Advertisement
ঢাকা: বিএনপি’র সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব, অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী, সোমবার অভিযোগ করেছেন যে, তত্ত্বাবধায়ক সরকার গুরুত্বপূর্ণ প্রশাসনিক পদে, যেমন ডেপুটি কমিশনার (ডিসি) এবং সুপারিনটেন্ডেন্ট অফ পুলিশ (এসপি) পদে একটি নির্দিষ্ট ইসলামীতপন্থী রাজনৈতিক দলের সদস্যদের নিয়োগ দিচ্ছে।
নয়াপল্টনের কেন্দ্রীয় দফতরে সংবাদ সম্মেলনে রিজভী বলেন, যারা তাদের ছাত্র জীবনে জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল (BNP-এর ছাত্র সংগঠন)-এর সাথে যুক্ত ছিলেন, তাদের যোগ্যতা থাকা সত্ত্বেও অনেককে Officer on Special Duty (OSD) রাখা হয়েছে বা কম গুরুত্বপূর্ণ পদে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।
Advertisement
পূর্ববর্তী সরকার এবং বিতর্কিত নিয়োগ
রিজভী বলেন:
“বেগম জিয়ার সময়কালীন অনেক ছাত্রকে মেধার ভিত্তিতে নিয়োগ দেওয়া হয়েছিল। কেউ কেউ ছাত্রদল বা বিএনপির সাথে যুক্ত ছিলেন। কিছু প্রমোশন পেলেও, তাদের গুরুত্বপূর্ণ পদ দেওয়া হতো না, প্রায়ই OSD হিসেবে থাকত।”
Advertisement
তিনি আরও বলেন, এমন কর্মকর্তারা তাদের হতাশা প্রকাশ করতেন, কারণ তাদের পূর্বের সাফল্যের পরও গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব দেওয়া হতো না।
Advertisement
ডঃ মোকলেসুর রহমানকে সমালোচনা
রিজভী অভিযোগ করেছেন যে, সম্প্রতি মন্ত্রিপরিষদ থেকে পরিকল্পনা কমিশনে স্থানান্তরিত ডঃ মোকলেসুর রহমান প্রো-বিএনপি কর্মকর্তাদের নিয়োগে বাধা সৃষ্টি করেছেন এবং তাদের বিরুদ্ধে মিথ্যা অভিযোগ তুলেছেন।
“অন্য রাজনৈতিক দলের সদস্যরা ডিসি ও এসপি পদে নিয়োগ পাচ্ছেন। আমি তাদের নাম বলতে পারি—যারা ইসলামীত দাবি করছে, তারা নির্দিষ্ট দলের সমর্থক ও অনুরূপ মানুষ নিয়োগ পাচ্ছেন।”
রিজভী দাবি করেছেন, এটি একটি নতুন প্রবণতা, যা শেখ হাসিনার তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সময়কালের নিয়োগ প্রক্রিয়ার সাথে তুলনীয়।
প্রমোশন ও গুরুত্বপূর্ণ পদে সীমাবদ্ধতা
যারা ইউএনও, ম্যাজিস্ট্রেট বা ডিসি/এসপি পদে উন্নীত হন, তাদের প্রায়ই কম গুরুত্বপূর্ণ পদে নিযুক্ত করা হয়।
শেখ হাসিনার ১৫–১৬ বছরের সময়কালীন প্রমোশন প্রায়ই বিলম্বিত হতো বা কর্মকর্তারা কম গুরুত্বপূর্ণ পদে নিযুক্ত হতেন।
কখনও কখনও প্রমোশন দেওয়া হলেও তা অস্থায়ী ও কম প্রভাবশালী পদে দেওয়া হতো।
দুর্নীতির অভিযোগ থাকা কর্মকর্তাদের নিয়োগ
রিজভী ডঃ মোকলেসুর রহমানকে পরিকল্পনা কমিশনের সিনিয়র সচিব হিসেবে নিয়োগেরও সমালোচনা করেছেন, যদিও তার বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ রয়েছে।
