Advertisement
ভূমিকা
সম্প্রতি একটি ভ্রমণ-সংক্রান্ত ওয়েবসাইট দাবি করেছিল যে সংযুক্ত আরব আমিরাত (ইউএই) বাংলাদেশসহ নয়টি দেশের ওপর ভিসা নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে। খবরটি দ্রুত সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এবং গণমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে, যা বাংলাদেশের মানুষের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি করে।
তবে শনিবার সংযুক্ত আরব আমিরাতে বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত তারিক আহমেদ স্পষ্ট করে জানিয়েছেন যে বাংলাদেশের ওপর কোনো ভিসা নিষেধাজ্ঞা নেই।
Advertisement
রাষ্ট্রদূতের বক্তব্য
রাষ্ট্রদূত তারিক আহমেদ বলেছেন, ইউএই সরকারের পক্ষ থেকে বাংলাদেশ দূতাবাস কোনো সরকারি নোটিশ পায়নি।
Advertisement
তিনি আরও বলেন, যে সূত্রের কথা বলা হচ্ছে সেটি কোনো সরকারি মাধ্যম নয়, কেবল একটি ভিসা প্রসেসিং সার্ভিস।
তার ভাষায়, “আমাদের ধারণা অনুযায়ী এটি একটি ভুয়া পোস্ট।”
Advertisement
এই ব্যাখ্যা আসে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভুয়া খবর ছড়িয়ে পড়ার পর, যেখানে বলা হয়েছিল বাংলাদেশসহ নয়টি দেশের ভিসা বন্ধ করে দিয়েছে ইউএই।
ওয়েবসাইটের দাবি বনাম বাস্তবতা
- ওয়েবসাইট: uaevisaonline.com
- দাবি: বাংলাদেশসহ ৯টি দেশের ভিসা নিষেধাজ্ঞা
- বাস্তবতা: ইউএই সরকার এ বিষয়ে কোনো সরকারি ঘোষণা দেয়নি
- অবস্থা: সাইটটি কোনো সরকারি সংস্থা নয়, এটি একটি বেসরকারি ভিসা প্রসেসিং সার্ভিস
- প্রভাব: বাংলাদেশের মানুষের মধ্যে অযথা ভীতি ও বিভ্রান্তি সৃষ্টি
ভিসা বিলম্ব নিয়ে পূর্বের উদ্বেগ
সরকারিভাবে নিষেধাজ্ঞা না থাকলেও, ২০২৪ সালের সেপ্টেম্বর থেকে ভিসা প্রসেসিং ধীর হয়ে গেছে বলে জানা যায়। অনেকে সমস্যায় পড়ায় নানা ধরনের গুঞ্জন শুরু হয়।
২০২৫ সালের ফেব্রুয়ারিতে দুবাইতে অনুষ্ঠিত World Governments Summit-এ প্রধান উপদেষ্টা প্রফেসর মুহাম্মদ ইউনুস ইউএই কর্মকর্তাদের কাছে বাংলাদেশিদের ভিসা সমস্যার সমাধানে সহায়তা চেয়েছিলেন।
Also read:বাংলাদেশ ৪ উইকেটে শ্রীলঙ্কাকে হারালো
নাগরিকদের জন্য দূতাবাসের পরামর্শ
- ভিসা সংক্রান্ত তথ্য শুধুমাত্র ইউএই সরকার বা বাংলাদেশ দূতাবাসের সরকারি ওয়েবসাইট থেকে সংগ্রহ করুন।
- সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম বা অননুমোদিত ওয়েবসাইটের ভুয়া খবর বিশ্বাস করবেন না।
- ভিসার জন্য অনলাইনে অথবা সরাসরি দূতাবাসে আবেদন করুন।
- সন্দেহ হলে আবুধাবির বাংলাদেশ দূতাবাস অথবা দুবাই কনস্যুলেটের সঙ্গে যোগাযোগ করুন।
মিডিয়া ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে গুজব ছড়ানো
- ফেসবুক, টুইটার (X), হোয়াটসঅ্যাপে দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে এই ভুয়া খবর।
- কয়েকটি সংবাদমাধ্যমও সরকারি নিশ্চয়তা ছাড়াই খবরটি প্রকাশ করে।
- এর ফলে ধর্মীয় ও অর্থনৈতিক বিষয়ে অযথা আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।
বিশ্লেষণ
এই ঘটনা প্রমাণ করে যে অননুমোদিত সূত্র থেকে ছড়ানো ভুয়া তথ্য কত দ্রুত আতঙ্ক সৃষ্টি করতে পারে—বিশেষ করে ভিসা ও অভিবাসনের মতো সংবেদনশীল বিষয়ে।
প্রশ্নোত্তর
Q1: বাংলাদেশের জন্য ইউএই-তে কি ভিসা নিষেধাজ্ঞা আছে?
A: না। দাবি অননুমোদিত সূত্রের ওপর ভিত্তি করে ছড়ানো হয়েছিল।
Q2: আমার যদি ইউএই ভিসা নিয়ে সমস্যা হয় তাহলে কী করব?
A: ইউএই’র সরকারি ওয়েবসাইট অথবা বাংলাদেশ দূতাবাস/কনস্যুলেটের সঙ্গে যোগাযোগ করুন।
