Advertisement
ভূমিকা
পুলিশ জনগণকে সুরক্ষা দেওয়ার জন্য, নাকি কেবল ক্ষমতার হাতিয়ার হয়ে উঠেছে? এই গুরুতর প্রশ্ন তোলেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমেদ। শনিবার এক গোলটেবিল আলোচনায় তাঁর বক্তব্য নতুন করে দেশজুড়ে বিতর্কের জন্ম দিয়েছে।
সালাহউদ্দিন বলেন:
Advertisement
“আমরা সবাই পুলিশকে ব্যবহার করেছি—ক্ষমতার জন্য, নিয়ন্ত্রণের জন্য। কিন্তু একইসাথে পুলিশও শোষিত হয়েছে। প্রতিটি সরকার পুলিশকে খুশি রাখতে চেয়েছে, আর এই মানসিকতাই আমাদের ধ্বংস করেছে।”
তাঁর বক্তব্য ইঙ্গিত করে যে পুলিশ সংস্কার এখন আর বিলাসিতা নয়, বরং জাতীয় জরুরি প্রয়োজন।
Advertisement
কেন পুলিশকে বলা হচ্ছে “কিংমেকার”?
ক্ষমতার রাজনীতিতে ভূমিকা
সালাহউদ্দিনের মতে, প্রতিটি সরকার পুলিশের হাতকে রাজনৈতিক ক্ষমতার কেন্দ্রে বসিয়েছে। ফলে পুলিশ জনস্বার্থের বদলে রাজনৈতিক স্বার্থে কাজ করতে অভ্যস্ত হয়ে ওঠে।
Advertisement
দুর্নীতি মূল সমস্যায় পরিণত
তিনি আরও বলেন, পুলিশের দুর্নীতি আজ সবচেয়ে বড় সমস্যা, কারণ:
“শেষ পর্যন্ত সবাইকেই পুলিশের কাছে যেতে হয়।”
অন্যান্য বিশেষজ্ঞদের মতামত
মোহাম্মদ ইকবাল – সদস্য, পুলিশ সংস্কার কমিশন
“আমরা প্রায়ই পুলিশকে দুর্নীতিগ্রস্ত বলি, কিন্তু তাদের আর্থিক সংকটকে উপেক্ষা করি। পুলিশ কর্মকর্তাদের অর্থনৈতিক সমস্যা না মেটালে দুর্নীতি বন্ধ হবে না।”
ড. ইফতেখারুজ্জামান – ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি)
“পুলিশ নিজেরাই ব্যবহার হতে দিয়েছে, এবং এ থেকে সুবিধাও নিয়েছে। এই দেশের প্রতিটি নাগরিকের পুলিশের দুর্নীতি নিয়ে খোলাখুলি লেখার অধিকার থাকা উচিত।”
মাহফুজ আনাম – সম্পাদক, ডেইলি স্টার
“আমরা চাই জনগণবান্ধব পুলিশ—যা হবে গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ ও সততার ভিত্তিতে। পুলিশ সংস্কার এখন আর বিলম্ব করার মতো বিষয় নয়।”
প্রস্তাবিত সংস্কার পদক্ষেপ
সালাহউদ্দিন তাঁর দলের প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করেন:
“আমাদের পক্ষ থেকে যা যা করা দরকার, আমরা আইন প্রণয়ন করব একটি স্বচ্ছ পুলিশ বাহিনী গড়ে তুলতে।”
প্রস্তাবিত পদক্ষেপ:
- স্বচ্ছ নিয়োগ: রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত নিয়োগ প্রক্রিয়া।
- আর্থিক নিরাপত্তা: উন্নত বেতন ও ভাতা।
- জবাবদিহি কাঠামো: স্বাধীন সংস্থা দ্বারা দুর্নীতি মোকাবিলা।
- জনসম্পৃক্ততা কর্মসূচি: নাগরিক ও পুলিশের মধ্যে বিশ্বাস পুনর্গঠন।
Also read:ইউজিসি সিদ্ধান্ত: পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষক সংকট দ্রুত সমাধান হবে
জনগণ ও সিভিল সোসাইটির ভূমিকা
মোহাম্মদ ইকবাল জোর দিয়ে বলেন, দুর্নীতি একমাত্র সমস্যা নয়—ব্যবস্থাগত ও অর্থনৈতিক সমস্যাগুলোও সমাধান করতে হবে। সরকার, সিভিল সোসাইটি ও নাগরিকরা একসাথে কাজ করলেই স্থায়ী সংস্কার সম্ভব।
আন্তর্জাতিক উদাহরণ
- সিঙ্গাপুর: কঠোর জবাবদিহি আইনের মাধ্যমে দুর্নীতি ব্যাপকভাবে হ্রাস করেছে।
- যুক্তরাজ্য: কমিউনিটি পুলিশিং মডেলের মাধ্যমে জনগণের আস্থা ফিরিয়েছে।
- নেপাল: depoliticized নিয়োগ ও স্বচ্ছতা নিশ্চিত করে পুলিশ সংস্কার সফল করেছে।
এগুলো প্রমাণ করে যে রাজনৈতিক সদিচ্ছা ও স্পষ্ট কৌশল থাকলে সংস্কার সম্ভব।
সাধারণ জিজ্ঞাসা (FAQs)
প্রশ্ন ১: কেন পুলিশকে “কিংমেকার” বলা হচ্ছে?
কারণ প্রতিটি সরকার পুলিশকে রাজনৈতিক হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করেছে।
প্রশ্ন ২: সংস্কার কবে হতে পারে?
আইন প্রণয়ন, নিয়োগ ও আর্থিক নিরাপত্তায় তাৎক্ষণিক পদক্ষেপ নিলে দ্রুত শুরু হতে পারে।
প্রশ্ন ৩: জনগণের ভূমিকা কী?
দুর্নীতির বিরুদ্ধে কণ্ঠস্বর তোলা ও সিভিল সোসাইটির উদ্যোগকে সমর্থন করা।
প্রশ্ন ৪: সংস্কার কি সত্যিই সম্ভব?
হ্যাঁ। বৈশ্বিক উদাহরণ দেখিয়েছে জবাবদিহি ও স্বচ্ছতা পুলিশকে নতুনভাবে গড়ে তুলতে পারে।
উপসংহার ও আহ্বান
পুলিশ সংস্কার কেবল রাজনৈতিক স্লোগান নয়, এটি জাতীয় অপরিহার্যতা। প্রস্তাবিত পদক্ষেপগুলো কার্যকরভাবে বাস্তবায়িত হলে নাগরিকরা ন্যায়বিচার, স্বচ্ছতা ও প্রকৃত নিরাপত্তা পেতে সক্ষম হবে।
