Advertisement
ভূমিকা
বাংলাদেশ লিসট-ডেভেলপড কান্ট্রি (LDC) থেকে ২০২৬ সালের নভেম্বর মাসে উত্তীর্ণ হওয়ার পথে রয়েছে। এই প্রেক্ষাপটে সরকার ইউরোপিয়ান ইউনিয়ন (EU) এবং অন্যান্য প্রধান বাণিজ্য অংশীদারদের সঙ্গে মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি (FTA) নিয়ে তৎপরভাবে আলোচনায় রয়েছে।
এই উদ্যোগের মূল লক্ষ্য হলো প্রাধান্যপূর্ণ বাজারে প্রবেশাধিকার বজায় রাখা এবং দেশের প্রধান রপ্তানি আয়ের—প্রধানত তৈরি পোশাক শিল্পের—সুরক্ষা নিশ্চিত করা, যা মোট রপ্তানির ৬০% এর বেশি অংশে অবদান রাখে।
Advertisement
কমার্স সেক্রেটারি মাহবুবুর রহমান জানিয়েছেন, ইইউর সঙ্গে FTA করা অত্যন্ত জরুরি, কারণ ভারত ও ভিয়েতনাম ইতিমধ্যেই সমজাতীয় চুক্তি করেছে। যদি বাংলাদেশ এ চুক্তি করতে ব্যর্থ হয়, তবে ২০২৯ সাল থেকে রপ্তানিতে ১২% শুল্ক আরোপিত হবে, যা বর্তমানে তিন বছরের শুল্কমুক্ত সুবিধার সম্প্রসারণ শেষে প্রযোজ্য হবে।
Advertisement
ইইউ FTA-এর গুরুত্ব
ইইউ বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় বাণিজ্য অংশীদার, যেখানে বার্ষিক রপ্তানি প্রায় ২৫ বিলিয়ন ডলার। একটি FTA-এর প্রয়োজনীয় কারণগুলো হলো:
Advertisement
- রপ্তানি প্রতিযোগিতা নিশ্চিত করা: LDC গ্র্যাজুয়েশন পরবর্তী সময়ে শুল্কমুক্ত সুবিধা বন্ধ হবে, যা বাংলাদেশের পণ্যের খরচ বাড়াতে পারে।
- সাম্য বজায় রাখা: ভারত ও ভিয়েতনাম ইতিমধ্যেই FTAs ব্যবহার করে ইউরোপে বাজারের অংশীদারিত্ব বাড়াচ্ছে।
- দীর্ঘমেয়াদী সম্প্রসারণ: দ্বিপক্ষীয় FTA বাংলাদেশি রপ্তানিমুখী অর্থনীতির জন্য স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করবে এবং বাণিজ্য সম্পর্ক শক্তিশালী করবে।
বিকল্প বাণিজ্য সুবিধা
যতক্ষণ পর্যন্ত ইইউ FTA চূড়ান্ত হয়নি, বাংলাদেশ অন্য বিকল্পও খুঁজছে:
- GSP+ স্ট্যাটাস: বাংলাদেশ EU-এর Generalized System of Preferences (GSP+) এর জন্য আবেদন করেছে। ৩২টি আন্তর্জাতিক কনভেনশন অনুমোদিত হলে শুল্কমুক্ত সুবিধা দেওয়া হবে। তবে বর্তমানে GSP+ পাওয়ার সম্ভাবনা কম।
- যুক্তরাজ্য শুল্কমুক্ত প্রবেশাধিকার: UK ২০৩৫ পর্যন্ত শুল্কমুক্ত সুবিধা দেয়, তবে ২৫% স্থানীয় মূল্য সংযোজন প্রয়োজন। বর্তমানে বাংলাদেশ যুক্তরাজ্যের সঙ্গে FTA-কে অগ্রাধিকার দিচ্ছে না।
- অস্ট্রেলিয়া: LDC গ্র্যাজুয়েশন পর ৫০% স্থানীয় মূল্য সংযোজনের শর্তে শুল্কমুক্ত প্রবেশাধিকার দেয়। ঢাকা আশা করছে EU-মান অনুযায়ী এটি ৩০% করা হবে।
