Advertisement
ভূমিকা
বাংলাদেশসহ দক্ষিণ এশিয়ার বিভিন্ন দেশে একটি সাধারণ সংকট স্পষ্ট হয়ে উঠেছে—পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে মারাত্মক শিক্ষক সংকট। শিক্ষার মান, গবেষণা এবং শিক্ষার্থীদের সার্বিক উন্নয়ন প্রত্যক্ষভাবে নির্ভর করে দক্ষ শিক্ষকের উপস্থিতির ওপর। এই প্রেক্ষাপটে বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন (ইউজিসি) ঘোষণা করেছে যে, পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর সব শূন্য পদ দ্রুত পূরণ করা হবে।
এই ঘোষণা দেন ইউজিসি চেয়ারম্যান প্রফেসর এসএমএ ফইজ কুষ্টিয়ার ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ে (ইবি) নবীনবরণ অনুষ্ঠানে।
Advertisement
ইউজিসি চেয়ারম্যানের বার্তা
প্রফেসর এসএমএ ফইজ তাঁর বক্তব্যে বলেন:
Advertisement
“বিশ্ববিদ্যালয়গুলো বর্তমানে তীব্র শিক্ষক সংকটে ভুগছে। খুব শিগগির আমরা একটি বৈঠক করব শূন্য পদ অনুমোদনের জন্য। ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়সহ সব বিশ্ববিদ্যালয়ের জন্য আমি সর্বোচ্চ চেষ্টা করব।”
তিনি আরও জানান, নিয়োগ প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও দ্রুততা নিশ্চিত করতে একটি বিশেষ দল ইতোমধ্যে কাজ শুরু করেছে।
Advertisement
নবীনবরণ অনুষ্ঠানের বিবরণ
স্থান: বীরশ্রেষ্ঠ হামিদুর রহমান মিলনায়তন
সভাপতিত্ব: উপাচার্য প্রফেসর নকীব মোহাম্মদ নাসরুল্লাহ
বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন:
- প্রো-ভিসি প্রফেসর এম. ইয়াকুব আলী
- কোষাধ্যক্ষ প্রফেসর এম. জাহাঙ্গীর আলম
- প্রফেসর রফিকুল ইসলাম (আরবি ভাষা ও সাহিত্য বিভাগ)
- প্রভাষক হাবিবুর রহমান (সমাজকল্যাণ বিভাগ)
স্বাগত বক্তব্য: প্রফেসর বেগম রুখসানা মিল্লি, ডিন, সমাজবিজ্ঞান অনুষদ
সংকট মোকাবিলায় ইউজিসির কৌশল
শূন্য পদ অনুমোদন
খুব দ্রুত সব শূন্য শিক্ষকের পদ অনুমোদন দেওয়া হবে।
স্বচ্ছ নিয়োগ প্রক্রিয়া
একটি বিশেষ টিম নিয়োগের ক্ষেত্রে মেধা, স্বচ্ছতা ও ন্যায্যতা নিশ্চিত করবে।
শিক্ষার্থীদের জন্য স্বস্তি
শিক্ষক সংকটের কারণে শিক্ষার্থীরা যেসব সমস্যার মুখে পড়ছে, যেমন—
- অসম্পূর্ণ ক্লাস
- গবেষণাভিত্তিক কোর্সে বিঘ্ন
- বিশ্ব বিশ্ববিদ্যালয় র্যাঙ্কিংয়ে অবনমন
এসব সমস্যার সমাধান হবে নতুন উদ্যোগের মাধ্যমে। সময়মতো ক্লাস, উন্নত গবেষণা ও মানসম্মত শিক্ষা নিশ্চিত হবে।
Also read:ইউজিসি সিদ্ধান্ত: পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষক সংকট দ্রুত সমাধান হবে
ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট ও শিক্ষার্থীদের ভূমিকা
প্রফেসর ফইজ তাঁর বক্তব্যে একটি বেদনাদায়ক স্মৃতিও স্মরণ করেন:
“২০১২ সালে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের দুইজন শিক্ষার্থী নিখোঁজ হয়েছিলেন। সেটি সময়ের রাজনৈতিক বাস্তবতাকে প্রতিফলিত করেছিল। তবে আজকের শিক্ষার্থীরা নিজেরাই স্বাধীনতার দায়িত্ব কাঁধে তুলে নিয়েছে।”
তাঁর বক্তব্য শিক্ষার্থীদের সংগ্রাম ও রাজনৈতিক বাস্তবতার সাথে তাঁদের স্থিতিশীলতার প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করে।
অন্যান্য উপস্থিত ব্যক্তিত্ব
অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন:
- ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার প্রফেসর এম. মঞ্জুরুল হক
- আইন অনুষদের ডিন প্রফেসর খোন্দকার তৌহিদুল ইসলাম
- জীববিজ্ঞান অনুষদের ডিন প্রফেসর বেবী সাবিনা আজহার
- ছাত্র উপদেষ্টা প্রফেসর ওবায়দুল ইসলাম
- প্রক্টর প্রফেসর শহীনুজ্জামান
অনুষ্ঠানের সমাপ্তি ঘটে শিক্ষার্থী ও শিক্ষকদের পরিবেশনায় সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের মাধ্যমে।
বিশেষজ্ঞদের মতামত
শিক্ষা বিশেষজ্ঞরা ইউজিসির এ সিদ্ধান্তকে একটি মাইলফলক হিসেবে দেখছেন।
- একজন শিক্ষা অধ্যাপক: “শিক্ষক নিয়োগ পূর্ণ হলে শিক্ষার্থীদের জন্য আরও ভালো শিক্ষার পরিবেশ তৈরি হবে।”
- একজন শিক্ষা নীতি বিশেষজ্ঞ: “যথেষ্ট শিক্ষক ছাড়া গবেষণা ও বৈশ্বিক র্যাঙ্কিং উন্নত করা সম্ভব নয়।”
সাধারণ জিজ্ঞাসা (FAQs)
প্রশ্ন ১: কবে শূন্য পদ পূরণ করা হবে?
চেয়ারম্যান জানিয়েছেন, খুব শিগগিরই বৈঠক ডেকে সব পদ অনুমোদন দেওয়া হবে।
প্রশ্ন ২: এই নীতি কি শুধু ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের জন্য প্রযোজ্য?
না, এটি সব পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের জন্য প্রযোজ্য।
প্রশ্ন ৩: শিক্ষার্থীরা কীভাবে উপকৃত হবে?
মানসম্মত শিক্ষা, উন্নত গবেষণার সুযোগ এবং আন্তর্জাতিক মানসম্পন্ন পাঠদান নিশ্চিত হবে।
প্রশ্ন ৪: নিয়োগ কি স্বচ্ছ হবে?
হ্যাঁ। বিশেষ টিম মেধাভিত্তিক ও স্বচ্ছ নিয়োগ নিশ্চিত করবে।
উপসংহার ও আহ্বান
পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক সংকট নিরসনে ইউজিসির এই সিদ্ধান্ত বাংলাদেশে উচ্চশিক্ষার মানোন্নয়নের এক গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ। কার্যকরভাবে বাস্তবায়িত হলে এটি শিক্ষার্থী, শিক্ষক এবং বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর জন্য দীর্ঘমেয়াদি সুফল বয়ে আনবে, পাশাপাশি আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বাংলাদেশের শিক্ষার মান ও বিশ্বাসযোগ্যতাও বৃদ্ধি করবে।
