Friday, January 2, 2026
Homeখবর“জাহাঙ্গীরনগরের শিক্ষার্থীদের আস্থার প্রতিদান দিতে চাই” : নবনির্বাচিত জাকসু ভিপি জিতুর অঙ্গীকার

“জাহাঙ্গীরনগরের শিক্ষার্থীদের আস্থার প্রতিদান দিতে চাই” : নবনির্বাচিত জাকসু ভিপি জিতুর অঙ্গীকার

Advertisement

ভূমিকা

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় (জাবি) ইতিহাস রচনা করেছে বহুল প্রত্যাশিত জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (জাকসু) নির্বাচন আয়োজনের মাধ্যমে। দীর্ঘ ৩৩ বছর পর শিক্ষার্থীরা তাদের অধিকার ফিরে পেল এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের নানা বিষয়ে সরাসরি মত প্রকাশের সুযোগ পেল। এ নির্বাচনে ভাইস-প্রেসিডেন্ট (ভিপি) পদে বিপুল ভোটে জয় লাভ করেন আব্দুর রশিদ জিতু।

জিতুর জয় শুধু ব্যক্তিগত অর্জন নয়; এটি শিক্ষার্থীদের প্রতিনিধিত্ব, জবাবদিহিতা এবং পরিবর্তনের প্রত্যাশার প্রতীক। নির্বাচনের পর তিনি ঘোষণা দেন—“জাহাঙ্গীরনগরের শিক্ষার্থীদের আস্থার প্রতিদান দিতে চাই।”

Advertisement

এই প্রতিবেদনে আলোচনা করা হলো জিতুর অঙ্গীকার, একটি নিরাপদ ও অন্তর্ভুক্তিমূলক ক্যাম্পাস গড়ার পরিকল্পনা এবং শিক্ষার্থীদের প্রধান সমস্যাগুলো সমাধানের প্রতি তার অগ্রাধিকার।

Advertisement

৩৩ বছরের অপেক্ষার অবসান

অভূতপূর্ব ৩৩ বছর পর অনুষ্ঠিত জাকসু নির্বাচন ছিল বাংলাদেশের ছাত্ররাজনীতির অন্যতম আলোচিত ঘটনা। নির্বাচনী কমিশনের ঘোষিত ফলাফলে দেখা যায়, ভিপি পদে জিতু পেয়েছেন ৩,৩২৪ ভোট। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী, শিবির-সমর্থিত সম্মিলিত ছাত্র জোটের আরিফ উল্লাহ পেয়েছেন ২,৩৭৯ ভোট।

Advertisement

এ ফলাফলের ব্যবধান শুধু জিতুর জনপ্রিয়তাই প্রকাশ করেনি, বরং জাহাঙ্গীরনগরের শিক্ষার্থীদের প্রত্যাশার দিকও স্পষ্ট করেছে।

জিতুর প্রথম অঙ্গীকার: নিরাপদ ও অন্তর্ভুক্তিমূলক ক্যাম্পাস

অগ্রাধিকার সম্পর্কে জানতে চাইলে জিতু জানান:

  • ক্যাম্পাস নিরাপত্তা: শ্রেণিকক্ষ থেকে শুরু করে হল পর্যন্ত প্রতিটি শিক্ষার্থীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা।
  • অন্তর্ভুক্তি: বিশ্বাস, মত ও পটভূমি নির্বিশেষে সবার জন্য উন্মুক্ত একটি ছাত্রসংসদ গড়ে তোলা।

যেখানে মতাদর্শগত বিভাজন প্রায়ই দেখা যায়, সেখানে এই দৃষ্টিভঙ্গি শিক্ষার্থীদের জন্য শান্তিপূর্ণ ও সহযোগিতামূলক পরিবেশ সৃষ্টির বার্তা বহন করে।

জাহাঙ্গীরনগর শিক্ষার্থীদের প্রধান সমস্যা

আনন্দঘন মুহূর্তের মাঝেও শিক্ষার্থীদের সামনে রয়েছে নানা সমস্যা। জিতুর মতে—

  • ক্লাসরুম সংকট: অতিরিক্ত শিক্ষার্থী, পর্যাপ্ত শ্রেণিকক্ষের অভাব।
  • হলের অবস্থা: সুযোগ-সুবিধার ঘাটতি, অপ্রতুল আসন, রক্ষণাবেক্ষণের সমস্যা।
  • চিকিৎসা সেবা: বিশ্ববিদ্যালয় মেডিকেল সেন্টারের সীমিত সক্ষমতা।
  • যাতায়াত সংকট: পর্যাপ্ত বাস না থাকায় শিক্ষার্থীদের দুর্ভোগ।
  • শিক্ষাব্যবস্থার পরিবেশ: শৃঙ্খলা, ন্যায়পরায়ণতা ও একাডেমিক সততা নিশ্চিত করা।

