Advertisement
ভূমিকা: প্রেরিত অর্থ ও ব্যাংকের ভূমিকা
প্রেরিত অর্থ (রেমিট্যান্স) যে কোনো দেশের অর্থনীতির জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। উদাহরণস্বরূপ, বাংলাদেশে সেপ্টেম্বরে প্রথম ১৩ দিনে প্রায় $1.3 বিলিয়ন (প্রায় 15,933.2 মিলিয়ন BDT) প্রেরিত হয়েছে। তবে বাংলাদেশ ব্যাংকের একটি প্রতিবেদনে বলা হয়েছে যে ১০টি সরকারি ও বেসরকারি ব্যাংক একটিও রেমিট্যান্স গ্রহণ করতে পারেনি, যা অর্থনৈতিক বিশ্লেষকদের মধ্যে উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে।
১০টি ব্যাংক যেগুলি কোনো রেমিট্যান্স পায়নি
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে যে, সেপ্টেম্বরে প্রথম ১৩ দিনে নিম্নলিখিত ব্যাংকগুলো কোনো প্রেরিত অর্থ গ্রহণ করতে পারেনি:
Advertisement
সরকারি ব্যাংক
- বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট ব্যাংক (BDBL)
- রাজশাহী কৃষি উন্নয়ন ব্যাংক (RAKB)
বেসরকারি ব্যাংক
- ব্যাংক ফর দ্য কমিউনিটি
- ব্যাংক অফ সিটিজেনস
- ইসলামী ব্যাংক (ICB)
- পদ্মা ব্যাংক
বিদেশি ব্যাংক
- ব্যাংক হাবিব
- পাকিস্তানের ন্যাশনাল ব্যাংক
- দ্য স্টেট ব্যাংক অফ ইন্ডিয়া
- UCB ব্যাংক
এগুলি প্রেরিত অর্থ না পাওয়ার কারণ হতে পারে ব্যাংকের প্রশাসনিক সমস্যা বা প্রযুক্তিগত ত্রুটি।
Advertisement
সেপ্টেম্বরে রেমিট্যান্সের বিস্তারিত
- প্রথম ১৩ দিনে: $1.306 বিলিয়ন (≈15,933.2 মিলিয়ন BDT)
- জুলাই ২০২৫–২৬: $247.79 মিলিয়ন (প্রায় 30,239 কোটি BDT)
- আগস্ট ২০২৫–২৬: $242.20 মিলিয়ন (≈29,548 কোটি BDT)
এগুলো দেখায় যে মোট রেমিট্যান্স প্রবাহ স্থিতিশীল, তবে কিছু ব্যাংকের কার্যক্রম না থাকায় কিছু এলাকা প্রভাবিত হতে পারে।
Advertisement
গত অর্থবছরের পর্যালোচনা
- মার্চ ২০২৫-এ সর্বাধিক রেমিট্যান্স প্রাপ্তি: $3.29 বিলিয়ন, যা বছরের রেকর্ড।
- FY 2024–25 মোট রেমিট্যান্স: $30.33 বিলিয়ন
- FY 2023–24 থেকে বৃদ্ধি: 26.8%
- FY 2023–24 মোট রেমিট্যান্স: $23.91 বিলিয়ন
এগুলো দেখায় যে রেমিট্যান্স বাংলাদেশের অর্থনীতিতে ক্রমবর্ধমান গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছে।
Also read:প্রথমবারের মতো জেল ও জামিন নিয়ে নীরবতা ভাঙলেন নুসরাত ফারিয়া
রেমিট্যান্স না পাওয়ার সম্ভাব্য কারণ
- প্রযুক্তিগত সমস্যা: কিছু ব্যাংক তাদের সিস্টেম আপগ্রেড করছে বা অন্যান্য প্রযুক্তিগত সমস্যায় আছে।
- নিয়ন্ত্রক বা লাইসেন্স সমস্যা: বিদেশে টাকা প্রেরণের জন্য নির্দিষ্ট লাইসেন্স নেই।
- কম চাহিদা বা কার্যক্রম: কিছু ব্যাংক আগে যেমন রেমিট্যান্স পেত, এখন তা কম।
বিশেষজ্ঞদের মতামত
ড. রহিম আহমেদ, আর্থিক বিশ্লেষক বলেন:
“মোট রেমিট্যান্স প্রবাহ যদিও শক্তিশালী, তবে কিছু ব্যাংক কিছুই না করলে ভবিষ্যতে তরলতা ও রাজস্বে প্রভাব পড়তে পারে। ব্যাংকগুলোকে প্রযুক্তিগত ও প্রশাসনিক উভয় ধরণের পদক্ষেপ দ্রুত নিতে হবে।”
প্রায়শই জিজ্ঞাসিত প্রশ্ন (FAQ)
প্রশ্ন: সেপ্টেম্বরে মোট কত রেমিট্যান্স এসেছে?
উত্তর: $1.3 বিলিয়ন (প্রায় 15,933.2 মিলিয়ন BDT)
প্রশ্ন: কোন ব্যাংকগুলো কোনো টাকা পায়নি?
উত্তর: ১০টি ব্যাংক, যার মধ্যে সরকারি, বেসরকারি ও বিদেশি ব্যাংক রয়েছে।
প্রশ্ন: গত অর্থবছরে সর্বাধিক কত টাকা দেশে এসেছে?
উত্তর: মার্চ ২০২৫-এ $3.29 বিলিয়ন, যা রেকর্ড।
উপসংহার: ভবিষ্যতে ব্যাংক ও রেমিট্যান্সের অবস্থা
বাংলাদেশের অর্থনীতি বিদেশ থেকে আসা টাকার উপর নির্ভরশীল। সেপ্টেম্বরে ১০টি ব্যাংক কোনো প্রেরিত অর্থ না পাওয়া উদ্বেগজনক, তবে মোট প্রবাহ এখনও শক্তিশালী। বিশ্লেষকরা বলছেন, ব্যাংকগুলোকে সমস্যাগুলো দ্রুত সমাধান করতে হবে যাতে আর্থিক ব্যবস্থা খোলা ও কার্যকর থাকে।
CTA
আপনার মতামত কী? ব্যাংকগুলো কিছু না করলে কি ভবিষ্যতে রেমিট্যান্সের প্রবাহে প্রভাব পড়তে পারে? মন্তব্যে জানান এবং আরও আপডেটের জন্য আমাদের সাবস্ক্রাইব করুন।