অন্যান্য বাণিজ্য অংশীদারদের সঙ্গে অগ্রগতি
বাংলাদেশ বিশ্বব্যাপী বাণিজ্য চুক্তি নিয়ে সক্রিয় আলোচনা চালাচ্ছে:
- জাপান: Economic Partnership Agreement (EPA)-এর নবম এবং চূড়ান্ত রাউন্ড ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৫-এ সম্পন্ন।
- দক্ষিণ কোরিয়া: Comprehensive Economic Partnership Agreement (CEPA)-এর প্রথম রাউন্ড সম্পন্ন।
- কানাডা: FTA আলোচনা শুরু করার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে।
- ASEAN ও RCEP: এশিয়ার বাজার বৈচিত্র্য বাড়ানোর জন্য সদস্যপদ চুক্তি আলোচনা চলছে।
দেশীয় বাণিজ্য আলোচনা কাঠামো
- বিশেষায়িত বাণিজ্য আলোচনার দল: বৃহৎ বাণিজ্য ব্লকের সঙ্গে FTA কৌশল বিকাশ।
- শিল্প ও মন্ত্রণালয় সহযোগিতা: কারিগরি ইনপুট ও মূল্যায়ন।
- অর্থনৈতিক প্রভাব মূল্যায়ন: শুল্ক এবং চুক্তির প্রভাব পর্যালোচনা।
FTA বাস্তবায়নে চ্যালেঞ্জ
- ইতিমধ্যেই অনেক চুক্তি চূড়ান্ত হয়নি।
- শুধুমাত্র ভুটানের সঙ্গে Preferential Trade Agreement (PTA) সম্পন্ন হয়েছে।
- ভারতের সঙ্গে CEPA চুক্তি দুই বছর আগে আলোচনার পরেও স্বাক্ষর হয়নি।
- মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাণিজ্য চুক্তির সময়সীমা নির্ধারিত হয়নি।
বাংলাদেশের রপ্তানি অর্থনীতিতে প্রভাব
FTA চুক্তি স্বাক্ষর করলে:
- শুল্কমুক্ত প্রবেশাধিকার বজায় রাখা: ইউরোপের বাজারে প্রস্তুত পোশাক, টেক্সটাইল ও চামড়ার পণ্যের প্রতিযোগিতা নিশ্চিত।
- বিনিয়োগ বৃদ্ধি: FDI বাড়ানো সম্ভব।
- অর্থনৈতিক বৈচিত্র্য: ফার্মাসিউটিক্যাল, ইলেকট্রনিক্স, কৃষিপণ্য রপ্তানির সুযোগ।
- গ্লোবাল ইন্টিগ্রেশন: আঞ্চলিক ও বৈশ্বিক সরবরাহ চেইনে বাংলাদেশের স্থান শক্তিশালী হবে।
উপসংহার
বাংলাদেশের EU ও অন্যান্য বড় অংশীদারের সঙ্গে মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি আলোচনা post-LDC গ্র্যাজুয়েশনের প্রেক্ষাপটে একটি কৌশলগত পদক্ষেপ। এর লক্ষ্য:
- প্রাধান্যপূর্ণ বাজারে প্রবেশাধিকার অর্জন
- রপ্তানি প্রতিযোগিতা বৃদ্ধি
- অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা নিশ্চিত
- দীর্ঘমেয়াদী বাণিজ্য সম্পর্ক উন্নয়ন
পাঠক প্রতিক্রিয়া: বাংলাদেশের বাণিজ্য কৌশল নিয়ে আপনার মতামত দিন, শিল্পপতিদের সঙ্গে শেয়ার করুন, এবং গ্লোবাল ট্রেড আপডেটের জন্য সাবস্ক্রাইব করুন।
