Saturday, January 3, 2026
Homeখবরকক্সবাজারে লাইফগার্ড সেবা বন্ধ: পর্যটকদের জীবন কি ঝুঁকিতে?

কক্সবাজারে লাইফগার্ড সেবা বন্ধ: পর্যটকদের জীবন কি ঝুঁকিতে?

Advertisement

বিশ্বের দীর্ঘতম প্রাকৃতিক সমুদ্রসৈকত কক্সবাজারে পর্যটকদের সুরক্ষায় চালু হওয়া সি-সেইফ লাইফগার্ড সার্ভিস বন্ধ হয়ে যাচ্ছে আগামী ৩০ সেপ্টেম্বর থেকে। অর্থাভাবের কারণে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এর ফলে শুধু ২৭ জন লাইফগার্ড ও ৩৫ জন কর্মী চাকরি হারাবেন না, বরং প্রতিবছর কোটি পর্যটকের জীবন ঝুঁকির মুখে পড়বে।

মূল তথ্যগুলো এক নজরে

  • শুরুর ইতিহাস (২০১2): যুক্তরাজ্যের সংগঠন RNLI এর সহায়তায় চালু হয়।
  • ৮০৭ জনকে রক্ষা: লাইফগার্ডরা বহু দুর্ঘটনা ঠেকিয়েছেন।
  • ৬৫ জনের মরদেহ উদ্ধার: সব জীবন বাঁচানো সম্ভব হয়নি।
  • খরচের চাপ: মাসিক খরচ প্রায় ১৪ লাখ টাকা, যা আর বহন করা সম্ভব হচ্ছে না।
  • পর্যটকদের ঝুঁকি: ৫ কিমি জায়গায় যে তদারকি ছিল, তা বন্ধ হয়ে যাবে। বাকি ১১৫ কিমি সৈকত তো কখনোই নিরাপত্তার আওতায় ছিল না।

সমস্যার সূচনা

২০২২ সালের ডিসেম্বরেই প্রকল্পের মেয়াদ শেষ হয়ে যায়। পরে স্থানীয় প্রশাসনের তৎপরতায় জুন ২০২৩ পর্যন্ত অর্থায়ন বাড়ানো হয় এবং আবার সেপ্টেম্বর পর্যন্ত সময় দেওয়া হয়। কিন্তু এবার আর কোনো অর্থ জোগাড় করা যায়নি।

Advertisement

পর্যটকদের উপর প্রভাব

প্রতি বছর কক্সবাজারে প্রায় ৮-১০ মিলিয়ন পর্যটক যান। লাইফগার্ড না থাকলে:

Advertisement

  • ডুবে যাওয়ার ঘটনা বাড়তে পারে।
  • পর্যটন খাতের সুনাম নষ্ট হবে।
  • হোটেল ও রিসোর্ট ব্যবসায় প্রভাব পড়বে।

সরকারের পদক্ষেপ

কক্সবাজারের জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ সালাহউদ্দিন জানিয়েছেন, পর্যটন মন্ত্রণালয় হোটেল মালিকদের লাইফগার্ডদের বেতন বহনের নির্দেশ দিয়েছে।

Advertisement

  • বড় (স্টার হোটেল) হোটেলগুলোকে অন্তত ৩ জন লাইফগার্ডের খরচ দিতে হবে।
  • ছোট হোটেলগুলোকে ১ জন লাইফগার্ডের খরচ বহন করতে হবে।

কিন্তু হোটেল ও রিসোর্ট মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক বলেছেন, মাসে ১৪-১৫ লাখ টাকা জোগাড় করা হঠাৎ করে সম্ভব নয়।

Also read:বাংলাদেশ আবহাওয়া আপডেট: সারাদেশে বৃষ্টি ও বজ্রঝড়ের পূর্বাভাস

লাইফগার্ডদের হতাশা

লাইফগার্ড মোহাম্মদ উসমান ও জায়নুল আবেদীন বলেন:
“আমরা নিজের জীবন বাজি রেখে পর্যটকদের বাঁচাই। এখন যদি চাকরি হারাই, তবে পরিবার নিয়ে কীভাবে চলব?”

ভবিষ্যতের সম্ভাব্য সমাধান

  • সরকারি-বেসরকারি অংশীদারিত্ব (PPP): খরচ ভাগাভাগি করা।
  • ট্যুরিজম লেভি: হোটেল অতিথিদের কাছ থেকে সামান্য নিরাপত্তা ফি নেওয়া।
  • সিএসআর ফান্ডিং: বড় কোম্পানিগুলোর সামাজিক দায়বদ্ধতার অংশ হিসেবে অর্থায়ন।
  • স্বেচ্ছাসেবক কর্মসূচি: স্থানীয় তরুণদের প্রশিক্ষণ দিয়ে সহায়ক কর্মী তৈরি।

প্রায়শই জিজ্ঞাসিত প্রশ্ন (FAQ)

১. কখন থেকে লাইফগার্ড সেবা বন্ধ হবে?
৩০ সেপ্টেম্বর, ২০২৩ থেকে।

২. এতদিনে কতজনকে বাঁচানো হয়েছে?
২০১২ থেকে এখন পর্যন্ত ৮০৭ জনকে রক্ষা করা হয়েছে, ৬৫টি মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে।

৩. সরকার কী পদক্ষেপ নিয়েছে?
হোটেল মালিকদের খরচ বহনের নির্দেশ দিয়েছে।

৪. কারা সবচেয়ে ঝুঁকিতে?
পর্যটকরা, বিশেষ করে ১১৫ কিমি দীর্ঘ অরক্ষিত সৈকতে যারা যান।

উপসংহার: জীবন বাঁচানোর সেবা টিকিয়ে রাখা জরুরি

কক্সবাজারের মতো ব্যস্ত সমুদ্রসৈকতে লাইফগার্ড সেবা বন্ধ হলে হাজার হাজার মানুষের জীবন ঝুঁকিতে পড়বে। তাই সরকার, বেসরকারি খাত ও স্থানীয় জনগণকে একসাথে কাজ করে স্থায়ী সমাধান খুঁজে বের করতে হবে।

প্রশ্ন:

আপনার মতে লাইফগার্ড সেবা চালিয়ে যাওয়ার জন্য সবচেয়ে কার্যকর অর্থায়নের উপায় কী হতে পারে? মন্তব্যে জানিয়ে দিন এবং সর্বশেষ আপডেট পেতে আমাদের নিউজলেটার সাবস্ক্রাইব করুন।

সম্পর্কিত প্রবন্ধ

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

সবচেয়ে বেশি পঠিত