“দুর্নীতির অভিযোগপ্রাপ্ত একজনকে একপদ থেকে অন্যপদে স্থানান্তর করা হচ্ছে। বিতর্কিত সময়কাল থাকা সত্ত্বেও, তাকে এখন পরিকল্পনা কমিশনে গুরুত্বপূর্ণ পদ দেওয়া হয়েছে।”
ছাত্র ও সামাজিক নেতাদের বিএনপিতে যোগদান
সংবাদ সম্মেলনের সময়, নারায়ণগঞ্জের বিশিষ্ট ক্রীড়া সংগঠক মাসুদ আল-জামান মাসুদ বিএনপিতে যোগদান করেছেন এবং রিজভীকে একটি ফুলের তোড়া উপহার দিয়েছেন।
তিনি পার্টির সদস্যপদ ফর্ম পূরণ করে কেন্দ্রীয় অফিসের মাধ্যমে আনুষ্ঠানিকভাবে সদস্য হয়েছেন। এটি প্রমাণ করে যে, পার্টি জনপ্রিয়তা পাচ্ছে এবং আরও মানুষ ও গ্রুপ সমর্থন দিচ্ছে।
Also read:ছাত্র রাজনীতি পুনঃপ্রতিষ্ঠিত: ৩২০ দিনের পর সাঃজে.এস.টি-তে ঐতিহাসিক সিদ্ধান্ত
রাজনৈতিক পটভূমি ও তাৎপর্য
রিজভীর অভিযোগগুলো কিছু গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক প্রশ্ন উত্থাপন করছে:
- নিয়োগে পক্ষপাত: যোগ্য কর্মকর্তাদের কম গুরুত্বপূর্ণ পদে রাখা ন্যায্যতা ও স্বচ্ছতার প্রশ্ন তোলে।
- রাজনৈতিক নিয়োগ: গুরুত্বপূর্ণ পদে নির্দিষ্ট দলের লোক নিয়োগ হলে সরকারের স্বচ্ছতা ক্ষুণ্ণ হতে পারে।
- বিশ্বাস ও স্বচ্ছতা: সরকারি বিভাগের ন্যায়পরায়ণ ও স্বচ্ছতা নিশ্চিত করার জন্য পর্যবেক্ষণ প্রয়োজন।
বিশেষজ্ঞ মতামত
রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলেন:
“যদি নিয়োগ রাজনৈতিক দৃষ্টিভঙ্গির ওপর নির্ভর করে, তাহলে প্রতিষ্ঠানের প্রতি বিশ্বাস ও কর্মকর্তাদের কার্যকারিতা প্রভাবিত হতে পারে। মেধা ও স্বচ্ছতা মূল মূল্যবোধ হিসেবে রাখা গুরুত্বপূর্ণ।”
বিশেষজ্ঞরা আরও বলেন, তত্ত্বাবধায়ক সরকার এবং পরিকল্পনা কমিশনে মেধার ভিত্তিতে নিয়োগ রাজনৈতিক উত্তেজনা হ্রাসে সাহায্য করতে পারে।
সম্ভাব্য সমস্যা
- নির্দিষ্ট রাজনৈতিক দলের লোক নিয়োগ করলে সাম্প্রদায়িকতা ও রাজনৈতিক উত্তেজনা বাড়তে পারে।
- মেধার ভিত্তিতে প্রমোশন না দেওয়া হলে বিভাগের কার্যকারিতা ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।
- জনবিশ্বাস কমলে প্রশাসনিক স্বচ্ছতার ঝুঁকি তৈরি হতে পারে।
প্রস্তাবনা ও সমাধান
- মেধার ভিত্তিতে নিয়োগ: সকল কর্মকর্তাকে স্বচ্ছ ও মেধাভিত্তিকভাবে নিয়োগ করতে হবে।
- পর্যবেক্ষণ প্রোগ্রাম: তত্ত্বাবধায়ক সরকার ও সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোর নজরদারি বাড়াতে হবে।
- রাজনৈতিক ভারসাম্য: ভিন্ন রাজনৈতিক দৃষ্টিভঙ্গির কর্মকর্তাদের সমান সুযোগ দিতে হবে গুরুত্বপূর্ণ পদে।
সারসংক্ষেপ ও আহ্বান
বিএনপি নেতা রুহুল কবির রিজভী এর অভিযোগগুলি রাজনৈতিক নিয়োগ এবং তত্ত্বাবধায়ক সরকারের স্বচ্ছতার ওপর প্রশ্ন তোলে। এই অভিযোগগুলো নির্দেশ করছে যে, কর্মকর্তাদের রাজনৈতিক বিশ্বাসের ভিত্তিতে নিয়োগ করা হলে প্রতিষ্ঠানগুলোর প্রতি বিশ্বাস ও স্বচ্ছতা ক্ষুণ্ণ হতে পারে।
