Advertisement
ভূমিকা
রবিবার, মালদ্বীপ জাতীয় প্রতিরক্ষা বাহিনী (MNDF)-এর প্রধান মেজর জেনারেল ইব্রাহিম হিলমি ঢাকা ক্যান্টনমেন্ট নৌ সদর দপ্তরে বাংলাদেশ নৌবাহিনী প্রধান অ্যাডমিরাল ম নাজমুল হাসানের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন। এটি মালদ্বীপ ও বাংলাদেশের মধ্যে সামরিক সহযোগিতা উন্নয়নের একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ।
এই সফর প্রদর্শন করে যে উভয় দেশই সামরিক প্রশিক্ষণ, প্রতিরক্ষা সহযোগিতা এবং কৌশলগত অংশীদারিত্ব বাড়াতে আগ্রহী। তিনদিনব্যাপী এই সরকারি সফরের নেতৃত্ব দিচ্ছেন মেজর জেনারেল হিলমি, যার লক্ষ্য দুই দেশের প্রতিরক্ষা সম্পর্ক আরও দৃঢ় করা।
Advertisement
উষ্ণ অভ্যর্থনা ও গার্ড অব অনার
MNDF প্রধান নৌ সদর দপ্তরে পৌঁছালে একটি সশস্ত্র নৌবাহিনী গার্ড অব অনার দ্বারা তাকে অভ্যর্থনা জানানো হয়। এটি দেখায় যে বাংলাদেশ নৌবাহিনী মালদ্বীপ সশস্ত্র বাহিনীর প্রতি বন্ধুত্ব ও সম্মান প্রদর্শন করছে।
Advertisement
সাংবাদিক এবং নৌ সদর দপ্তরের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাদের সঙ্গে মালদ্বীপ হাই কমিশনের প্রতিনিধিরাও উপস্থিত ছিলেন।
Advertisement
সামরিক ও বেসামরিক প্রশিক্ষণ ও সহযোগিতা বিষয়ে আলোচনা
ISPR জানিয়েছে, অ্যাডমিরাল নাজমুল হাসান ও মেজর জেনারেল হিলমি আলোচনা করেছেন:
- সেনাদের প্রশিক্ষণের উন্নত উপায়
- নৌবাহিনী পরিচালনার অভিজ্ঞতা ভাগাভাগি
- যৌথ প্রতিরক্ষা মহড়া শক্তিশালী করা ও সহযোগিতা বৃদ্ধি
MNDF প্রধান আশা প্রকাশ করেছেন যে বাংলাদেশের এবং মালদ্বীপের সশস্ত্র বাহিনীর মধ্যকার বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক আরও উন্নত হবে।
কার্যক্রম সংক্রান্ত ব্রিফিং
মালদ্বীপের প্রতিনিধি দল বাংলাদেশ নৌবাহিনীর দৈনন্দিন কার্যক্রম সম্পর্কে অবহিত হয়েছেন, যার মধ্যে:
- উপকূল রক্ষা ও নিরাপত্তা ব্যবস্থা
- নৌবাহিনী আধুনিকায়নের প্রচেষ্টা
- বঙ্গোপসাগরে কৌশলগত সামুদ্রিক সহযোগিতা
মুক্তিযুদ্ধের শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা
রবিবার সকালে মেজর জেনারেল হিলমি ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধের শহীদ বাংলাদেশ সশস্ত্র বাহিনীর সদস্যদের শ্রদ্ধা জানান। তিনি শিখা অনির্বাণে একটি পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন। এটি দেখায় যে উভয় দেশই তাদের সামরিক ইতিহাসকে সম্মান জানাতে এবং প্রতিরক্ষা কূটনীতি উন্নত করতে আন্তরিক।
