Advertisement
জাতীয় পরিচয়পত্র (NID) বাংলাদেশের প্রতিটি নাগরিকের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি নথি। এটি শুধু পরিচয়পত্র নয়, বরং ব্যাংক অ্যাকাউন্ট খোলা, পাসপোর্টের আবেদন, জমি কেনা-বেচাসহ অসংখ্য সরকারি ও বেসরকারি সেবার জন্য অপরিহার্য।
তবে এতদিন এনআইডি হারালে নতুন কার্ড পাওয়ার ঝামেলা নিয়ে নাগরিকদের ছিল অগণিত অভিযোগ।
Advertisement
কিন্তু সম্প্রতি নির্বাচন কমিশন (EC) নাগরিকদের জন্য সুখবর এনেছে। এখন থেকে হারানো এনআইডি পেতে আর থানায় সাধারণ ডায়েরি (GD) করতে হবে না। এই নতুন সিদ্ধান্ত কিভাবে আপনার জীবন সহজ করবে তা জানুন এই প্রতিবেদনে।
Advertisement
নতুন নিয়মে হারানো এনআইডি পাওয়া: কী বদলাচ্ছে?
জাতীয় পরিচয় নিবন্ধন উইং-এর মহাপরিচালক এ এস এম হুমায়ুন কবীর গত বুধবার (৩ সেপ্টেম্বর) এই সিদ্ধান্তের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, নাগরিকদের ঝামেলা কমাতেই ইসি এই গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ নিয়েছে।
Advertisement
আগে কী হতো:
- এনআইডি হারালে প্রথমে থানায় গিয়ে জিডি করতে হতো।
- এরপর সেই জিডির কপি নিয়ে নির্বাচন কমিশন অফিসে আবেদন জমা দিতে হতো।
- এই প্রক্রিয়া ছিল সময়সাপেক্ষ ও ভোগান্তিপূর্ণ।
এখন কী হবে:
- জিডি করার প্রয়োজনীয়তা বাতিল করা হয়েছে।
- এখন সরাসরি নির্বাচন কমিশন অফিসে বা অনলাইনে হারানো এনআইডির জন্য আবেদন করা যাবে।
এতে এনআইডি সম্পর্কিত সেবা আরও সহজ ও নাগরিকবান্ধব হবে।
Also Read:কন্যার জন্মদিনে মধুর শুভেচ্ছাবার্তা
এনআইডি সেবায় আরও সংস্কারের পরিকল্পনা
নির্বাচন কমিশনের পরিকল্পনা শুধু জিডির প্রয়োজনীয়তা বাতিলেই সীমাবদ্ধ নয়। মহাপরিচালক জানান, এমন একটি ব্যবস্থা গড়ে তোলার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে যাতে নাগরিকরা আরও দ্রুত ও সহজে এনআইডি সম্পর্কিত সেবা পান। এর মধ্যে থাকতে পারে:
- অনলাইন আবেদন প্রক্রিয়া আরও সহজ করা।
- সংশোধন আবেদন নিষ্পত্তির সময় কমানো।
- তথ্য হালনাগাদের প্রক্রিয়া দ্রুত করা।
শুধু গত এক বছরে জাতীয় পরিচয় নিবন্ধন উইং প্রায় ৯.৫ লাখ ঝুলে থাকা সংশোধন আবেদন নিষ্পত্তি করেছে, যা তাদের দক্ষতার প্রমাণ।
বাংলাদেশের বর্তমান ভোটার পরিসংখ্যান
সর্বশেষ ভোটার তালিকা অনুযায়ী দেশে মোট ভোটারের সংখ্যা ১২ কোটি ৬৩ লাখ ৭ হাজার ৫০৪ জন। এ বিশাল সংখ্যক জনগণের জন্য এনআইডি সেবা কতটা অপরিহার্য, তা এই তথ্য থেকেই বোঝা যায়।
- পুরুষ ভোটার: ৬ কোটি ৪১ লাখ ৪৫৫
- মহিলা ভোটার: ৬ কোটি ২২ লাখ ৫ হাজার ৮১৯
- তৃতীয় লিঙ্গের ভোটার: ১ হাজার ২৩০
তাই এনআইডি সেবার এই সংস্কার অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
কেন এই পরিবর্তন আপনার জন্য গুরুত্বপূর্ণ?
এটি শুধু প্রশাসনিক পরিবর্তন নয়; সাধারণ নাগরিকদের জন্য এটি এক বিশাল স্বস্তি।
- সময় সাশ্রয়: থানায় গিয়ে জিডি করার ঝামেলা নেই।
- ঝামেলা কমবে: হারানো কার্ড পাওয়ার প্রক্রিয়া হবে আরও সহজ।
- দ্রুত সেবা: নতুন কার্ড পেতে আবেদন ও প্রাপ্তি হবে দ্রুততর।
এই পদক্ষেপ ডিজিটাল বাংলাদেশের পথে আরেকটি ইতিবাচক অগ্রগতি।
সাধারণ জিজ্ঞাসা (FAQ)
প্রশ্ন: এখন কি অনলাইনে হারানো এনআইডির আবেদন করা যাবে?
উত্তর: হ্যাঁ, যেহেতু জিডির প্রয়োজনীয়তা তুলে দেওয়া হয়েছে, তাই এখন অনলাইনে বা সরাসরি অফিসে আবেদন করা যাবে।
প্রশ্ন: এনআইডি সংশোধন প্রক্রিয়া কি দ্রুত হবে?
উত্তর: হ্যাঁ, নির্বাচন কমিশন এনআইডি সেবা সহজ করতে কাজ করছে, যার মধ্যে সংশোধন প্রক্রিয়া দ্রুত করা অন্তর্ভুক্ত।
প্রশ্ন: এই নতুন নিয়ম কবে থেকে কার্যকর হবে?
উত্তর: মহাপরিচালক গত বুধবার সিদ্ধান্তটি নিশ্চিত করেছেন, এবং এটি তাৎক্ষণিকভাবে কার্যকর হওয়ার কথা।
