Advertisement
ভূমিকা
বাংলাদেশে প্রতি শিক্ষাবর্ষের শুরু মানেই নতুন পাঠ্যপুস্তক বিতরণ। গত বছর বই সরবরাহে দেরি হওয়ায় শিক্ষার্থী, শিক্ষক ও অভিভাবকদের জন্য বড় ধরনের ভোগান্তি তৈরি হয়েছিল। তবে এবার সরকার দৃঢ় ঘোষণা দিয়েছে—আগামী ১ জানুয়ারির মধ্যেই সব পাঠ্যপুস্তক স্কুলে পৌঁছে যাবে। এর ফলে কেবল শিক্ষাকার্যক্রম নির্বিঘ্নে চলবে না, শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের আস্থাও ফিরে আসবে বলে আশা করা হচ্ছে।
সরকারি বৈঠক ও সিদ্ধান্ত
রবিবার অর্থ উপদেষ্টা ড. সেলেহউদ্দিন আহমদের সভাপতিত্বে অর্থনৈতিক বিষয়ক মন্ত্রিসভা কমিটি ও ক্রয় কমিটির বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠক শেষে তিনি জানান:
Advertisement
- নির্দিষ্ট শ্রেণির জন্য ইতোমধ্যেই মুদ্রণের অর্ডার দেওয়া হয়েছে।
- কোনো প্রতিষ্ঠান অবৈধভাবে বাড়তি কপি নিতে না পারে, সে জন্য স্কুলগুলোর তালিকা পুনঃযাচাই করা হচ্ছে।
- সরকারের স্পষ্ট লক্ষ্য: “১ জানুয়ারির মধ্যেই প্রতিটি শিক্ষার্থীর হাতে বই পৌঁছাতে হবে।”
গত বছরের বিলম্ব বনাম এ বছরের প্রস্তুতি
গত শিক্ষাবর্ষে নতুন পাঠ্যপুস্তক মার্চ মাসে শিক্ষার্থীদের হাতে পৌঁছেছিল, ফলে কয়েক মাসের পড়াশোনা ব্যাহত হয়। এবার সেই অভিজ্ঞতা এড়াতে শিক্ষা মন্ত্রণালয়:
Advertisement
- সেপ্টেম্বর থেকেই প্রস্তুতি শুরু করেছে।
- কাগজ ও মুদ্রণের মান কঠোরভাবে যাচাই করছে, যাতে নিম্নমানের বই নিয়ে অভিযোগ না ওঠে।
- স্কুল থেকে জমা দেওয়া চাহিদার তালিকা ক্রস-চেক করছে, স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে।
বৈঠকের মূল দিকনির্দেশনা
- বই বিতরণে স্বচ্ছতাকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে।
- দুই সপ্তাহের মধ্যে চূড়ান্ত বিতরণ তালিকা তৈরি হবে।
- ছাত্রছাত্রীর সংখ্যা অনুযায়ী ঐতিহাসিক রেকর্ড ব্যবহার করে তালিকা প্রস্তুত করা হবে, যাতে কেউ বাদ না পড়ে।
বৈঠকে অন্যান্য সরকারি সিদ্ধান্ত: টিকা কর্মসূচি
বিস্তারিত আলোচনায় সম্প্রসারিত টিকাদান কর্মসূচি (EPI) নিয়েও সিদ্ধান্ত হয়।
Advertisement
- দুটি ধাপে টিকা সংগ্রহ করা হবে।
- প্রথম তিন মাসের সরবরাহ ইউনিসেফের মাধ্যমে আসবে।
- পরবর্তী তিন মাস আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতামূলক দরপত্রের মাধ্যমে কেনার সম্ভাবনা রয়েছে।
- ইউনিসেফকে কমিশন হার কমানোর জন্যও অনুরোধ জানানো হয়েছে।
২০২৬ সালের পাঠ্যক্রম বিতরণ প্রস্তাব
আলোচনায় ২০২৬ সালের বই বিতরণও এজেন্ডায় ছিল। তবে:
- মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের অনুরোধে এই প্রস্তাব আপাতত প্রত্যাহার করা হয়।
- প্রস্তাবে নবম শ্রেণি (বাংলা ও ইংরেজি সংস্করণ), মাদরাসা (দাখিল ও ভোকেশনাল) এবং টেকনিক্যাল ট্রেড কোর্সের বই অন্তর্ভুক্ত ছিল।
বিশেষজ্ঞদের মতামত
শিক্ষা বিশেষজ্ঞরা সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়েছেন।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের এক শিক্ষা অধ্যাপক বলেন:
“জানুয়ারিতে সময়মতো বই বিতরণ শিক্ষার মানোন্নয়নের প্রথম ধাপ। প্রতিশ্রুতি পূরণ হলে শিক্ষার্থী ও অভিভাবকের আস্থা আরও দৃঢ় হবে।”
গুরুত্ব ও প্রভাব
- শিক্ষার্থীদের জন্য: পড়াশোনা বাধাহীনভাবে চলবে।
- শিক্ষকদের জন্য: নির্ধারিত সময়ে পাঠদান শুরু করা যাবে।
- অভিভাবকদের জন্য: অযথা খরচ বাঁচবে, কারণ দেরি হলে অনেক সময় পুরোনো বই বা বাজার থেকে বই কিনতে হয়।
সাধারণ জিজ্ঞাসা (FAQs)
প্রশ্ন ১: সব স্কুলে কি একই পাঠ্যপুস্তক পৌঁছাবে?
👉 হ্যাঁ। সরকার নিশ্চিত করেছে—কোনো স্কুল অতিরিক্ত বা কম কপি পাবে না।
প্রশ্ন ২: শিক্ষার্থীরা কবে বই পাবে?
👉 লক্ষ্য ১ জানুয়ারি, এবং শিক্ষা মন্ত্রণালয় এ প্রতিশ্রুতি পূরণে অঙ্গীকারবদ্ধ।
প্রশ্ন ৩: গত বছর দেরি হওয়ার কারণ কী ছিল?
👉 মুদ্রণ ও বিতরণে অনিয়মের কারণে বই মার্চে পৌঁছায়।
প্রশ্ন ৪: এ বছর বইয়ের মান কি উন্নত হবে?
👉 হ্যাঁ। কাগজ ও বাঁধাইয়ের মান কঠোরভাবে নজরদারিতে রাখা হয়েছে।
উপসংহার ও আহ্বান
সরকার যদি এই অঙ্গীকার বাস্তবায়ন করতে পারে, তবে এটি শিক্ষা খাতের জন্য একটি বড় সফলতা হবে। সময়মতো পাঠ্যপুস্তক বিতরণ কেবল শিক্ষার মান উন্নত করবে না, বরং শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মনে স্বস্তি ও আস্থাও ফিরিয়ে আনবে।
