Advertisement
শুক্রবার রাতে ইন্দোনেশিয়ার ফ্লোরেস দ্বীপে অবস্থিত মাউন্ট লেওটোবি লাকি-লাকি আগ্নেয়গিরিটি হঠাৎ অগ্ন্যুৎপাত শুরু করে। সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে যার উচ্চতা ১,৫৮৪ মিটার। রাত ১০:৪৬ মিনিটে সবচেয়ে বড় বিস্ফোরণ ঘটে, যা প্রায় ৬ কিলোমিটার উঁচুতে লাভা ও ছাই উড়িয়ে দেয়। এতে স্থানীয়দের পাশাপাশি পর্যটকরাও আতঙ্কিত হয়ে পড়েছেন।
অগ্ন্যুৎপাতের তথ্য
- শুক্রবার রাতের বড় বিস্ফোরণের পর শনিবার সকাল পর্যন্ত ছোট ছোট অগ্ন্যুৎপাত অব্যাহত থাকে।
- একটি অগ্ন্যুৎপাত প্রায় ২.৫ কিলোমিটার উঁচুতে ছাই নিক্ষেপ করে।
- ইন্দোনেশিয়ার ভূতাত্ত্বিক সংস্থা সতর্কতার মাত্রা বাড়িয়ে সর্বোচ্চ লেভেল ৪ ঘোষণা করেছে।
কর্মকর্তাদের সতর্কবার্তা
মুহাম্মদ ওয়াফিদ, ভূতাত্ত্বিক সংস্থার প্রধান বলেন:
Advertisement
- আগ্নেয়গিরি থেকে কমপক্ষে ৬ কিমি দূরে থাকতে হবে।
- আগ্নেয়গিরির ছাই বিমানবন্দর ও ফ্লাইটে সমস্যা সৃষ্টি করতে পারে।
- বৃষ্টিপাত হলে লাহার বন্যা (কাদা ও পাথরের স্রোত) ভয়াবহ হুমকি হয়ে উঠতে পারে।
বিমান চলাচলে প্রভাব
- অগ্ন্যুৎপাতের কারণে ফ্লোরেস দ্বীপের মৌমেরে শহরের ফ্রান্স সেদা বিমানবন্দর সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়।
- রবিবার পরিস্থিতি পর্যালোচনা করে পুনরায় খোলা হবে।
- আপাতত বালি আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর চালু রয়েছে।
অতীতের অগ্ন্যুৎপাত
- এর আগেও এই আগ্নেয়গিরি সক্রিয় হয়েছে।
- গত জুলাই মাসে লাকি-লাকি প্রায় ১৮ কিমি উঁচুতে ছাই নিক্ষেপ করেছিল, যার ফলে বালি বিমানবন্দরের ২৪টি ফ্লাইট বাতিল হয়েছিল।
আগ্নেয়গিরির বৈশিষ্ট্য
- লাকি-লাকি (পুরুষ): উচ্চতা ১,৫৮৪ মিটার, তবে বেশি সক্রিয়।
- পেরেম্পুয়ান (মহিলা): উচ্চতা ১,৭০৩ মিটার, তবে অপেক্ষাকৃত শান্ত।
- এদেরকে একসাথে বলা হয় “টুইন পিকস আগ্নেয়গিরি”।
Also read:কক্সবাজারে লাইফগার্ড সেবা বন্ধ: পর্যটকদের জীবন কি ঝুঁকিতে?
ঝুঁকি ও সতর্কতা
- পর্যটকদের জন্য: বিপদসংকুল এলাকায় না যাওয়া এবং নির্দেশনা মেনে চলা।
- নদীর তীরবর্তী মানুষদের জন্য: সর্বদা লাহার বন্যার ঝুঁকি মাথায় রাখা।
- ভ্রমণকারীদের জন্য: বিমান চলাচলের সময়সূচি নিয়মিত চেক করা, কারণ হঠাৎ ফ্লাইট বাতিল বা বিলম্ব হতে পারে।
“রিং অফ ফায়ার” এবং ইন্দোনেশিয়া
ইন্দোনেশিয়া প্রশান্ত মহাসাগরীয় “রিং অফ ফায়ার” অঞ্চলে অবস্থিত, যা বিশ্বের অন্যতম ভূমিকম্প ও আগ্নেয়গিরি সক্রিয় এলাকা।
Advertisement
প্রায়শই জিজ্ঞাসিত প্রশ্ন (FAQ)
১. মাউন্ট লেওটোবি লাকি-লাকি কোথায় অবস্থিত?
ইন্দোনেশিয়ার ফ্লোরেস দ্বীপে।
Advertisement
২. সাম্প্রতিক অগ্ন্যুৎপাতে ছাই কত উঁচুতে উঠেছিল?
প্রায় ৬ কিমি উঁচুতে।
৩. বিমান চলাচল কি প্রভাবিত হয়েছে?
হ্যাঁ। মৌমেরে বিমানবন্দর সাময়িকভাবে বন্ধ, তবে বালি বিমানবন্দর চালু আছে।
৪. সবচেয়ে বড় ঝুঁকি কী?
আগ্নেয়গিরির ছাই, লাহার বন্যা, এবং বিমান চলাচল বিঘ্ন।
উপসংহার: সতর্ক থাকুন, নিরাপদ থাকুন
মাউন্ট লেওটোবি লাকি-লাকির সাম্প্রতিক অগ্ন্যুৎপাত আবারও মনে করিয়ে দিল ইন্দোনেশিয়ার আগ্নেয়ঝুঁকির কথা। স্থানীয় ও পর্যটক উভয়েরই কর্তৃপক্ষের নির্দেশনা মেনে চলা এবং নিরাপত্তাকে সর্বাগ্রে রাখা জরুরি।
প্রশ্ন:
আগ্নেয়গিরি ঝুঁকি থেকে স্থানীয় ও পর্যটকদের সুরক্ষায় সরকার আর কী পদক্ষেপ নিতে পারে বলে আপনি মনে করেন? আপনার মতামত কমেন্টে জানান এবং সর্বশেষ আপডেট পেতে আমাদের নিউজলেটার সাবস্ক্রাইব করুন।
