তারেক রহমানের কাছে হস্তান্তর করা হচ্ছে।
Advertisement
বিএনপির গঠনতন্ত্র এবং তারেক রহমানের নিয়োগ প্রক্রিয়া
তারেক রহমানকে চেয়ারম্যান হিসেবে নিয়োগ দেওয়ার বিষয়টি কেবল একটি আবেগীয় সিদ্ধান্ত নয় বরং এটি সম্পূর্ণভাবে দলের গঠনতন্ত্রের সাথে সংগতিপূর্ণ। দলীয় সূত্রমতে বেগম খালেদা জিয়ার কারাবন্দী হওয়ার পর থেকেই তৎকালীন সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান তারেক রহমান ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করে আসছিলেন।
Advertisement
বিএনপির গঠনতন্ত্রের ৭ নম্বর ধারা অনুযায়ী
Advertisement
ধারা ৭ (গ) এর উপধারা (৩) এ উল্লেখ আছে যে
যদি চেয়ারম্যানের পদ শূন্য হয় তবে সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান অবশিষ্ট মেয়াদের জন্য চেয়ারম্যানের দায়িত্ব পালন করবেন।
নতুন চেয়ারম্যান আনুষ্ঠানিকভাবে নির্বাচিত না হওয়া পর্যন্ত তিনি এই পদে বহাল থাকবেন।
এই গঠনতান্ত্রিক বিধানের ভিত্তিতে বিএনপির নীতি নির্ধারকরা মনে করছেন তারেক রহমানকে আনুষ্ঠানিকভাবে চেয়ারম্যান হিসেবে ঘোষণা করার ক্ষেত্রে কোনো আইনি বা সাংগঠনিক বাধা নেই।
কবে নাগাদ আসতে পারে আনুষ্ঠানিক ঘোষণা
দলের অভ্যন্তরীণ সূত্রগুলো বলছে যে সাংগঠনিক ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে এবং নেতৃত্বের শূন্যতা পূরণ করতে আগামী এক বা দুই দিনের মধ্যে স্থায়ী কমিটির একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক ডাকার সম্ভাবনা রয়েছে। এই বৈঠকেই তারেক রহমানকে বর্তমান ভারপ্রাপ্ত অবস্থা থেকে স্থায়ী চেয়ারম্যান হিসেবে ঘোষণা করা হতে পারে।
তারেক রহমানের রাজনৈতিক যাত্রা বগুড়া থেকে লন্ডন
তারেক রহমানের রাজনীতিতে প্রবেশ কোনো আকস্মিক ঘটনা ছিল না এটি ছিল দীর্ঘ এক রাজনৈতিক পরিক্রমা। তিনি সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান এবং বেগম খালেদা জিয়ার জ্যেষ্ঠ পুত্র।
রাজনৈতিক জীবনের কিছু মাইলফলক
শুরু ১৯৮৮ সালে বগুড়ার গাবতলী থানা বিএনপির একজন সাধারণ সদস্য হিসেবে তার রাজনীতি শুরু হয়।
সাংগঠনিক ভূমিকা ১৯৯১ থেকে ১৯৯৬ সাল পর্যন্ত তিনি দলের বিভিন্ন স্তরে কাজ করে সাংগঠনিক অভিজ্ঞতা অর্জন করেন।
সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব ২০০২ সালে তিনি এই পদে আসীন হয়ে দলের কাঠামো আধুনিকীকরণ এবং কৌশল নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন।
নির্বাসন ও নেতৃত্ব ২০০৮ সাল থেকে তিনি চিকিৎসার জন্য যুক্তরাজ্যে অবস্থান করছেন। ২০১৮ সালে খালেদা জিয়া কারাগারে যাওয়ার পর তিনি লন্ডন থেকেই ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান হিসেবে দল পরিচালনা শুরু করেন।
also read:বড় পরিবর্তনের সংকেত মাজার জিয়ারতে জাইমা রহমান নতুন কোনো রাজনৈতিক ঝোড়ো হাওয়া কি আসছে
