Advertisement
ভূমিকা: যে সাক্ষাৎ বদলে দিল ভাগ্য
বলিউডের ঝলমলে দুনিয়ায় নজরে আসা সহজ নয়। অনেক অভিনেত্রী বছরের পর বছর পরিশ্রম করেও সুযোগ পান না। কিন্তু সাহের বাম্বার গল্প আলাদা। এটি ধৈর্য, পরিশ্রম এবং এক সোনালি সুযোগের গল্প।
বলিউড সুপারস্টার শাহরুখ খানের ছেলে আরিয়ান খানই তাকে সেই সুযোগটি দেন।
আরিয়ানের প্রথম ওয়েব সিরিজ দ্য বাজ অব বলিউড মুক্তির পর সাহেরের জীবনই বদলে যায়। যিনি একসময় মুম্বাইয়ের এক হোস্টেলে আটজন মেয়ের সঙ্গে রুম শেয়ার করতেন, তিনি এখন ওটিটি দুনিয়ার আলোচিত মুখ।
Advertisement
শুরুর জীবন ও স্বপ্নের শুরু
সাহের বাম্বা ১৯৯৯ সালে হিমাচল প্রদেশের শিমলায় জন্মগ্রহণ করেন। ছোটবেলা থেকেই বলিউডে কাজ করার স্বপ্ন দেখতেন।
স্কুল শেষ করে কলেজের পড়াশোনার জন্য মুম্বাই চলে আসেন, যা তার জীবনের মোড় ঘুরিয়ে দেয়।
Advertisement
সাহের বলেন, “আমি সবসময় অভিনেত্রী হতে চেয়েছি, কিন্তু মুম্বাই এসে বুঝেছি স্বপ্ন পূরণে সাহস, ধৈর্য ও ত্যাগের প্রয়োজন।”
Advertisement
পড়াশোনা ও প্রাথমিক সংগ্রাম
সাহের মুম্বাইয়ের একটি স্বনামধন্য কলেজে পড়াশোনা করেন এবং সাংবাদিকতায় মাস্টার্স ডিগ্রি অর্জন করেন।
পড়াশোনার পাশাপাশি অডিশন দিতে থাকলেও সাফল্য আসছিল না।
তিনি মেয়েদের হোস্টেলে থাকতেন, প্রতিদিন লোকাল ট্রেনে অডিশনে যেতেন। অর্থনৈতিক ও মানসিক চাপ থাকা সত্ত্বেও তিনি হাল ছাড়েননি।
এই কঠিন বছরগুলোই তার ভবিষ্যৎ গড়ে দেয়।
২০১৬: বিউটি পেজেন্টে বিজয়
২০১৬ সালে সাহের একটি সৌন্দর্য প্রতিযোগিতায় বিজয়ী হন। এরপর বিজ্ঞাপন ও ব্র্যান্ড প্রচারণায় কাজ শুরু করেন।
তবুও বড় সুযোগ হাতছাড়া হচ্ছিল একের পর এক। একসময় তিনি অভিনয় ছেড়ে দেওয়ার কথাও ভেবেছিলেন।
প্রথম ছবি পল পল দিল কে পাশ
অবশেষে ২০১৯ সালে সুযোগ আসে। সানি দেওলের ছেলে করণ দেওলের বিপরীতে পল পল দিল কে পাশ ছবিতে অভিনয় করেন।
ছবিটি দৃষ্টিনন্দন হলেও বক্স অফিসে তেমন সাফল্য পায়নি।
সাহের বলেন, “ছবিটি না চলায় মনে হয়েছিল সব পরিশ্রম বৃথা গেল।”
Also read:যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ইসরায়েলে পৌঁছেছেন শান্তি সম্মেলনে যোগ দিতে
দুই বছরের বিরতি
ছবির পর প্রস্তাব কমে যায়। তিনি বলেন, “কিছু অফার পেয়েছিলাম, কিন্তু কোনোটিই সঠিক মনে হয়নি। তাই অপেক্ষা করেছি।”
প্রায় দুই বছর আড়ালে থাকার পর ২০২১ সালে তিনি ওটিটি প্ল্যাটফর্মে ফিরে আসেন।
২০২১: দ্য এম্পায়ার ও দিল বেকারার
এই দুই ওয়েব সিরিজে তার অভিনয় প্রশংসিত হয়, তবে বড় সুযোগ তখনও অধরা ছিল।
২০২২: সংগীত ভিডিও ও সংগ্রাম
২০২২ সালে ইমরান হাশমির সঙ্গে একটি সংগীত ভিডিওতে কাজ করেন। গানটি জনপ্রিয় হলেও তার ক্যারিয়ারে বড় প্রভাব ফেলেনি।
২০২৪: দ্য মিরান্ডা ব্রাদার্স
২০২৪ সালে দ্য মিরান্ডা ব্রাদার্স ছবিতে সহ-অভিনেত্রী হিসেবে দেখা যায় তাকে। ছবিটি মিশ্র প্রতিক্রিয়া পেলেও সাহেরের পারফরম্যান্স নজর কাড়ে।
ভাগ্যের মোড়: আরিয়ান খানের প্রকল্প
ঠিক সেই সময় আরিয়ান খান শুরু করেন তার প্রথম ওয়েব সিরিজ দ্য বাজ অব বলিউড।
এই সিরিজেই সাহের বাম্বা নায়িকা হিসেবে অভিনয় করেন।
সিরিজটি মুক্তির পরই ব্যাপক সাফল্য পায় এবং সমালোচকদের প্রশংসা কুড়ায়।
দর্শকরা তার অভিনয়কে “স্বতঃস্ফূর্ত ও প্রাণবন্ত” বলে অভিহিত করেন।
সাহের বলেন, “আমি সবসময় বড় কোনো প্রজেক্টে প্রধান চরিত্রে কাজ করতে চেয়েছিলাম। আরিয়ান খান আমার ওপর ভরসা রেখেছিলেন, সেটাই আমার জীবনের মোড় ঘুরিয়ে দেয়।”
আরিয়ান বলেন, “সাহেরের মধ্যে এমন এক ঝলক আছে যা ক্যামেরার সামনে নিজেই আলোকিত হয়।”
জনসাধারণ ও সমালোচকদের প্রতিক্রিয়া
| প্রতিক্রিয়া | মন্তব্য |
|---|---|
| ভক্তদের প্রতিক্রিয়া | “অবশেষে সত্যিকারের প্রতিভাবান নতুন মুখ।” “সে অনেক দূর যাবে।” |
| সমালোচকদের মত | “চরিত্রে প্রাণ সঞ্চার করেছে সাহের।” |
ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা
সাহের এখনও আনুষ্ঠানিকভাবে পরবর্তী প্রজেক্ট ঘোষণা করেননি, তবে সূত্র অনুযায়ী তিনি দুইটি বড় প্রোডাকশন হাউসের সঙ্গে আলোচনায় আছেন।
সবকিছু ঠিক থাকলে শিগগিরই বড় বলিউড ছবিতে তাকে দেখা যেতে পারে।
উপসংহার
সাহের বাম্বার গল্প প্রমাণ করে সঠিক সুযোগ, পরিশ্রম ও ধৈর্য ভাগ্য বদলে দিতে পারে।
আরিয়ান খানের ওয়েব সিরিজ শুধু তার ক্যারিয়ার পুনর্জীবিত করেনি, বরং তাকে দর্শকের হৃদয়ে নতুন পরিচয় দিয়েছে।
এটি এক উদীয়মান তারকার যাত্রা, যিনি এখন বলিউডের উজ্জ্বল ভবিষ্যতের প্রতীক।