বাংলাদেশে MNDF প্রতিনিধি দলের সফরসূচি
তিনদিনের সফরের সময় তারা:
- বাংলাদেশ সেনাবাহিনী, বিমানবাহিনী এবং সশস্ত্র বাহিনী বিভাগের প্রধান স্টাফ অফিসারদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করবেন।
- চট্টগ্রামের বাংলাদেশ নৌবাহিনী একাডেমি, মেশিন টুলস ফ্যাক্টরি, বাংলাদেশ অর্ডন্যান্স ফ্যাক্টরি এবং ঢাকার ন্যাশনাল ডিফেন্স কলেজ পরিদর্শন করবেন।
প্রতিনিধিরা বাংলাদেশে প্রতিরক্ষা অবকাঠামো, প্রশিক্ষণ পদ্ধতি ও কার্যক্ষমতা শিখবেন।
MNDF দল ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৫ তারিখে ঢাকা ত্যাগ করবেন। এই সফর সামরিক সহযোগিতা এবং কৌশলগত সংলাপে কেন্দ্রিত।
Also Read:বাংলাদেশে প্রতিবন্ধী অধিকার বাস্তবায়ন শক্তিশালী করা জরুরি
এই সফরের গুরুত্ব
- দুই দেশের সশস্ত্র বাহিনীর মধ্যকার বিশ্বাস ও সহযোগিতা বৃদ্ধি
- যৌথ নৌ মহড়া ও প্রশিক্ষণ কার্যক্রম সহজ করা
- ভারত মহাসাগরে নিরাপত্তা রক্ষা সহযোগিতা
পেশাদার দক্ষতা উন্নয়ন:
- নৌ অপারেশন, প্রশিক্ষণ ও প্রতিরক্ষা প্রযুক্তি বিষয়ে অভিজ্ঞতা বিনিময়
- দুর্যোগ মোকাবিলা ও দস্যুতা প্রতিরোধে সহযোগিতা
সামরিক কূটনীতি বৃদ্ধি:
- সৈন্যদের পারস্পরিক পরিচয়
- সরকারি সফর ও তথ্য ভাগাভাগি কৌশলগত সম্পর্ক মজবুত করে
বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, এই ধরনের সফর অঞ্চলে নিরাপত্তা বৃদ্ধি করে এবং মালদ্বীপের মতো ছোট দেশগুলোকে বাংলাদেশের বিস্তৃত নৌ অভিজ্ঞতা থেকে শেখার সুযোগ দেয়।
প্রশ্ন ও উত্তর
প্রশ্ন ১: মেজর জেনারেল ইব্রাহিম হিলমি কে?
উত্তর: তিনি মালদ্বীপ জাতীয় প্রতিরক্ষা বাহিনীর প্রধান এবং বাংলাদেশের সাথে প্রতিরক্ষা সম্পর্ক শক্তিশালী করতে এই সফর নেতৃত্ব দিচ্ছেন।
প্রশ্ন ২: তার সফরের উদ্দেশ্য কী?
উত্তর: তিনদিনব্যাপী সামরিক সমস্যা, পেশাদার প্রশিক্ষণ ও কৌশল বিষয়ে সহযোগিতা।
প্রশ্ন ৩: MNDF দল কোথায় যাবে?
উত্তর: চট্টগ্রামের বাংলাদেশ নৌবাহিনী একাডেমি, বাংলাদেশ অর্ডন্যান্স ফ্যাক্টরি, মেশিন টুলস ফ্যাক্টরি এবং ঢাকার ন্যাশনাল ডিফেন্স কলেজ।
প্রশ্ন ৪: এই সফরের গুরুত্ব কী?
উত্তর: দুই দেশের প্রতিরক্ষা সম্পর্ক শক্তিশালী করা, সামুদ্রিক নিরাপত্তা বৃদ্ধি, ভারত মহাসাগর অঞ্চলে স্থিতিশীলতা বজায় রাখা।
আহ্বান
এই সফর বাংলাদেশ ও মালদ্বীপের প্রতিরক্ষা সহযোগিতার নতুন পর্যায়ের সূচনা। আপনার মনে হয় কি সামরিক সহযোগিতা অঞ্চলের নিরাপত্তা আরও বৃদ্ধি করতে পারে? মন্তব্যে আপনার মতামত জানান।
