Advertisement
ভূমিকা
সাম্প্রতিক একটি অনুসন্ধানে প্রথম আলো ও ব্রিটিশ সংবাদপত্র The Times প্রকাশ করেছে যে, ব্রিটিশ লেবার পার্টির এমপি টিউলিপ রিজওয়ানা সিদ্দিক, বাংলাদেশের প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ভগ্নিপতি, এখনও বাংলাদেশি নাগরিকত্ব, জাতীয় পরিচয়পত্র (NID) এবং ভোটার তালিকায় নিবন্ধিত রয়েছেন।
যদিও তিনি বারবার দাবি করেছেন যে তিনি শুধুমাত্র ব্রিটিশ নাগরিক, তবে প্রকাশিত সরকারি নথি অনুযায়ী দেখা গেছে, টিউলিপের বাংলাদেশি NID রয়েছে এবং তাকে বাংলাদেশি পাসপোর্টও দেওয়া হয়েছে। এটি দ্বৈত নাগরিকত্ব ও ভোটার অবস্থা নিয়ে আইনগত ও রাজনৈতিক প্রশ্ন উত্থাপন করেছে।
Advertisement
টিউলিপের NID এবং ভোটার অবস্থা
সরকারি রেকর্ড অনুযায়ী:
Advertisement
- টিউলিপ ২০১১ সালে ঢাকার ধানমণ্ডি, সুদা সদন, রোড ৫ ঠিকানায় NID গ্রহণ করেন, যা তার খালু শেখ হাসিনার ঠিকানার সাথে যুক্ত।
- NID-তে পেশা লেখা আছে “প্রাইভেট জব”, জন্মস্থান ঢাকা, এবং “মাইগ্রেটেড/ইমিগ্রান্ট” লেবেল আছে।
- তার NID তার বাংলাদেশি পাসপোর্টের সঙ্গে সংযুক্ত এবং আইনিভাবে নিবন্ধিত।
- তিনি এখনও বাংলাদেশের ভোটার তালিকায় নিবন্ধিত।
তবে, তার আইনজীবী সংস্থা Stephenson Harwood আগস্ট ২০২৫-এ জানিয়েছে, তিনি কখনও বাংলাদেশি NID বা ভোটার আইডি রাখেননি এবং পাসপোর্টও শৈশবের পর ধরে রাখেননি।
Advertisement
বাংলাদেশি পাসপোর্টের তথ্য
টিউলিপের নাগরিকত্ব নথি অনুযায়ী:
- প্রথম বাংলাদেশি পাসপোর্ট ২০০১ সালে লন্ডনের বাংলাদেশ হাইকমিশন থেকে পাওয়া যায়, যখন তিনি ১৯ বছর বয়সী ছিলেন।
- দ্বিতীয় পাসপোর্ট ২০১১ সালে আগারগাঁও পাসপোর্ট অফিস, ঢাকা-তে দেওয়া হয় এবং ২ জানুয়ারি ২০১৬ সালে মেয়াদ শেষ হয়।
- পাসপোর্টে লেখা আছে: nationality Bangladeshi, জন্মস্থান লন্ডন, জরুরি যোগাযোগ মেজর জেনারেল (অব.) তারিক আহমেদ সিদ্দিক, তার চাচা।
এই নথি প্রমাণ করে যে তিনি আইনগতভাবে প্রাপ্তবয়স্ক হওয়া পর্যন্ত বাংলাদেশি নাগরিক ছিলেন এবং দ্বৈত নাগরিকত্ব রাখতে পারতেন।
দ্বৈত নাগরিকত্ব: আইনগত কাঠামো
বাংলাদেশি আইন অনুযায়ী কিছু শর্তে দ্বৈত নাগরিকত্ব অনুমোদিত। মূল দিকগুলো:
- যিনি বাংলাদেশি পাসপোর্ট ও NID ধারণ করেন, তিনি বাংলাদেশের নাগরিক।
- বাংলাদেশি নাগরিকত্ব ত্যাগ করতে হলে লিখিতভাবে হোম মন্ত্রণালয়ে আবেদন করতে হয়। অন্য দেশের নাগরিকত্ব থাকলে নাগরিকত্ব হারানো হয় না।
