Advertisement
ভূমিকা
কাতারের ওপর ইসরায়েলের সাম্প্রতিক হামলার কঠোর নিন্দা জানিয়েছে বাংলাদেশ। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার পররাষ্ট্রবিষয়ক উপদেষ্টা মোহাম্মদ তৌহিদ হোসেন দোহায় অনুষ্ঠিত জরুরি আরব-ইসলামিক সম্মেলনে বক্তব্য রাখতে গিয়ে বলেন, এটি শুধু কাতারের ওপর নয়, বরং পুরো মুসলিম উম্মাহর মর্যাদার ওপর আঘাত। তিনি মুসলিম দেশগুলোকে আহ্বান জানান কূটনৈতিক, রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিকভাবে সমন্বিত পদক্ষেপ নিতে, যাতে ইসরায়েলকে থামানো যায়।
এই প্রতিবেদনটি আপনাকে সম্মেলনের মূল তথ্য, বাংলাদেশের অবস্থান এবং বৈশ্বিক প্রতিক্রিয়া সম্পর্কে বিস্তারিত ধারণা দেবে।
Advertisement
ইসরায়েলি হামলা: প্রেক্ষাপট ও বৈশ্বিক উদ্বেগ
৯ সেপ্টেম্বর ইসরায়েল কাতারের ভূখণ্ডে হামলা চালায়, যা মুসলিম বিশ্বে তীব্র ক্ষোভের জন্ম দিয়েছে। এই হামলাকে আন্তর্জাতিক আইন ও জাতিসংঘ সনদের গুরুতর লঙ্ঘন হিসেবে বর্ণনা করা হচ্ছে।
Advertisement
সম্মেলনটির সভাপতিত্ব করেন কাতারের আমির শেখ তামিম বিন হামাদ আল থানি।
Advertisement
ওআইসি মহাসচিব হুসেইন ব্রাহিম তাহা এবং আরব লীগের মহাসচিব আহমেদ আবুল গেইত উদ্বোধনী ভাষণে মুসলিম দেশগুলোর ঐক্যের ওপর জোর দেন।
২৪টি দেশের রাষ্ট্রপ্রধান এতে অংশগ্রহণ করেন। অন্য দেশগুলো প্রতিনিধিত্ব করে পররাষ্ট্রমন্ত্রী বা জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তাদের মাধ্যমে।
বাংলাদেশের অবস্থান: কাতার ও ফিলিস্তিনের প্রতি অটল সমর্থন
বাংলাদেশের পররাষ্ট্রবিষয়ক উপদেষ্টা মোহাম্মদ তৌহিদ হোসেন ঘোষণা করেন:
“কাতারের সার্বভৌম ভূখণ্ডে হামলা কেবল কাতারের ওপর নয়, বরং পুরো মুসলিম উম্মাহর মর্যাদার ওপর হামলা।”
তিনি ইসরায়েলের এই পদক্ষেপকে “ভিত্তিহীন ও অবৈধ দুঃসাহসিকতা” আখ্যা দেন এবং বিশ্বকে আহ্বান জানান ইসরায়েলকে তার অমানবিক কর্মকাণ্ডের জন্য জবাবদিহির আওতায় আনতে।
বাংলাদেশের প্রস্তাবনা
- ওআইসি দেশগুলোকে যৌথভাবে কূটনৈতিক চাপ প্রয়োগ করতে হবে।
- অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা ও বাণিজ্যিক পদক্ষেপ বিবেচনা করতে হবে।
- আন্তর্জাতিক বিচার আদালত ও জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদে ইসরায়েলকে দায়ী করতে হবে।
সম্মেলনের যৌথ ঘোষণা
সম্মেলন শেষে গৃহীত যৌথ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়:
- ইসরায়েলের হামলাকে সবচেয়ে কঠোর ভাষায় নিন্দা জানানো হয়েছে।
