Saturday, January 3, 2026
Homeখবরঅপারেশন সিঁদুর: অজয় রায়ের মন্তব্যকে ঘিরে বিতর্ক | বিজেপির তীব্র সমালোচনা

অপারেশন সিঁদুর: অজয় রায়ের মন্তব্যকে ঘিরে বিতর্ক | বিজেপির তীব্র সমালোচনা

Advertisement

ভূমিকা

ভারতীয় রাজনীতি আবারও উত্তাল হয়ে উঠেছে উত্তপ্ত মন্তব্য ও অভিযোগ পাল্টা অভিযোগে। কংগ্রেস নেতা অজয় রায় সম্প্রতি “অপারেশন সিঁদুর” নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। তাঁর মতে, সামরিক নেতৃত্বের দেওয়া পরস্পরবিরোধী বিবৃতি ইঙ্গিত করছে যে বিষয়টি যতটা স্বচ্ছ বলে উপস্থাপন করা হয়েছে, বাস্তবে হয়তো ততটা নয়।

অজয় রায়ের এই মন্তব্য প্রকাশ্যে আসতেই বিজেপি কংগ্রেস এবং তাঁর ওপর তীব্র আক্রমণ চালায়। শাসক দল অভিযোগ করে, কংগ্রেস সবসময় ভারতীয় সেনাকে প্রশ্নবিদ্ধ করে এবং প্রায়ই পাকিস্তানমুখী অবস্থান নেয়।

Advertisement

এই ইস্যুটি এখন শুধু রাজনৈতিক মহলেই নয়, সোশ্যাল মিডিয়া ও সাধারণ আলোচনাতেও ব্যাপক বিতর্কের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। এই প্রতিবেদনে আমরা দেখব—অপারেশন সিঁদুর কী ছিল, কংগ্রেস ও বিজেপির বক্তব্য কী, জনতার প্রতিক্রিয়া এবং বিশেষজ্ঞদের মতামত কী—যাতে পাঠকরা একটি পূর্ণাঙ্গ ও ভারসাম্যপূর্ণ ছবি পান।

Advertisement

অপারেশন সিঁদুর কী?

তারিখ: ৭ মে, ২০২৪ সকালে ভারতীয় সেনাবাহিনী এই অভিযান শুরু করে।

Advertisement

পটভূমি: ২২ এপ্রিল, পাহালগাম (পুলওয়ামার কাছে) এলাকায় কাশ্মীরি জঙ্গি সংগঠন টিআরএফ সাধারণ নাগরিকদের ওপর হামলা চালায়, যেখানে ২৬ জন নিহত হন।

টার্গেট: পাকিস্তান ও পাকিস্তান-অধিকৃত কাশ্মীরে জঙ্গি ঘাঁটি।

ফলাফল: সেনা সূত্রে জানা যায়, অন্তত ৯টি জঙ্গি ক্যাম্প ধ্বংস হয়। পরে পাল্টা বিমান হামলায় পাকিস্তানের ১১টিরও বেশি এয়ারবেসে ব্যাপক ক্ষতি হয়।

এটি সার্জিক্যাল স্ট্রাইক এবং বালাকোট এয়ারস্ট্রাইকের পর ভারতের সবচেয়ে বড় প্রতিশোধমূলক অভিযান হিসেবে ধরা হচ্ছে।

অজয় রায়ের বিতর্কিত মন্তব্য

উত্তরপ্রদেশ প্রদেশ কংগ্রেস কমিটির সভাপতি অজয় রায় সাংবাদিকদের বলেন:

“সিডিএস এক কথা বলছেন, আর্মি চিফ অন্য কথা বলছেন, আর এয়ারফোর্স নেতৃত্ব আবার ভিন্ন কথা বলছেন। একই অভিযানের বিষয়ে এত বৈপরীত্য থাকলে স্পষ্ট বোঝা যায় কিছু একটা গোলমাল আছে। সত্যিটা জনগণের সামনে আসা উচিত।”