বিশ্লেষণ তারেক রহমান কি দলকে ঐক্যবদ্ধ রাখতে পারবেন
বেগম খালেদা জিয়ার অনুপস্থিতিতে বিএনপি এখন একাধিক চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি। দলের তরুণ সমর্থকরা তারেক রহমানের নেতৃত্বে উৎসাহিত হলেও রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন লন্ডন থেকে তৃণমূলের সাথে সংযোগ রক্ষা করা এবং দলের অভ্যন্তরীণ উপদলগুলোর মধ্যে ঐক্য বজায় রাখা তার জন্য একটি বড় পরীক্ষা হবে। বাংলাদেশের বর্তমান রাজনৈতিক উত্তপ্ত পরিস্থিতিতে তার এই আনুষ্ঠানিক নিয়োগ দলের কর্মীদের মধ্যে নতুন উদ্দীপনা তৈরি করবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
মূল তথ্যাবলী এক নজরে
| বিষয়ের নাম | বিস্তারিত তথ্য |
| বর্তমান পদ | ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান |
| সম্ভাব্য নতুন পদ | চেয়ারম্যান |
| রাজনৈতিক শুরু | ১৯৮৮ সাল (বগুড়া) |
| গঠনতান্ত্রিক ভিত্তি | ধারা ৭ (গ) ৩ |
সাধারণ কিছু জিজ্ঞাসা ও উত্তর
১ তারেক রহমান কি বর্তমানে বাংলাদেশে আছেন?
না তারেক রহমান বর্তমানে লন্ডনে অবস্থান করছেন এবং ডিজিটাল যোগাযোগ মাধ্যমের সাহায্যে দলের কার্যক্রম পরিচালনা করছেন।
২ তার এই নিয়োগ কি বৈধ?
হ্যাঁ বিএনপির গঠনতন্ত্রের ৭ নম্বর ধারা অনুযায়ী চেয়ারম্যানের পদ শূন্য হলে সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান স্বয়ংক্রিয়ভাবে সেই পদের দায়িত্ব নেওয়ার যোগ্যতা রাখেন।
৩ বেগম খালেদা জিয়া কবে মৃত্যুবরণ করেন?
সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া ৩০ ডিসেম্বর ২০২৫ তারিখে মৃত্যুবরণ করেন।
সারসংক্ষেপ ও আপনার মতামত
তারেক রহমান বিএনপির চেয়ারম্যান হওয়া বাংলাদেশের রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে একটি ঐতিহাসিক মোড় হিসেবে প্রমাণিত হতে পারে।
আপনি কি মনে করেন লন্ডন থেকে নেতৃত্ব দিয়ে তারেক রহমান বাংলাদেশের রাজনীতিতে কোনো অর্থবহ পরিবর্তন আনতে পারবেন? তার নেতৃত্বে কি বিএনপি পুনরায় ক্ষমতায় ফিরতে পারবে? আপনার চিন্তাভাবনা কমেন্টে শেয়ার করুন এবং সর্বশেষ রাজনৈতিক আপডেটের জন্য আমাদের সাথে থাকুন।
সতর্কবার্তা
এই সংবাদটি বিভিন্ন নির্ভরযোগ্য উৎস এবং জনসমক্ষে উপলব্ধ তথ্যের ওপর ভিত্তি করে তৈরি করা হয়েছে। প্রদত্ত বিষয়বস্তু শুধুমাত্র তথ্য ও বিনোদনের উদ্দেশ্যে যা কোনো চূড়ান্ত বা নিশ্চিত বিবৃতি হিসেবে গণ্য করা উচিত নয়। সংবাদের মতামত বা বিশ্লেষণ লেখকের ব্যক্তিগত এবং কোনো প্রতিষ্ঠান বা সংস্থার প্রতিনিধিত্ব করে না। সময়ের সাথে সাথে তথ্যের পরিবর্তন হতে পারে তাই যাচাইয়ের জন্য পাঠকদের অফিশিয়াল উৎসে যোগাযোগ করার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। এই সংবাদের তথ্যের ওপর নির্ভর করে কোনো ভুল বোঝাবুঝি বা ক্ষতির জন্য দায় স্বীকার করা হবে না