- মুসলিম দেশগুলোর সার্বভৌমত্ব ও নিরাপত্তা রক্ষার ওপর জোর দেওয়া হয়েছে।
- পূর্ব জেরুজালেমকে রাজধানী করে একটি স্বাধীন ফিলিস্তিন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করা হয়েছে।
- গাজায় জরুরি মানবিক সহায়তা পাঠানোর আহ্বান জানানো হয়েছে, যেখানে খাদ্য ও ওষুধের সংকট তীব্র আকার ধারণ করেছে।
Also read:১০টি ব্যাংকের মাধ্যমে রেমিট্যান্স আসেনি, সেপ্টেম্বরে দেশে ১.৩ বিলিয়ন ডলার এসেছে
ইসরায়েলের বিরুদ্ধে সম্ভাব্য পদক্ষেপ
আন্তর্জাতিক বিশেষজ্ঞদের মতে, ওআইসি ও আরব লীগ বিবেচনা করতে পারে:
- ইসরায়েলের সঙ্গে সম্পর্ক হ্রাস বা স্থগিত করা।
- আন্তর্জাতিক আদালতে মামলা দায়ের করা।
- অর্থনৈতিক বর্জন কার্যক্রম চালু করা।
- পশ্চিমা শক্তিগুলোর ওপর কূটনৈতিক চাপ সৃষ্টি করা, যাতে তারা ইসরায়েলকে সমর্থন বন্ধ করে।
বিশ্লেষণ: বাংলাদেশের ক্রমবর্ধমান কূটনৈতিক ভূমিকা
মুসলিম উম্মাহকে ঘিরে এমন বিষয়ে দৃঢ় অবস্থান নেওয়া এটাই প্রথম নয় বাংলাদেশের জন্য। দেশটি দীর্ঘদিন ধরে ফিলিস্তিনের পক্ষে অবস্থান নিয়েছে, আর এই ঘটনাটি তার নীতিনিষ্ঠ অবস্থানকে আরও দৃঢ়ভাবে তুলে ধরেছে।
বিশেষজ্ঞদের মতামত:
- বাংলাদেশের অবস্থান মুসলিম দেশগুলোকে ঐক্যবদ্ধ করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।
- এটি বিশ্বকে এ বার্তাও দেয় যে ছোট দেশগুলোও ন্যায়বিচার ও আন্তর্জাতিক আইন মেনে চলার দাবি তুলতে পারে।
সাধারণ জিজ্ঞাসা (FAQs)
প্রশ্ন ১: বাংলাদেশ কি ইসরায়েলকে স্বীকৃতি দিয়েছে?
উত্তর: না, বাংলাদেশ কখনও ইসরায়েলকে স্বীকৃতি দেয়নি এবং সবসময় ফিলিস্তিনি জনগণের প্রতি সংহতি প্রকাশ করেছে।
প্রশ্ন ২: এ ক্ষেত্রে ওআইসি কী করতে পারে?
উত্তর: ওআইসি কূটনৈতিক, রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক চাপ প্রয়োগ করতে পারে।
প্রশ্ন ৩: কাতারের ওপর হামলার প্রভাব কী হতে পারে?
উত্তর: এটি অঞ্চলে উত্তেজনা বাড়াতে পারে, তবে একইসঙ্গে মুসলিম দেশগুলোর ঐক্য আরও দৃঢ় করতে পারে।
উপসংহার
কাতারের ওপর ইসরায়েলের হামলা কেবল একটি দেশের ওপর আক্রমণ নয়, বরং পুরো মুসলিম উম্মাহর মর্যাদার ওপর আঘাত। বাংলাদেশ তার সুস্পষ্ট ও দৃঢ় অবস্থানের মাধ্যমে আবারও প্রমাণ করেছে যে, তারা কাতার ও ফিলিস্তিনের পাশে রয়েছে। এখন মুসলিম বিশ্বকে ঐক্যবদ্ধ হয়ে ইসরায়েলকে জবাবদিহির আওতায় আনার দায়িত্ব নিতে হবে।
আপনার মতে, ইসরায়েলের বিরুদ্ধে ওআইসির সবচেয়ে কার্যকর পদক্ষেপ কী হওয়া উচিত? মন্তব্যে জানান এবং সর্বশেষ আপডেট পেতে আমাদের নিউজলেটারে সাবস্ক্রাইব করুন।
