Advertisement
ভূমিকা
প্রধান উপদেষ্টা প্রফেসর মুহাম্মদ ইউনুস শনিবার বলেছেন, আসন্ন জুলাই স্মৃতি জাদুঘর জনগণের মধ্যে অবিচার ও স্বৈরশাসনের বিরুদ্ধে প্রতিরোধের চেতনা জাগ্রত করবে। তিনি জাদুঘর নির্মাণে যুক্ত সকলকে ধন্যবাদ জানিয়ে আশা প্রকাশ করেন যে এটি দর্শনার্থীদেরকে ৫ আগস্ট গণভবনে অনুষ্ঠিত গণঅভ্যুত্থানের চেতনার সঙ্গে পরিচিত করবে।
প্রফেসর ইউনুসের মতে, এই জাদুঘর কেবল একটি ভবন নয়; এটি হবে একটি জীবন্ত ইতিহাসের দলিল, যেখানে গত ১৬ বছরের শাসনামলে দমন-পীড়ন ও দুর্নীতির চিত্র প্রতিফলিত হবে।
Advertisement
জাদুঘরের তাৎপর্য
এই জাদুঘর নির্মিত হচ্ছে জনগণের সামনে শেখ হাসিনার ১৬ বছরের শাসনব্যবস্থার অপব্যবহার তুলে ধরার জন্য।
Advertisement
অন্তর্ভুক্ত বিষয়বস্তু:
Advertisement
- পিলখানা হত্যাকাণ্ড
- গুম ও নিখোঁজ
- বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড
- কুখ্যাত “মিরর হাউজ”
- শাপলা চত্বর হত্যাকাণ্ড
- নির্বাচন কারচুপি
এসব বিষয় নথি, আলোকচিত্র, অডিও ও ভিডিও উপকরণের মাধ্যমে উপস্থাপন করা হবে।
প্রফেসর ইউনুসের দৃষ্টিভঙ্গি
তিনি জোর দিয়ে বলেন:
“জনগণের মধ্যে অবিচারের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তোলা—এই জাদুঘরের সবচেয়ে বড় দায়িত্ব।”
তিনি আরও বলেন, ইতিহাসকে জীবিত রাখা এবং তা থেকে শিক্ষা নেওয়া যে কোনো জাতির অগ্রগতির জন্য অপরিহার্য।
নির্মাণ ও উদ্বোধন পরিকল্পনা
- তত্ত্বাবধান: জাদুঘর নির্মাণ কর্তৃপক্ষ
- সমাপ্তির তারিখ: ৩১ অক্টোবর ২০২৫
- প্রত্যাশিত উদ্বোধন: নভেম্বর ২০২৫-এর প্রথম সপ্তাহ
- অবস্থান: গণভবনের নিকটস্থ ঐতিহাসিক ও প্রতীকী স্থান
মূল ব্যক্তিত্ব
মোস্তফা সরয়ার ফারুকী (সাংস্কৃতিক উপদেষ্টা):
“আমরা প্রমাণ ও আলোকচিত্র এমনভাবে সাজাচ্ছি যাতে ১৬ বছরের একনায়কত্বের কাহিনি চিরকাল জীবিত থাকে।”
তানজিম ওয়াহাব (প্রধান কিউরেটর):
“এই প্রতিষ্ঠান হবে অনন্য। ঘটনাগুলো এমন ক্রমে উপস্থাপন করা হবে যাতে দর্শকরা প্রকৃত অর্থে বুঝতে পারেন, এই সময়ে কীভাবে দেশ পরিচালিত হয়েছিল।”
জাদুঘরের বৈশিষ্ট্য
- ছবি ও নথি প্রদর্শনী
- গণপ্রতিবাদের আলোকচিত্র
- গুমের মামলা ফাইল
- নির্বাচন কারচুপির প্রমাণ
- অডিও ও ভিডিও রেকর্ডিংস
- নিখোঁজ ও হত্যাকাণ্ড সম্পর্কিত অডিও
- শেখ হাসিনার মিথ্যা আশ্বাসের কল রেকর্ড
- স্ক্রিনিং সেন্টার
- ডকুমেন্টারি প্রদর্শনের বিশেষ হল
- ১৬ বছরের স্বৈরশাসন ও জুলাই অভ্যুত্থান নিয়ে চলচ্চিত্র
জনগণের প্রতি বার্তা
এই জাদুঘর ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য হবে একটি শিক্ষা কেন্দ্র—যেখানে তারা শিখবে কিভাবে ক্ষমতার অপব্যবহার ও জনগণের অধিকার হরণের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তুলতে হয়।
Also read:রাষ্ট্রদূতের স্পষ্টীকরণ: বাংলাদেশের ওপর কোনো ভিসা নিষেধাজ্ঞা নেই – ইউএই
প্রশ্নোত্তর
Q1: জুলাই জাদুঘর কবে সম্পন্ন হবে?
A: ৩১ অক্টোবর ২০২৫-এর মধ্যে, উদ্বোধন হবে নভেম্বরের প্রথম সপ্তাহে।
Q2: কী প্রদর্শন করা হবে?
A: আলোকচিত্র, অডিও রেকর্ডিং, গুমের মামলা ফাইল, ডকুমেন্টারি চলচ্চিত্র এবং নির্বাচন কারচুপির প্রমাণ।
Q3: কে নেতৃত্ব দিচ্ছেন প্রকল্পে?
A: সাংস্কৃতিক উপদেষ্টা মোস্তফা সরয়ার ফারুকী ও প্রধান কিউরেটর তানজিম ওয়াহাব।
Q4: জাদুঘরের মূল উদ্দেশ্য কী?
A: অবিচার ও স্বৈরশাসনের বিরুদ্ধে জনগণের মধ্যে প্রতিরোধের চেতনা জাগ্রত করা।
উপসংহার
জুলাই জাদুঘর কেবল একটি ঐতিহাসিক কেন্দ্র নয়, বরং ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে মনে করিয়ে দেবে—স্বৈরশাসন ও ক্ষমতার অপব্যবহারের বিরুদ্ধে দাঁড়ানোই জাতির টিকে থাকার মূল শর্ত। প্রফেসর ইউনুস ও তার দলের মতে, এই জাদুঘর অতীতকে সংরক্ষণ করবে এবং ভবিষ্যতের জন্য পথপ্রদর্শক হিসেবে কাজ করবে।
