Advertisement
ভূমিকা
বাংলাদেশের আসন্ন ১৩তম জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে, ভোটারদের মধ্যে সবচেয়ে আলোচিত বিষয়গুলোর একটি হচ্ছে সংসদীয় আসনের সীমানা নির্ধারণ। নির্বাচন কমিশন (ইসি) ইতিমধ্যেই সব ৩০০ আসনের চূড়ান্ত গেজেট প্রকাশ করেছে। কিছু এলাকায় বিক্ষোভ ও অস্থিরতা সত্ত্বেও, ইসি স্পষ্ট জানিয়েছে যে সীমানা পরিবর্তনের আর কোনো সুযোগ নেই এবং আন্দোলন কোনো ফল দেবে না।
রবিবার (৭ সেপ্টেম্বর) নির্বাচন কমিশনার মো. আনোয়ারুল ইসলাম সরকার নির্বাচন কমিশন অফিসে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে এই বিষয়গুলো ব্যাখ্যা করেছেন।
Advertisement
কেন সীমানা পরিবর্তন সম্ভব নয়
- গেজেট প্রকাশের পর কোনো আদালত বা কর্তৃপক্ষের কাছে অভিযোগ জানানোর আইনি সুযোগ নেই।
- আইন অনুযায়ী, কমিশনের সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত।
- বিক্ষোভ, মিছিল বা প্রতিবাদ সীমানা পরিবর্তন করতে পারবে না।
নির্বাচন কমিশনার বলেছেন:
“আইনের ভাষায়, চেষ্টা করার কোনো লাভ আছে বলে আমি মনে করি না।”
Advertisement
চূড়ান্ত সীমানা নির্ধারণের প্রক্রিয়া
ইসি জানিয়েছে যে সীমানা নির্ধারণে কিছু গুরুত্বপূর্ণ বিষয়কে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে:
Advertisement
- আদমশুমারির তথ্য
- ভোটার সংখ্যা (জুন ২০২৫ পর্যন্ত হালনাগাদ)
- প্রশাসনিক অখণ্ডতা ও ভৌগোলিক অবস্থান
যেখানে ভোটার সংখ্যা বেশি ছিল, সেখানে আসন বিভাজন করা হয়েছে। উদাহরণস্বরূপ, গাজীপুরে আসন বেড়েছে এবং বাগেরহাটে কমেছে।
প্রতিক্রিয়া: অসন্তোষ ও আনন্দ
- ফরিদপুর ও বাগেরহাটে নতুন সীমানা নিয়ে বিক্ষোভ দেখা দিয়েছে।
- অন্যদিকে, গাজীপুরে আনন্দ মিছিল অনুষ্ঠিত হয়েছে।
কমিশন জানিয়েছে যে এগুলো স্থানীয় ও রাজনৈতিক বিষয়, এবং এ সম্পর্কে তাদের কোনো মন্তব্য নেই।
Also Read:সিগারেটের দাম বাড়ছে আর বিড়ির দাম কমছে কেন? বিশেষজ্ঞরা হতবাক সরকারের সিদ্ধান্তে
বিশেষজ্ঞ বিশ্লেষণ: আন্দোলন কি সমাধান করবে?
রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলেন:
- আন্দোলনের মাধ্যমে সীমানা পরিবর্তনের কোনো সুযোগ নেই।
- ইসি শুধুমাত্র প্রশাসনিক ও আইনি কাঠামোর মধ্যে থেকে কাজ করেছে।
- আসনের সীমানা নির্ধারণে স্থানীয় আবেগ বা রাজনৈতিক চাপ নয়, বরং তথ্যভিত্তিক সিদ্ধান্তকে অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে।
স্বাস্থ্যকর গণতন্ত্রে ইসির বার্তা
নির্বাচন কমিশনার জোর দিয়ে বলেছেন:
- সর্বোচ্চ সতর্কতা, নিরপেক্ষতা এবং যৌক্তিকতা অনুসরণ করে কাজ করা হয়েছে।
- শতভাগ নির্ভুলতার চেষ্টা করা হয়েছে।
- ভোটের মাধ্যমে গণতান্ত্রিক অধিকার প্রয়োগ করা, আন্দোলনের চেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ।
সাধারণ ভোটারদের জন্য বার্তা
- আসন্ন নির্বাচন গেজেট অনুযায়ী অনুষ্ঠিত হবে।
- ভোটারদের আন্দোলনের পরিবর্তে সচেতনভাবে ভোটাধিকার প্রয়োগ করা উচিৎ।
- কোনো সমস্যা হলে স্থানীয় রিটার্নিং অফিসারের সঙ্গে যোগাযোগ করতে হবে।
প্রশ্নোত্তর (FAQs)
প্রশ্ন: সীমানা পরিবর্তনের জন্য কি আদালতে যাওয়া যাবে?
উত্তর: না। আইন অনুযায়ী, চূড়ান্ত গেজেট প্রকাশের পর আদালতে চ্যালেঞ্জ করার কোনো সুযোগ নেই।
প্রশ্ন: গাজীপুরে আসন বেড়েছে আর বাগেরহাটে কমেছে কেন?
উত্তর: সিদ্ধান্তটি ভোটার সংখ্যার ভিত্তিতে নেওয়া হয়েছে। গাজীপুরে ভোটার সংখ্যা বেশি, বাগেরহাটে তুলনামূলক কম।
প্রশ্ন: আন্দোলন করলে কি আসনের সীমানা পরিবর্তন হবে?
উত্তর: একেবারেই না। নির্বাচন কমিশন স্পষ্ট জানিয়েছে যে, আইন অনুযায়ী আর কোনো পরিবর্তনের সুযোগ নেই।
উপসংহার
বাংলাদেশের জাতীয় নির্বাচনে সংসদীয় আসনের সীমানা নিয়ে আলোচনা সবসময় সংবেদনশীল বিষয় হয়ে থাকে। তবে এবার নির্বাচন কমিশন পরিষ্কার জানিয়েছে যে, চূড়ান্ত গেজেট প্রকাশের পর সীমানা পরিবর্তনের আর কোনো সুযোগ নেই। আন্দোলনের চেয়ে ভোটে অংশগ্রহণ করে গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়াকে শক্তিশালী করা ভোটারদের জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।
