Advertisement
ভূমিকা
বাংলাদেশে প্রতিবন্ধী ব্যক্তিরা এখনো শিক্ষা, চাকরি এবং সমাজে সম্পূর্ণভাবে অংশগ্রহণে সমস্যার মুখোমুখি, যদিও আইন ও নীতি থাকা সত্ত্বেও। রবিবার, প্রতিবন্ধী অধিকার নিয়ে আগ্রহী ব্যক্তিরা জাতীয় প্রতিবন্ধী উন্নয়ন ফাউন্ডেশন (NFDDP)-এর সুবর্ণ ভবন অডিটোরিয়ামে মিলিত হয়ে ডিসাবিলিটি রাইটস ওয়াচ (DRW)-এর ধারণা নিয়ে আলোচনা করেন, যাতে প্রতিবন্ধী অধিকার সংরক্ষণ আরও শক্তিশালী করা যায়।
বিশেষজ্ঞরা বলেছেন, নিষ্ক্রিয় কমিটি পুনরায় চালু করা, বাজেট বৃদ্ধি এবং চাকরিতে কোটা প্রয়োগ নিশ্চিত করা অত্যন্ত জরুরি, যাতে প্রতিবন্ধী ব্যক্তিরা মূলধারার উন্নয়নে সম্পূর্ণভাবে অংশ নিতে পারেন।
Advertisement
বর্তমান আইন ও সমস্যাগুলো
অকার্যকর প্রশাসনিক কাঠামো
DRW-এর সদস্য সচিব খন্দকার জহুরুল আলম বলেন:
Advertisement
“আইন থাকা সত্ত্বেও সেগুলো সঠিকভাবে প্রয়োগ হচ্ছে না। ২০১৩ সালের আইন জাতীয় সমন্বয় কমিটি ও নির্বাহী কমিটি তৈরি করেছে, তবে তারা কার্যক্রমে সক্রিয় নয়। এই কমিটিগুলো পুনরায় সচল না করলে আমরা অগ্রগতি করতে পারব না।”
Advertisement
বিশেষজ্ঞরা একমত যে প্রশাসনিক কাঠামো সচল রাখা অত্যন্ত জরুরি, যাতে প্রতিবন্ধী অধিকার ও কর্মসূচি পর্যবেক্ষণ করা যায়।
বাজেট সীমাবদ্ধতা
অ্যাক্সেস বাংলাদেশ ফাউন্ডেশনের প্রধান মোহুয়া পাল বলেন:
“বর্তমান বাজেট ব্যবস্থায় প্রতিবন্ধী ব্যক্তিরা কেবল সামাজিক নিরাপত্তা ভাতা পেতে পারছে।”
তিনি আলাদা বাজেটের দাবি জানিয়েছেন, যাতে শিক্ষা, চাকরি, স্বাস্থ্য ও সামাজিক উন্নয়নে যথাযথ অর্থ ব্যবহার হয়।
তথ্য অভাব ও আন্তর্জাতিক নীতি অনুসরণ
প্রতিবন্ধী অন্তর্ভুক্তির বিশেষজ্ঞ ড. নাফিসুর রহমান বলেন, জাতিসংঘের প্রতিবন্ধী অধিকার সমীক্ষা কমিটিগুলো ২০১৭ সাল থেকে কার্যক্রমে নেই।
ঠিক তথ্য দিয়ে SDG রিপোর্ট তৈরি করা অত্যন্ত জরুরি, যাতে বাংলাদেশের অগ্রগতি পর্যবেক্ষণ করা যায় এবং আন্তর্জাতিক দায়িত্ব পূরণ করা সম্ভব হয়।
জাতীয় প্রতিষ্ঠান ও NFDDP-এর গুরুত্ব
সেন্টার ফর ডিসাবিলিটি ইন ডেভেলপমেন্ট (CDD)-এর পক্ষ থেকে মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর আলম বলেন:
“জাতীয় প্রতিবন্ধী উন্নয়ন ফাউন্ডেশন (NFDDP)-কে আরও শক্তিশালী করতে হবে, যাতে প্রতিবন্ধীরা মূলধারার উন্নয়নে অংশ নিতে পারে। দীর্ঘমেয়াদে সফলতার জন্য বাস্তবিক অংশগ্রহণ গুরুত্বপূর্ণ।”
প্রতিবন্ধী অধিকার সংক্রান্ত স্টেকহোল্ডাররা বলেন, NFDDP শুধুমাত্র সেবা দেয়ার জায়গা নয়, বরং নীতি বাস্তবায়নের কেন্দ্রবিন্দু হওয়া উচিত এবং মানুষ এখান থেকে নিজেদের অধিকার জানাতে পারবে।
চাকরি ও শিক্ষা কোটা
