Saturday, January 3, 2026
Homeখবরসরকার জানুয়ারির মধ্যেই সব পাঠ্যপুস্তক সরবরাহের অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করল

সরকার জানুয়ারির মধ্যেই সব পাঠ্যপুস্তক সরবরাহের অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করল

Advertisement

ভূমিকা

বাংলাদেশে প্রতি শিক্ষাবর্ষের শুরু মানেই নতুন পাঠ্যপুস্তক বিতরণ। গত বছর বই সরবরাহে দেরি হওয়ায় শিক্ষার্থী, শিক্ষক ও অভিভাবকদের জন্য বড় ধরনের ভোগান্তি তৈরি হয়েছিল। তবে এবার সরকার দৃঢ় ঘোষণা দিয়েছে—আগামী ১ জানুয়ারির মধ্যেই সব পাঠ্যপুস্তক স্কুলে পৌঁছে যাবে। এর ফলে কেবল শিক্ষাকার্যক্রম নির্বিঘ্নে চলবে না, শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের আস্থাও ফিরে আসবে বলে আশা করা হচ্ছে।

সরকারি বৈঠক ও সিদ্ধান্ত

রবিবার অর্থ উপদেষ্টা ড. সেলেহউদ্দিন আহমদের সভাপতিত্বে অর্থনৈতিক বিষয়ক মন্ত্রিসভা কমিটি ও ক্রয় কমিটির বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠক শেষে তিনি জানান:

Advertisement

  • নির্দিষ্ট শ্রেণির জন্য ইতোমধ্যেই মুদ্রণের অর্ডার দেওয়া হয়েছে।
  • কোনো প্রতিষ্ঠান অবৈধভাবে বাড়তি কপি নিতে না পারে, সে জন্য স্কুলগুলোর তালিকা পুনঃযাচাই করা হচ্ছে।
  • সরকারের স্পষ্ট লক্ষ্য: “১ জানুয়ারির মধ্যেই প্রতিটি শিক্ষার্থীর হাতে বই পৌঁছাতে হবে।”

গত বছরের বিলম্ব বনাম এ বছরের প্রস্তুতি

গত শিক্ষাবর্ষে নতুন পাঠ্যপুস্তক মার্চ মাসে শিক্ষার্থীদের হাতে পৌঁছেছিল, ফলে কয়েক মাসের পড়াশোনা ব্যাহত হয়। এবার সেই অভিজ্ঞতা এড়াতে শিক্ষা মন্ত্রণালয়:

Advertisement

  • সেপ্টেম্বর থেকেই প্রস্তুতি শুরু করেছে।
  • কাগজ ও মুদ্রণের মান কঠোরভাবে যাচাই করছে, যাতে নিম্নমানের বই নিয়ে অভিযোগ না ওঠে।
  • স্কুল থেকে জমা দেওয়া চাহিদার তালিকা ক্রস-চেক করছে, স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে।

বৈঠকের মূল দিকনির্দেশনা

  • বই বিতরণে স্বচ্ছতাকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে।
  • দুই সপ্তাহের মধ্যে চূড়ান্ত বিতরণ তালিকা তৈরি হবে।
  • ছাত্রছাত্রীর সংখ্যা অনুযায়ী ঐতিহাসিক রেকর্ড ব্যবহার করে তালিকা প্রস্তুত করা হবে, যাতে কেউ বাদ না পড়ে।

বৈঠকে অন্যান্য সরকারি সিদ্ধান্ত: টিকা কর্মসূচি

বিস্তারিত আলোচনায় সম্প্রসারিত টিকাদান কর্মসূচি (EPI) নিয়েও সিদ্ধান্ত হয়।

Advertisement

  • দুটি ধাপে টিকা সংগ্রহ করা হবে।
  • প্রথম তিন মাসের সরবরাহ ইউনিসেফের মাধ্যমে আসবে।
  • পরবর্তী তিন মাস আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতামূলক দরপত্রের মাধ্যমে কেনার সম্ভাবনা রয়েছে।
  • ইউনিসেফকে কমিশন হার কমানোর জন্যও অনুরোধ জানানো হয়েছে।

২০২৬ সালের পাঠ্যক্রম বিতরণ প্রস্তাব

আলোচনায় ২০২৬ সালের বই বিতরণও এজেন্ডায় ছিল। তবে:

  • মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের অনুরোধে এই প্রস্তাব আপাতত প্রত্যাহার করা হয়।
  • প্রস্তাবে নবম শ্রেণি (বাংলা ও ইংরেজি সংস্করণ), মাদরাসা (দাখিল ও ভোকেশনাল) এবং টেকনিক্যাল ট্রেড কোর্সের বই অন্তর্ভুক্ত ছিল।

বিশেষজ্ঞদের মতামত

শিক্ষা বিশেষজ্ঞরা সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়েছেন।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের এক শিক্ষা অধ্যাপক বলেন:
“জানুয়ারিতে সময়মতো বই বিতরণ শিক্ষার মানোন্নয়নের প্রথম ধাপ। প্রতিশ্রুতি পূরণ হলে শিক্ষার্থী ও অভিভাবকের আস্থা আরও দৃঢ় হবে।”

গুরুত্ব ও প্রভাব

  • শিক্ষার্থীদের জন্য: পড়াশোনা বাধাহীনভাবে চলবে।
  • শিক্ষকদের জন্য: নির্ধারিত সময়ে পাঠদান শুরু করা যাবে।
  • অভিভাবকদের জন্য: অযথা খরচ বাঁচবে, কারণ দেরি হলে অনেক সময় পুরোনো বই বা বাজার থেকে বই কিনতে হয়।

সাধারণ জিজ্ঞাসা (FAQs)

প্রশ্ন ১: সব স্কুলে কি একই পাঠ্যপুস্তক পৌঁছাবে?
👉 হ্যাঁ। সরকার নিশ্চিত করেছে—কোনো স্কুল অতিরিক্ত বা কম কপি পাবে না।

প্রশ্ন ২: শিক্ষার্থীরা কবে বই পাবে?
👉 লক্ষ্য ১ জানুয়ারি, এবং শিক্ষা মন্ত্রণালয় এ প্রতিশ্রুতি পূরণে অঙ্গীকারবদ্ধ।

প্রশ্ন ৩: গত বছর দেরি হওয়ার কারণ কী ছিল?
👉 মুদ্রণ ও বিতরণে অনিয়মের কারণে বই মার্চে পৌঁছায়।

প্রশ্ন ৪: এ বছর বইয়ের মান কি উন্নত হবে?
👉 হ্যাঁ। কাগজ ও বাঁধাইয়ের মান কঠোরভাবে নজরদারিতে রাখা হয়েছে।

উপসংহার ও আহ্বান

সরকার যদি এই অঙ্গীকার বাস্তবায়ন করতে পারে, তবে এটি শিক্ষা খাতের জন্য একটি বড় সফলতা হবে। সময়মতো পাঠ্যপুস্তক বিতরণ কেবল শিক্ষার মান উন্নত করবে না, বরং শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মনে স্বস্তি ও আস্থাও ফিরিয়ে আনবে।

সম্পর্কিত প্রবন্ধ

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

সবচেয়ে বেশি পঠিত