Advertisement
সিলেট: প্রায় ৩২০ দিন পর শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (SUST) ছাত্র রাজনীতি পুনঃপ্রতিষ্ঠিত হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টোরিয়াল কমিটির একমত সিদ্ধান্তের ভিত্তিতে নেওয়া হয়েছে এবং সোমবার রেজিস্ট্রার সৈয়দ সেলিম মুহাম্মদ আবদুল কাদের এর মাধ্যমে নোটিশ প্রকাশ করা হয়েছে।
স্থগিতের পটভূমি
২০২৪ সালের ৬ নভেম্বর SUST-এ ছাত্র রাজনীতি স্থগিত করা হয়। সেই সময়ে ক্যাম্পাসে রাজনৈতিক কার্যক্রম খুব সীমিত ছিল। প্রশাসন বলেছিল যে এই পদক্ষেপের উদ্দেশ্য ছিল ক্যাম্পাসকে শান্তিপূর্ণ ও নিয়মবদ্ধ রাখা এবং রাজনৈতিক কার্যক্রম থেকে উদ্ভূত যে কোনো সহিংসতা বা সমস্যা রোধ করা।
Advertisement
ছাত্ররা একত্রিত হওয়া, ইভেন্ট করা বা র্যালি বা সমাবেশের পরিকল্পনা করার অনুমতি পাননি। এই নিষেধাজ্ঞার সরাসরি প্রভাব পড়েছিল কমিউনিটি ইভেন্ট ও ছাত্র সংসদ নির্বাচনেও।
Advertisement
পুনঃপ্রতিষ্ঠার ঘোষণা
নোটিশে বলা হয়েছে:
Advertisement
“১৮ আগস্ট প্রক্টোরিয়াল কমিটির সভায় সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে, ৬ নভেম্বর ২০২৪ থেকে কার্যকর স্থগিতাদেশ তুলে নেওয়া হবে, কারণ সকল ছাত্র সংগঠন এতে একমত হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয় প্রক্টরের অনুমতি এবং পরস্পরের প্রতি সম্মান বজায় রেখে, ছাত্ররা এমন রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে অংশ নিতে পারবে যা কমিউনিটির জন্য উপকারী। তবে একাডেমিক ভবন, প্রশাসনিক অফিস ও হোস্টেলগুলিতে বৈঠক, সমাবেশ এবং র্যালি করা এখনও নিষিদ্ধ।”
নোটিশে আরও বলা হয়েছে যে SUST কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (SUCSSU) নির্বাচনী প্যানেল গঠন এবং পরিচিতি অনুষ্ঠান আয়োজন করতে পারবে, তবে এর জন্য আগে হলের অনুমতি নিতে হবে।
ছাত্র রাজনীতির গুরুত্ব ও কার্যক্রম
SUST-এ ছাত্র রাজনীতি পুনঃপ্রতিষ্ঠার কিছু গুরুত্বপূর্ণ দিক রয়েছে:
- ছাত্র প্রতিনিধিত্ব: SUCSSU নির্বাচন ছাত্রদের মতামত এবং অধিকার প্রদর্শনের প্রধান উপায়।
- নেতৃত্বের প্রশিক্ষণ: ছাত্র রাজনীতি নতুন নেতা খুঁজে বের করার এবং সামাজিক সমস্যা মোকাবেলার একটি মাধ্যম।
- ক্যাম্পাসের ঐক্য: সকলের অনুসরণযোগ্য নিয়ম এবং প্রক্টরের তত্ত্বাবধান শান্তি বজায় রাখতে সাহায্য করে।
নতুন নিয়ম ও আইন
নোটিশে স্পষ্ট করা হয়েছে:
- সকল রাজনৈতিক কার্যক্রম সমাজ ও শিক্ষার জন্য উপকারী হতে হবে।
- একাডেমিক ভবন, প্রশাসনিক অফিস বা হোস্টেলগুলিতে বৈঠক, সমাবেশ বা র্যালি করা যাবে না।
- বক্তৃতা, প্যানেল বা অনুষ্ঠান করার জন্য হলের অনুমতি প্রয়োজন।
- ছাত্ররা পরস্পরের প্রতি শ্রদ্ধাশীল ও আইনের প্রতি সম্মান রেখে কাজ করতে হবে।