এই সমস্যাগুলো সমাধানে সংশ্লিষ্ট সবার সঙ্গে সমন্বয় করে কাজ করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন তিনি।

ছাত্রঅধিকার পুনরুদ্ধার: রাজনীতির ঊর্ধ্বে

ভিপি হওয়া তার একমাত্র লক্ষ্য ছিল না বলে জানিয়েছেন জিতু। বরং তার আন্দোলন ছিল ৩৩ বছর ধরে অচল হয়ে থাকা জাকসুকে পুনরুজ্জীবিত করা এবং শিক্ষার্থীদের অধিকার ফিরিয়ে আনার জন্য।

তার বিজয় শিক্ষার্থীদের ক্ষমতায়নের প্রতীক এবং ক্যাম্পাসের সিদ্ধান্তে শিক্ষার্থীদের মতামতকে গুরুত্ব দেওয়ার একটি নতুন অধ্যায়ের সূচনা।

শিক্ষার্থীদের প্রত্যাশা

জিতুর নেতৃত্ব নিয়ে শিক্ষার্থীদের মধ্যে আশাবাদ বিরাজ করছে। অনেকে মনে করছেন, এই নির্বাচন বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনে আস্থা পুনর্গঠনের সুযোগ তৈরি করেছে এবং শিক্ষার্থীদের জীবনমান উন্নয়নে বাস্তব পরিবর্তন আসতে পারে।

একজন শিক্ষার্থী বলেন, “আমরা প্রতিশ্রুতি নয়, সমাধান চাই।” কঠোর পরিশ্রম ও সততার মাধ্যমে জিতু ভবিষ্যৎ নেতৃত্বের জন্য দৃষ্টান্ত হয়ে উঠতে পারেন।

Also Read:চাঞ্চল্যকর ঘটনা: চলন্ত ট্রেন থেকে ঝাঁপ দেওয়ার পর ভারতীয় অভিনেত্রী করিশ্মা শর্মা আহত

কেন জিতুর নেতৃত্ব জাবির ভবিষ্যতের জন্য গুরুত্বপূর্ণ

  • ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট: ৩৩ বছরের অচলাবস্থার অবসান।
  • শিক্ষার্থী-কেন্দ্রিক দৃষ্টি: নিরাপত্তা, কল্যাণ ও অন্তর্ভুক্তিকে অগ্রাধিকার।
  • গণতান্ত্রিক বৈধতা: বড় ব্যবধানে বিজয় শিক্ষার্থীদের আস্থা প্রমাণ করেছে।

এর মানে, ভিপি হিসেবে জিতুর ভূমিকা শুধু আনুষ্ঠানিক নয়; বরং শিক্ষার্থীরা তাকে প্রতিশ্রুতিগুলো বাস্তবায়নের জন্য জবাবদিহি করবে।

প্রশ্নোত্তর

প্রশ্ন ১: জাকসু কী এবং কেন গুরুত্বপূর্ণ?
জাকসু (জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ) হলো জাবি শিক্ষার্থীদের আনুষ্ঠানিক প্রতিনিধিত্বকারী সংগঠন। এটি শিক্ষার্থীদের দাবি-দাওয়া তুলে ধরে, প্রশাসনের সঙ্গে সমন্বয় করে এবং কল্যাণমূলক কার্যক্রম পরিচালনা করে।

প্রশ্ন ২: ভিপি হিসেবে জিতুর প্রথম কাজ কী হবে?
তিনি ক্যাম্পাস নিরাপত্তা এবং অন্তর্ভুক্তিমূলক পরিবেশ তৈরিকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিতে চান।

প্রশ্ন ৩: শিক্ষার্থীদের প্রধান সমস্যা কী কী?
হলের অবস্থা, শ্রেণিকক্ষ সংকট, পরিবহন সমস্যা এবং পর্যাপ্ত চিকিৎসা সুবিধার অভাব।

প্রশ্ন ৪: জিতুর জয় কতটা গুরুত্বপূর্ণ ছিল?
তিনি পেয়েছেন ৩,৩২৪ ভোট, যেখানে প্রতিদ্বন্দ্বী পেয়েছেন ২,৩৭৯ ভোট। এই ব্যবধান শিক্ষার্থীদের আস্থা ও সমর্থনের স্পষ্ট প্রমাণ।

আহ্বান

আপনি জিতুর পরিকল্পনা সম্পর্কে কী মনে করেন? নিচে মন্তব্য করুন এবং আলোচনায় যোগ দিন। আরও আপডেট পেতে আমাদের সামাজিক মাধ্যমে অনুসরণ করুন এবং নিউজলেটারে সাবস্ক্রাইব করুন।

সম্পর্কিত প্রবন্ধ

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

সবচেয়ে বেশি পঠিত