এটাই প্রথম নয়। বালাকোট এয়ারস্ট্রাইকের পরেও বেশ কয়েকজন কংগ্রেস নেতা সরকার ও সেনার দাবিকে প্রশ্নবিদ্ধ করেছিলেন।

বিজেপির তীব্র প্রতিক্রিয়া

বিজেপি এই মন্তব্যকে “সেনার অপমান” বলে আখ্যা দিয়েছে এবং পাল্টা আক্রমণ চালিয়েছে।

শেহজাদ পুনাওয়ালা (বিজেপি মুখপাত্র):
“কংগ্রেস নেতারা বারবার সেনাকে হেয় করেন। অজয় রায়ের মন্তব্য তারই নতুন উদাহরণ। প্রথমে বলেন, হামলাই হয়নি। তারপর যখন সামরিক আধিকারিকরা ব্যাখ্যা দেন, তখন বলেন বিবৃতিতে বৈপরীত্য আছে। এটা যদি পাকিস্তানের ভাষা না হয়, তবে আর কী?”

তুহিন সিনহা (বিজেপি মুখপাত্র):
“আমাদের সেনারা দেশের জন্য প্রাণপণ লড়াই করেন। অথচ অজয় রায়ের মতো নেতারা তাঁদের ত্যাগকে প্রশ্নবিদ্ধ করেন। এটাই সেই মানসিকতা যা সম পিত্রোদা ও রাহুল গান্ধীও দেখিয়েছেন। এটা দেশবিরোধী রাজনীতি।”

বিজেপির অভিযোগ, কংগ্রেস ইচ্ছাকৃতভাবেই পাকিস্তানকে খুশি করার জন্য এধরনের বক্তব্য দেয় এবং সেনাবাহিনীর ওপর জনগণের আস্থা দুর্বল করে।

রাজনীতি ও সেনা: সূক্ষ্ম ভারসাম্য

ভারতে প্রতিটি বড় সামরিক অভিযান রাজনৈতিক বিতর্কের জন্ম দেয়। একদিকে জনমত সবসময় সেনার পাশে থাকে, অন্যদিকে বিরোধী দল স্বচ্ছতা ও প্রমাণ দাবি করে।

  • কংগ্রেসের অবস্থান: সরকারকে প্রতিটি পদক্ষেপের বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করতে হবে, যাতে সন্দেহের অবকাশ না থাকে।
  • বিজেপির প্রতিক্রিয়া: জাতীয় নিরাপত্তার বিষয় খোলাখুলি জনসমক্ষে আলোচনা করা যায় না। বেশি তথ্য প্রকাশ করলে শত্রুপক্ষই লাভবান হয়।

Also read:টুইঙ্কল খান্না ও ঋষি কাপুর বিতর্ক: “অবৈধ সন্তান” গুজব ও অভিনেত্রীর জবাব

বিশেষজ্ঞদের মতামত

লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) প্রভীন বক্সি (প্রতিরক্ষা বিশ্লেষক):
“অপারেশন সিঁদুর ছিল বড়সড় অভিযান। তবে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের ভাষা বা ফ্রেমিং আলাদা হতে পারে, কিন্তু তা দিয়ে পুরো অপারেশনকেই প্রশ্নবিদ্ধ করা যায় না।”

প্রফেসর আনন্দ কুমার (রাজনৈতিক বিশ্লেষক):
“কংগ্রেসের সমস্যা হলো—সরকারকে আক্রমণ করতে গিয়ে অনিচ্ছাকৃতভাবে তারা সামরিক অভিযানের ওপরই প্রশ্ন তোলে। বিজেপি সেটাই কাজে লাগায়। তবে গণতন্ত্রে বিরোধী দলেরও প্রশ্ন তোলার অধিকার আছে।”

জনতার প্রতিক্রিয়া

সোশ্যাল মিডিয়া তর্ক-বিতর্কে উত্তাল:

