Friday, January 2, 2026
Homeখবররিজভীর সতর্কবার্তা: বাংলাদেশের গণতন্ত্রকে হুমকি দিচ্ছে ‘বিপজ্জনক শক্তি’

রিজভীর সতর্কবার্তা: বাংলাদেশের গণতন্ত্রকে হুমকি দিচ্ছে ‘বিপজ্জনক শক্তি’

Advertisement

ভূমিকা

রাজনৈতিক অনিশ্চয়তার সময়ে বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী সতর্ক করেছেন যে, বাংলাদেশের গণতন্ত্র, সাংস্কৃতিক বৈচিত্র্য ও ধর্মীয় স্বাধীনতাকে হুমকির মুখে ফেলছে একদল ‘বিপজ্জনক শক্তি’। বাংলাদেশ ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার্স অ্যাসোসিয়েশন আয়োজিত আলোচনা ও দোয়া মাহফিলে তিনি বলেন, সবার ওপর একই ধাঁচ চাপিয়ে দেওয়ার চেষ্টা দেশকে ফ্যাসিবাদ, উগ্রবাদ ও চরমপন্থার দিকে ঠেলে দিতে পারে।

এই প্রতিবেদনে আলোচনা করা হলো রিজভীর আশঙ্কা, তার মন্তব্যের সাংস্কৃতিক ও রাজনৈতিক প্রভাব এবং কেন তিনি মনে করেন বাংলাদেশের পরিচয় ঝুঁকির মুখে।

Advertisement

রিজভীর মূল সতর্কবার্তা: ‘বিপজ্জনক শক্তি’র উত্থান

রিজভীর বক্তব্যের মূল বিষয় ছিল বাংলাদেশের রাজনীতি ও সংস্কৃতিতে ক্রমবর্ধমান কর্তৃত্ববাদী প্রবণতা। তিনি বলেন, জোরপূর্বক একরূপতা চাপিয়ে দেওয়া গণতন্ত্রের জন্য হুমকি, কারণ এতে ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক স্বাধীনতা ক্ষুণ্ন হয়।

Advertisement

রিজভী বলেন, “আমরা এখন যে দৃশ্য দেখছি, তা গণতন্ত্রের জন্য ক্ষতিকর, গণতান্ত্রিক মূল্যবোধের জন্য ক্ষতিকর এবং আমাদের জনগণের ধর্মীয় বিশ্বাসের জন্য হুমকি।”

Advertisement

তার মতে, এই শক্তিগুলো শুধু রাজনীতি নিয়ন্ত্রণ করতে চায় না, বরং দেশের সংস্কৃতিকেও এমনভাবে পাল্টাতে চায় যাতে বৈচিত্র্যের মূল্য কমে যায়।

বিএনপির দৃষ্টিভঙ্গি: বাংলাদেশের সাংস্কৃতিক পরিচয় রক্ষা

রিজভী দাবি করেন, বিএনপি দেশের সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের রক্ষক, যেখানে ধর্মীয় চর্চা এবং বিনোদন একসাথে বিদ্যমান:

  • ধর্মীয় অনুশীলন: প্রতিদিনের নামাজ ও ঐতিহ্যবাহী ধর্মীয় আচরণ।
  • সাংস্কৃতিক প্রকাশ: সংগীত, নাটক, টেলিভিশন অনুষ্ঠানসহ নানা বিনোদনমূলক কার্যক্রম।

তিনি বলেন, একপাক্ষিক আধিপত্য চাপিয়ে দেওয়ার চেষ্টা এই ভারসাম্য নষ্ট করতে পারে এবং দেশকে ফ্যাসিবাদ ও ধর্মীয় উগ্রবাদের দিকে নিয়ে যেতে পারে।

জামায়াতে ইসলামী ও চরমপন্থী রাজনীতির সমালোচনা

রিজভী জামায়াতে ইসলামীর কড়া সমালোচনা করে বলেন, তারা ইসলামের নামে মওদুদীর চিন্তাধারা ছড়িয়ে দিতে চাইছে। তার অভিযোগ, জামায়াত জনগণের ধর্মীয় অনুভূতিকে ব্যবহার করছে রাজনৈতিক স্বার্থে, অথচ বাংলাদেশে ইসলাম আগেই প্রতিষ্ঠিত।

তিনি সতর্ক করেন, এর ফলে চরমপন্থী রাজনীতি স্বাভাবিক হয়ে উঠতে পারে, যেখানে ধর্মকে রাজনৈতিক হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করা হবে, যা জাতীয় ঐক্যকে দুর্বল করে অস্থিতিশীলতা সৃষ্টি করতে পারে।

ডাকসু ও জাকসু নির্বাচনে অনিয়মের অভিযোগ

সাংস্কৃতিক প্রশ্ন ছাড়াও রিজভী সাম্প্রতিক ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু) এবং জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (জাকসু) নির্বাচনে নানা অনিয়মের অভিযোগ তুলেছেন।