চাকরি-প্রার্থী প্রতিবন্ধী স্নাতক পরিষদের প্রধান মো. আলী হোসেন বলেন:
- সরকারি চাকরিতে প্রতিবন্ধীদের জন্য ১% কোটা পুনঃস্থাপন করা জরুরি।
- শিক্ষাগ্রহণরত যুব প্রতিবন্ধীরা চাকরি ছাড়া ক্ষমতায়িত বা স্বাধীন হতে পারবে না।
Also Read:বাংলাদেশে বাল্যবিবাহ: এখনও প্রতি দুই মেয়ের একজনের বিয়ে ১৮ বছরের আগে
স্টেকহোল্ডার আলোচনার মূল ভাবনা
- ২০১৩ সালের আইন অনুযায়ী নিষ্ক্রিয় কমিটিগুলো পুনরায় সচল করা।
- প্রতিবন্ধীদের জন্য আলাদা বাজেট বরাদ্দ করা, যা স্বাস্থ্য, শিক্ষা, চাকরি ও চলাচলের সহায়তায় ব্যবহার হবে।
- SDG রিপোর্ট ও আন্তর্জাতিক আইন অনুসরণে সঠিক তথ্য ব্যবহার নিশ্চিত করা।
- চাকরি কোটা পুনঃস্থাপন ও কারিগরি প্রশিক্ষণ উন্নত করা।
- NFDDP শক্তিশালী করা, যাতে দীর্ঘমেয়াদে বাস্তবিক অংশগ্রহণ ও কর্মসূচি সম্ভব হয়।
- সমাজে প্রতিবন্ধীদের ক্ষমতা ও অধিকার সম্পর্কে সচেতনতা বৃদ্ধি।
সবাই একমত যে এই উদ্যোগগুলো বাংলাদেশের জন্য জাতীয় পরিকল্পনা তৈরিতে সাহায্য করবে, যা প্রতিবন্ধীদের সংরক্ষণ ও ক্ষমতায়ন নিশ্চিত করবে।
বিশেষজ্ঞ মতামত
- মোহুয়া পাল: সামাজিক নিরাপত্তা পর্যাপ্ত নয়, সামগ্রিক বিনিয়োগ প্রয়োজন।
- ড. নাফিসুর রহমান: সঠিক তথ্য গুরুত্বপূর্ণ, যাতে আন্তর্জাতিক নিয়ম মেনে চলা যায়।
- মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর আলম: NFDDP মূলধারার অন্তর্ভুক্তির কেন্দ্র হওয়া উচিত।
- মো. আলী হোসেন: যুব প্রতিবন্ধীদের জন্য চাকরির কোটা জরুরি।
এই ধারণাগুলো একটি বহুমুখী পদ্ধতির অংশ, যেখানে সামাজিক সচেতনতা, আইন প্রয়োগ, বাজেট বরাদ্দ ও শিক্ষা অন্তর্ভুক্ত।
সাধারণ প্রশ্ন (FAQ)
প্রশ্ন ১: NFDDP-এর পূর্ণরূপ কী?
উত্তর: জাতীয় প্রতিবন্ধী উন্নয়ন ফাউন্ডেশন। এটি বাংলাদেশের একটি সরকারি সংস্থা, যা প্রতিবন্ধী ব্যক্তির অধিকার, স্বাস্থ্য ও অন্তর্ভুক্তি সংরক্ষণে কাজ করে।
প্রশ্ন ২: কেন প্রতিবন্ধীদের অধিকার যথাযথভাবে প্রয়োগ হচ্ছে না?
উত্তর: কমিটি সচল নয়, পর্যাপ্ত বাজেট নেই, সামাজিক বাধা রয়েছে।
প্রশ্ন ৩: প্রস্তাবিত পদক্ষেপগুলো কী?
উত্তর: NFDDP শক্তিশালী করা, কমিটি পুনরায় সচল করা, বাজেট বৃদ্ধি করা, চাকরিতে কোটা পুনঃস্থাপন।
প্রশ্ন ৪: সাধারণ মানুষ কীভাবে সাহায্য করতে পারে?
উত্তর: সকলকে অন্তর্ভুক্ত করা নীতি চাপানো, মানুষকে জানানো ও নিয়ম অনুসরণ নিশ্চিত করা।
আহ্বান
প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের অধিকার রক্ষা এবং অন্তর্ভুক্তি নিশ্চিত করার দায়িত্ব সবার। সরকারের, এনজিও ও কমিউনিটির সক্রিয় পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান করা হচ্ছে।