- যুক্তরাজ্য দ্বৈত নাগরিকত্বকে অনুমোদন করে, তাই টিউলিপ আইনিভাবে দুই দেশের নাগরিক হতে পারতেন।
সুপ্রীম কোর্টের আইনজীবী শাহদিন মালিক প্রথম আলোকে বলেছেন:
“আইন অনুযায়ী দুই দেশের নাগরিকত্ব থাকা কোনো সমস্যা নয়। তবে যেহেতু তিনি বাংলাদেশি নাগরিকত্ব অস্বীকার করেছেন, এটি মনে হয় যে টিউলিপ সিদ্দিক একটি ভুয়া যুক্তি ব্যবহার করেছেন।”
Also read:লিটন দাস বোলারদের প্রশংসা করলেন আফগানিস্তানকে হারানোর এশিয়া কাপে জয়ের পর
রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট
টিউলিপের দ্বৈত নাগরিকত্বের তথ্য বাংলাদেশের ২০২৪-এর পর রাজনৈতিক ঘটনার প্রেক্ষিতে আসে:
- ২০২৪ সালের আগস্টে শেখ হাসিনার সরকার উত্থাপিত গণবিপ্লবের মাধ্যমে পতিত হয়।
- ২০২৫ সালের ফেব্রুয়ারিতে নির্বাচন কমিশন শেখ হাসিনার ১০টি আত্মীয়ের NID “সীল” করে, যার মধ্যে টিউলিপও রয়েছেন।
- ২০১১ সালে তার NID নিবন্ধন তার খালুর প্রধানমন্ত্রীত্বের সময়কালের সঙ্গে সম্পর্কিত।
দ্বৈত নাগরিকত্বের প্রভাব
টিউলিপ সিদ্দিকের বিষয়টি কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ দিক উত্থাপন করে:
- আইনগত সম্মতি: দ্বৈত নাগরিকত্ব আইনগতভাবে বৈধ, তবে সরকারি নথির বিপরীতে প্রকাশ্যে করা দাবি নৈতিক প্রশ্ন তুলতে পারে।
- ভোটার নিবন্ধন: একজন ব্রিটিশ এমপি হিসাবে বাংলাদেশের ভোটার তালিকায় থাকা রাজনৈতিক ও আইনগত দৃষ্টিকোণ থেকে গুরুত্ব পায়।
- স্বচ্ছতা: নাগরিকত্বের প্রকৃত অবস্থা প্রকাশ করা জনমনের আস্থা রক্ষার জন্য গুরুত্বপূর্ণ।
তথ্য সংক্ষেপে
| বিষয় | তথ্য |
|---|---|
| NID ইস্যু | ২০১১, ধানমণ্ডি, ঢাকা |
| বাংলাদেশি পাসপোর্ট | প্রথম: ২০০১, দ্বিতীয়: ২০১১ (মেয়াদ শেষ ২০১৬) |
| জন্মস্থান | লন্ডন |
| পেশা | প্রাইভেট জব |
| ভোটার অবস্থা | বাংলাদেশের ভোটার তালিকায় নিবন্ধিত |
| জরুরি যোগাযোগ | মেজর জেনারেল তারিক আহমেদ সিদ্দিক |
এই তথ্য প্রমাণ করে যে টিউলিপ সিদ্দিক আইনগতভাবে বাংলাদেশের নাগরিকত্ব ও ভোটার অধিকার বজায় রেখেছেন।
উপসংহার
অনুসন্ধান নিশ্চিত করেছে যে, টিউলিপ রিজওয়ানা সিদ্দিক এখনও বাংলাদেশি নাগরিকত্ব, NID এবং ভোটার অধিকার রাখছেন, যদিও তিনি প্রকাশ্যে কেবল ব্রিটিশ নাগরিকত্ব দাবি করছেন। আইনগতভাবে দ্বৈত নাগরিকত্ব বৈধ হলেও, সরকারি নথি ও প্রকাশ্য দাবির মধ্যে অমিল রাজনৈতিক জবাবদিহিতা ও স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে।