  • ভোটপত্র মুদ্রণ: তিনি দাবি করেন, সরকারি ছাপাখানার পরিবর্তে একটি রাজনৈতিক দল-সংযুক্ত বেসরকারি প্রেসে ব্যালট ছাপানো হয়েছিল।
  • শিক্ষকদের পদত্যাগ: জাবির কয়েকজন শিক্ষক অনিয়মের প্রতিবাদে নির্বাচন দায়িত্ব থেকে সরে দাঁড়ান।
  • বর্জনমূলক নীতি: তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের নতুন আচরণবিধির সমালোচনা করেন, যেখানে প্রাক্তন শিক্ষার্থীদের ক্যাম্পাসে প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়েছে।

রিজভীর মতে, এগুলো আসলে একটি “গভীর ষড়যন্ত্রের নকশা”, যার লক্ষ্য জাতীয়তাবাদী ও বিএনপি-সমর্থিত ছাত্র সংগঠনগুলোকে দুর্বল করা।

Also Read:“জাহাঙ্গীরনগরের শিক্ষার্থীদের আস্থার প্রতিদান দিতে চাই” : নবনির্বাচিত জাকসু ভিপি জিতুর অঙ্গীকার

কেন এটি গুরুত্বপূর্ণ: গণতন্ত্র ও বহুত্ববাদ হুমকিতে

রিজভীর সতর্কবার্তা বাংলাদেশের বর্তমান সমস্যার গভীরতাকে তুলে ধরে:

  • গণতান্ত্রিক সততা: অবিশ্বস্ত নির্বাচন প্রক্রিয়া মানুষের প্রতিষ্ঠানগুলোর প্রতি আস্থা কমায়।
  • ধর্মীয় স্বাধীনতা: ধর্মকে রাজনৈতিক কাজে ব্যবহার করলে বহুত্ববাদ ক্ষতিগ্রস্ত হয়।
  • সাংস্কৃতিক বৈচিত্র্য: সংগীত, নাটক বা শিল্পকে দমন করলে জাতীয় পরিচয় ক্ষুণ্ন হয়।
  • প্রজন্মের ওপর প্রভাব: বিশ্ববিদ্যালয়গুলো মতাদর্শিক দ্বন্দ্বের জায়গায় পরিণত হচ্ছে।

যদি এই শক্তিগুলোকে প্রতিহত না করা হয়, তবে তা বাংলাদেশের সাংস্কৃতিক ও গণতান্ত্রিক ভিত্তিকে দুর্বল করে দিতে পারে।

ছাত্ররাজনীতি: বড় সমস্যার উৎস?

দীর্ঘদিন ধরে বাংলাদেশের রাজনীতিতে বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। রিজভীর আশঙ্কা দেখাচ্ছে, ছাত্রনির্বাচনের অনিয়ম বড় ধরনের প্রভাব ফেলতে পারে—যেমন বিরোধী কণ্ঠস্বর দমন এবং কর্তৃত্ববাদী প্রবণতা শক্তিশালী করা।

অনেকেই উদ্বিগ্ন যে ছাত্ররাজনীতি আজ ভিন্নমত দমনের হাতিয়ার হয়ে উঠছে, রিজভীর বক্তব্য সেই আশঙ্কাকেই প্রতিধ্বনিত করছে।

প্রশ্নোত্তর

প্রশ্ন ১: রিজভী ‘বিপজ্জনক শক্তি’ বলতে কী বোঝাতে চেয়েছেন?
তিনি রাজনৈতিক ও আদর্শিক আন্দোলনের কথা বলেছেন, যা গণতন্ত্র, ধর্মীয় স্বাধীনতা ও সাংস্কৃতিক বৈচিত্র্যের জন্য হুমকি।

প্রশ্ন ২: জামায়াতে ইসলামী সম্পর্কে রিজভীর সমালোচনা কী?
তিনি বলেন, জামায়াত ইসলামের আড়ালে মওদুদীর চিন্তাধারা চাপিয়ে দিতে চাইছে এবং ধর্মকে রাজনৈতিক স্বার্থে ব্যবহার করছে।

প্রশ্ন ৩: ছাত্রনির্বাচনে কী কী অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে?
বেসরকারি প্রেসে ভোটপত্র মুদ্রণ, শিক্ষকদের পদত্যাগ এবং প্রাক্তন শিক্ষার্থীদের ক্যাম্পাসে নিষিদ্ধকরণ।

প্রশ্ন ৪: বিএনপি বাংলাদেশের সাংস্কৃতিক পরিচয়কে কীভাবে দেখে?
বিএনপি বিশ্বাস ও বিনোদনের মধ্যে ভারসাম্যের ওপর জোর দেয়—যেখানে মানুষ নামাজ পড়তে পারে, নাটক-সংগীত উপভোগ করতে পারে, কিন্তু কোনো একরূপতায় বাধ্য হয় না।

আহ্বান

আপনি কি রিজভীর সঙ্গে একমত যে, বাংলাদেশে ‘বিপজ্জনক শক্তি’র উত্থান ঘটছে? নিচে আপনার মতামত দিন এবং আলোচনায় যোগ দিন।

সম্পর্কিত প্রবন্ধ

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

সবচেয়ে বেশি পঠিত