SUCSSU নির্বাচনের সুযোগ
- প্যানেল গঠন: হলের অনুমতি নিয়ে ছাত্র সংগঠন নির্বাচনী পরিচিতি ও প্যানেল পরিকল্পনা করতে পারবে।
- পরিচিতি অনুষ্ঠান: প্রার্থীরা ভোটারদের তাদের দল ও ম্যানিফেস্টো সম্পর্কে জানাতে পারবে।
- কল্যাণমূলক কার্যক্রম: নির্বাচনকালে ছাত্ররা কমিউনিটি ও সামাজিক কল্যাণ কার্যক্রমেও অংশ নিতে পারবে।
বিশেষজ্ঞ মতামত
সামাজিক বিজ্ঞানের বিশেষজ্ঞরা বলেছেন:
“ছাত্র রাজনীতি গুরুত্বপূর্ণ কারণ এটি ছাত্রদের রাজনীতি, নেতৃত্ব এবং দায়িত্বশীলতা শেখায়। স্থগিতাদেশ ছাত্রদের নেতা হওয়ার সুযোগ কমিয়েছিল এবং কমিউনিটিতে অংশগ্রহণকেও প্রভাবিত করেছিল।”
তারা আরও বলেছেন, নিরাপদ ও নিয়ন্ত্রিতভাবে ছাত্র রাজনীতি পুনঃপ্রতিষ্ঠা ক্যাম্পাসকে শান্ত ও স্থিতিশীল রাখতে সাহায্য করে।
Also read:ফ্রান্স স্বীকৃতি দিল প্যালেস্টাইনের রাষ্ট্রকে: বৈশ্বিক প্রতিক্রিয়া
ছাত্র সংগঠনগুলোর প্রতিক্রিয়া
SUST-এর বিভিন্ন ছাত্র সংগঠন পুনঃপ্রতিষ্ঠাকে স্বাগত জানিয়েছে এবং শান্তিপূর্ণ ও শ্রদ্ধাশীলভাবে কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। কিছু সংগঠন ইতিমধ্যেই নির্বাচনী প্যানেলের প্রার্থীদের প্রচারণা শুরু করেছে। ছাত্রদের জানানো হয়েছে যে ক্যাম্পাসে কোনো সমস্যা বা বিশৃঙ্খলা হবে না। সংগঠনগুলো প্রশাসনের সঙ্গে কাজ করতে এবং প্রক্টরের নির্দেশ মানতে প্রস্তুত।
সম্ভাব্য সমস্যা
পুনঃপ্রতিষ্ঠা ভালো হলেও কিছু সমস্যা রয়ে গেছে:
- নিয়ম ভঙ্গ: অনুমোদনবিহীন বৈঠক বা র্যালি সমস্যা সৃষ্টি করতে পারে।
- রাজনৈতিক উত্তেজনা: গোষ্ঠীগুলোর মধ্যে মতবিরোধ থাকতে পারে, তাই প্রক্টরের তত্ত্বাবধান প্রয়োজন।
- নির্বাচনী জালিয়াতি: প্রার্থী ও দলদের কার্যক্রম স্বচ্ছ হতে হবে।
ডিজিটাল ও অনলাইন কার্যক্রম
- ছাত্ররা সামাজিক মাধ্যমে ইভেন্ট ও ম্যানিফেস্টো প্রচার করতে পারবে।
- অনলাইনে বিতর্ক ও ওয়েবিনার: শিক্ষামূলক ও বুদ্ধিবৃত্তিক কার্যক্রমের জন্য।
- ভিডিও ও ইনফোগ্রাফিক্স: নির্বাচনী ও কল্যাণমূলক উদ্যোগ প্রচারের জন্য ব্যবহার করা যাবে।
অন্যান্য বিশ্ববিদ্যালয়ের জন্য পাঠ
SUST-এর পুনঃপ্রতিষ্ঠা দেখিয়েছে:
- সংগঠিত ও নিয়ন্ত্রিত ছাত্র রাজনীতি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের জন্য কার্যকর ও লাভজনক।
- নিয়ম ও তত্ত্বাবধান সম্পূর্ণ নিষেধাজ্ঞার চেয়ে বেশি কার্যকর।
- প্রক্টরের তত্ত্বাবধান নেতৃত্ব বিকাশ ও কমিউনিটি অংশগ্রহণকে উৎসাহিত করে।
সারসংক্ষেপ ও আহ্বান
SUST-এ ছাত্র রাজনীতি পুনঃপ্রতিষ্ঠা একটি ঐতিহাসিক ও ইতিবাচক পদক্ষেপ। এটি ছাত্র নেতৃত্ব ও প্রতিনিধিত্বকে শক্তিশালী করে এবং ক্যাম্পাসে শান্তিপূর্ণ, নিয়ন্ত্রিত ও কল্যাণমুখী কার্যক্রমকে উৎসাহিত করে।