  • বিজেপি সমর্থকরা অজয় রায়কে “রাহুল গান্ধীর সহযোগী” এবং “পাকিস্তানপন্থী” বলে আক্রমণ করছেন।
  • কংগ্রেস সমর্থকদের যুক্তি—যদি এত বড়সড় অভিযান হয়ে থাকে, তবে সরকার কেন পরিষ্কার রিপোর্ট প্রকাশ করতে দ্বিধা করছে?
  • নিরপেক্ষদের মতে, জাতীয় নিরাপত্তার মতো সংবেদনশীল বিষয়ে রাজনীতিকদের খুব সাবধানী হওয়া উচিত।

অপারেশন সিঁদুর ও আঞ্চলিক প্রভাব

এই অভিযানের ফলে:

  • পাকিস্তানের ওপর আন্তর্জাতিক চাপ বেড়েছে যাতে তারা জঙ্গিদের আশ্রয় দেওয়া বন্ধ করে।
  • কাশ্মীরি জঙ্গি সংগঠনগুলো বড় ধাক্কা খেয়েছে।
  • ভারত অঞ্চলে সামরিক আধিপত্যের শক্ত বার্তা দিয়েছে।

কেন বারবার এধরনের প্রশ্ন ওঠে?

  • রাজনৈতিক লাভ: বিরোধী দল এধরনের প্রশ্ন তুলে সরকারকে চাপে ফেলে।
  • স্বচ্ছতার অভাব: সরকার যথেষ্ট তথ্য প্রকাশ না করলে সন্দেহ তৈরি হয়।
  • মিডিয়ার ভূমিকা: বিভিন্ন টিভি চ্যানেল ও বিশ্লেষকদের পরস্পরবিরোধী দাবি সাধারণ মানুষকে বিভ্রান্ত করে।

কংগ্রেস কি সত্যিই “পাকিস্তানপন্থী”?

বিজেপি প্রায়শই কংগ্রেসকে পাকিস্তানকে খুশি করার অভিযোগ তোলে। কংগ্রেসের দাবি, তারা কেবল “সত্য ও স্বচ্ছতার” পক্ষে কথা বলে।

এ নিয়ে দোষারোপের রাজনীতি এখন ভারতীয় রাজনীতির স্থায়ী রীতি হয়ে গেছে। প্রায় প্রতিটি নির্বাচনের আগে সামরিক অভিযান, জাতীয় নিরাপত্তা এবং পাকিস্তান আলোচনার কেন্দ্রে উঠে আসে।

সাধারণ প্রশ্নোত্তর (FAQs)

প্রশ্ন ১: অপারেশন সিঁদুর কবে এবং কেন চালানো হয়?
উত্তর: ৭ মে, ২০২৪—পুলওয়ামার হামলার প্রতিশোধ হিসেবে।

প্রশ্ন ২: অজয় রায় কী বলেছেন?
উত্তর: তিনি সামরিক নেতৃত্বের পরস্পরবিরোধী বক্তব্য তুলে ধরে বলেন “কিছু একটা গলদ আছে।”

প্রশ্ন ৩: বিজেপি কেন আপত্তি তুলেছে?
উত্তর: বিজেপির মতে, এটা সেনার অপমান এবং পাকিস্তানের ভাষার প্রতিধ্বনি।

প্রশ্ন ৪: জনতার প্রতিক্রিয়া কী?
উত্তর: সোশ্যাল মিডিয়া দ্বিধাবিভক্ত—কেউ অজয় রায়কে সমর্থন করছে, কেউ সেনার পাশে দৃঢ়ভাবে দাঁড়াচ্ছে।

উপসংহার

অজয় রায়ের মন্তব্য আবারও ভারতীয় রাজনীতিকে উত্তপ্ত করেছে। একদিকে সেনার বীরত্বের পাশে দাঁড়ানো জনতা, অন্যদিকে স্বচ্ছতার দাবি তোলা বিরোধীরা।
মূল প্রশ্ন হলো: জাতীয় নিরাপত্তার মতো বিষয়কে কি রাজনৈতিক অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করা উচিত? নাকি সব দলকে একসঙ্গে সেনার পাশে দাঁড়ানো উচিত?

সম্পর্কিত প্রবন্ধ

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

সবচেয়ে বেশি পঠিত