Advertisement
ভূমিকা
আজকাল হৃদযন্ত্রকে সুস্থ রাখা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। একটি ব্লক বা সংকীর্ণ ধমনী শুধু হৃদপিণ্ডকেই ক্ষতিগ্রস্ত করে না; এটি মস্তিষ্ক এবং অন্যান্য অঙ্গকে রক্ত ও অক্সিজেন পৌঁছাতে বাধা দেয়। এর ফলে স্ট্রোক বা হার্ট অ্যাটাকের ঝুঁকি বেড়ে যায়।
ভারতের খ্যাতনামা হৃদরোগ বিশেষজ্ঞ ডা. সঞ্জয় ভোজরাজ সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে জানিয়েছিলেন যে, প্রতিদিন কিছু সহজ অভ্যাস মেনে চললেই ধমনীর স্বাস্থ্য বজায় রাখা সম্ভব। তিনি বলেছেন:
Advertisement
“এগুলো কোনো চটকদার ধাপ নয়, কিন্তু যদি নিয়মিত অনুসরণ করা হয়, তবে এগুলোই হৃদযন্ত্র এবং আপনার ভবিষ্যতের সেরা সুরক্ষামূলক ব্যবস্থা।”
Advertisement
দুই দশকের অভিজ্ঞতার পর তিনি চারটি মূল অভ্যাসকে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করেছেন।
Advertisement
ধমনীর স্বাস্থ্য রক্ষার চারটি উপায়
১. ওজন উত্তোলন বা স্ট্রেংথ ট্রেনিং
- মাংসপেশি বৃদ্ধি করে রক্তে শর্করার মাত্রা নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করে।
- হৃদপিণ্ডের চাপ কমায় এবং রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে রাখে।
- সপ্তাহে দুই থেকে তিন দিন ওজন বা বডি-ওয়েট এক্সারসাইজ করা বিশেষভাবে কার্যকর।
২. ওমেগা-৩ সমৃদ্ধ খাবার
- নিয়মিত চর্বিযুক্ত মাছ, আখরোট, চিয়া বীজ খাওয়া।
- ধমনীতে প্ল্যাক জমা হওয়া রোধ করে এবং প্রদাহ কমায়।
- গবেষণা দেখিয়েছে যে, ওমেগা-৩ ধমনী ব্লক কমাতে সাহায্য করে।
৩. নিয়মিত ঘুমের রুটিন
- পর্যাপ্ত ঘুম কর্টিসল হরমোনকে নিয়ন্ত্রণে রাখতে সাহায্য করে।
- ধমনীয়ের আস্তরণকে সুরক্ষিত রাখে এবং হৃদযন্ত্রকে সুস্থ রাখে।
- প্রতিদিন ৭–৮ ঘণ্টা ঘুম নেওয়া হৃদরোগের ঝুঁকি কমাতে গুরুত্বপূর্ণ।
৪. স্ট্রেস নিয়ন্ত্রণ
- শ্বাসপ্রশ্বাসের ব্যায়াম, ধ্যান বা প্রতিদিন হাঁটা ধমনীর সুস্থতা বজায় রাখতে সাহায্য করে।
- রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে রাখে এবং স্নায়ুতন্ত্রকে সহায়তা করে।
- মানসিক চাপ কমালে হৃদরোগের ঝুঁকি অনেকাংশে কমানো সম্ভব।
Also Read:সিগারেটের দাম বাড়ছে আর বিড়ির দাম কমছে কেন? বিশেষজ্ঞরা হতবাক সরকারের সিদ্ধান্তে
বিশেষজ্ঞের উপসংহার
ডা. সঞ্জয় ভোজরাজ বলেছেন, সময়মতো প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ এবং স্বাস্থ্যকর অভ্যাস গড়ে তুললে হৃদরোগ ও অন্যান্য জটিলতার ঝুঁকি অনেকাংশে হ্রাস করা সম্ভব।
প্রায়শই জিজ্ঞাসিত প্রশ্ন (FAQs)
প্রশ্ন: ওমেগা-৩ কোন খাবার থেকে নেওয়া উচিত?
উত্তর: আখরোট, চিয়া বীজ, ফ্ল্যাক্সসিড, স্যামন এবং টুনা মাছ ওমেগা-৩-এর ভালো উৎস।
প্রশ্ন: স্ট্রেস কমানোর সহজ উপায় কি?
উত্তর: ধ্যান, শ্বাসপ্রশ্বাসের ব্যায়াম, প্রতিদিন হাঁটা বা হালকা যোগব্যায়াম কার্যকর।
প্রশ্ন: দিনে কতক্ষণ স্ট্রেংথ ট্রেনিং করা উচিত?
উত্তর: সপ্তাহে দুই থেকে তিন দিন, প্রতিবার ২০–৩০ মিনিট পরিমিত ওজন বা বডি-ওয়েট ব্যায়াম করা উচিত।
উপসংহার
হার্ট সুস্থ রাখতে স্ট্রেংথ ট্রেনিং, ওমেগা-৩ সমৃদ্ধ খাবার, পর্যাপ্ত ঘুম এবং স্ট্রেস নিয়ন্ত্রণ খুবই গুরুত্বপূর্ণ। এই চারটি অভ্যাস প্রতিদিন মেনে চললেই হৃদযন্ত্র সুস্থ থাকে এবং ভবিষ্যতে হার্ট অ্যাটাক বা স্ট্রোকের ঝুঁকি কমে।
